Pages

Powered by Blogger.
1ST SEMESTER SUGGESTION 2 ND YEAR SUGGESTION 2ND SEMESTER 3RD SEMESTER BENGALI NOTES CU suggestion. EDUCATION NOTES ENGLISH COMPULSORY GBU Suggestion. HISTORY EUROPE & WORLD HISTORY NOTES POL SC NOTES SOCIOLOGY NOTES WBCS 2020

NANDAN DUTTA

A new approach for exam notes .

বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন : সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 

বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন কাকে বলে ? বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের বৈশিষ্ট। 




বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন :- 


বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের ধারণার আত্মপ্রকাশ ঘটে ম্যাক্স ওয়েবারের সমাজ - দর্শনের সূত্র ধরে। যেসকল সামাজিক সংগঠন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে কৃত্রিমভাবে তৈরী হয় তাদের বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন বলে। বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন সর্বদা পূর্বপরিকল্পনাভিত্তিক। বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলিতে সাধারণ উদ্দেশ্যের পরিবর্তে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই জাতীয় সংগঠনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক হল গৌণ অর্থাৎ বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আবর্তিত হয় শুধুমাত্র উদ্দেশ্য ও চাহিদার ভিত্তিতে। 

বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের বৈশিষ্ট :- 


১. উৎপত্তিগতভাবে কৃত্রিম :- 
প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন মানুষের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা প্রয়োজন পূরণের তাগিদে কৃত্রিমভাবে জন্ম নেয়। মানুষ সচেতনভাবে বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির জন্ম দেয়। মানব সমাজের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত এমন একটিও বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের উদাহরণ পাওয়া যাবেনা যার উৎপত্তি কৃত্রিমভাবে হয়নি। 

২. পূর্বপরিকল্পিত :-
প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন মানুষের পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে জন্ম গ্রহণ করে। মানুষ তার নিজের এবং সমাজের প্রয়োজন পূরণের জন্য নির্দিষ্ট সামাজিক সংগঠনের তাগিদ অনুভব করে। তারপর সম্পূর্ণ একটি নতুন বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের জন্ম দেয় পূর্বপরিকল্পনার ভিত্তিতে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. সদস্যপদ :- 
প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের সদস্যপদ ঐচ্ছিক ; অর্থাৎ সদস্যপদ গ্রহণ করা বা না করা সম্পূর্ণ ব্যক্তির ইচ্ছাধীন হয়ে থাকে। ব্যক্তি তার প্রয়োজন এবং চাহিদা অনুসারে এক বা একাধিক বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ করে। তাছাড়া , সদস্যপদ বর্জন করাটাও ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। অন্যদিকে বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলিও তার সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল করতে পারে। 

৪. উদ্দেশ্য :- 
বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলি সাধারণ উদ্দেশ্যের পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়। যেমন , বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় শিক্ষার প্রসারের উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে , ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয় মানুষকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা প্রদানের জন্য। বিদ্যালয়ের পক্ষে মানুষকে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেওয়া সম্ভব নয় ; আবার , ব্যাঙ্কের পক্ষে শিক্ষা প্রসারের কাজ করা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনের উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট। 

৫. সাংগঠনিক দিক :- 
প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন পরিচালনার জন্য একটি সংগঠনের প্রয়োজন হয়। বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলি তার সংগঠনের মাধ্যমে তার সদস্যদের চাহিদা পূরণ করে এবং নিজ উদ্দেশ্য সফল করে। সংগঠনগুলি বিভিন্ন স্তরবিশিষ্ট হয় এবং প্রতিটি স্তরের নির্দিষ্ট ভূমিকা থাকে। বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির সফলতা নির্ভর করে সংগঠনের প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট ভূমিকা যথাযথভাবে পালনের উপর। 

৬. কর্তৃত্ব :-
বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির প্রতিটি স্তরে নির্দিষ্ট কর্তৃত্বের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্দিষ্ট কর্তৃত্ব তার নির্দিষ্ট দায়িত্বের জন্য দায়বদ্ধ থাকেন। নির্দিষ্ট কর্তৃত্ব তার নির্দিষ্ট দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করলে বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির উদ্দেশ্য সফল হতে পারেনা। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. পরিচালনার নিয়ম - নীতি :- 
প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট নিয়ম - নীতির ভিত্তিতে। এই নিয়ম নীতি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির কর্তৃত্ব তথা পরিচালক এবং সাধারণ সদস্য উভয়ের উপর প্রযুক্ত হয়। কোনো একপক্ষ যথাযথভাবে নিয়মবিধি পালন না করলে তাকে দায়িত্ব বা সদস্যপদ ত্যাগ করতে হয়।  যেমন ব্যাঙ্ক , বিদ্যালয় - ইত্যাদি সংগঠনগুলি কঠোরভাবে নিজেস্ব নিয়ম নীতিকে অনুসরণ করে পরিচালিত হয়। 

৮. সংগঠন ও সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক :-
বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির সঙ্গে তার সদস্যদের সম্পর্ক গৌণ প্রকৃতির। এক্ষেত্রে সম্পর্ক শুধুমাত্র কাজ , চাহিদা , কর্তব্য , উদ্দেশ্যপূরণ - ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। যেমন একজন ব্যাঙ্ক কর্মীর সঙ্গে একজন উপভোক্তার সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে গৌণ। এই জাতীয় সম্পর্ক হল চুক্তিনির্ভর ও পরোক্ষ প্রকৃতির। 

৯. বাস্তব প্রয়োজন ভিত্তিক :- 
প্রতিটি বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন মানুষের বাস্তব প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়। প্রতিটি সমাজে মানুষের প্রয়োজন ও চাহিদা বহুমুখী ; যেমন - শিক্ষা , চিকিৎসা , ব্যাঙ্কিং পরিষেবা , পৌর পরিষেবা , আইন - শৃঙ্খলা রক্ষা - ইত্যাদি। এই বহুমুখী চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যেই বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির জন্ম হয়। মানব সমাজে এমন একটিও বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন পাওয়া যাবেনা যার সঙ্গে মানুষের বাস্তৱ প্রয়োজনের কোনো সম্পর্ক নেই। 

১০. স্থায়িত্ব :- 
বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির সময়কাল ও স্থায়িত্ব নির্ভর করে তার উদ্দেশ্য ও কার্যক্ষেত্রের উপর। যেসকল বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে বলবৎ থাকে তাদের স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয়। যেমন - শিক্ষা , চিকিৎসা , ব্যাঙ্কিং পরিষেবা , পৌর পরিষেবা , আইন - শৃঙ্খলা রক্ষা - ইত্যাদি বিষয়গুলির প্রয়োজনীয়তা সর্বদা বর্তমান ; তাই এই জাতীয় বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলির স্থায়িত্ব দীর্ঘ হয়।      

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো           
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সমাজ ও জনসম্প্রদায়ের পার্থক্য।  

সমাজ ও জনসম্প্রদায়ের তুলনামূলক আলোচনা।  




সমাজ ও জনসম্প্রদায়ের পার্থক্য। 


১. সমাজ হল একটি বিমূর্ত বিষয়। অর্থাৎ , পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে সমাজকে অনুভব করা যায়না এবং তার কোনো নির্দিষ্ট পার্থিব রূপ নেই। 
কিন্তু জনসম্প্রদায় হল একটি মূর্ত প্রতিষ্ঠান। জনসম্প্রদায়ের প্রায় প্রতিটি উপাদানকে নির্দিষ্টরূপে অনুভব করা যায়। 

২. সমাজ হল ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের জাল। সমাজস্থ প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার সম্পর্কে আবদ্ধ। 
অন্যদিকে জনসম্প্রদায় হল একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী জনগণ। এই জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা জনসম্প্রদায় হিসাবে বিবেচিত হবেন। 

৩. সমাজ একটি ব্যাপক ধারণা। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই সমাজের কোনো নির্দিষ্ট সীমা কল্পনা করাও সম্ভব নয়। 
অপর দিকে জনসম্প্রদায়ের একটি সীমাবদ্ধ পরিসর আছে এবং সমাজের তুলনায় জনসম্প্রদায়ের পরিধি অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৪. নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলকে সমাজের উপাদান হিসাবে বিবেচনা করা হয়না। সমাজের ধারণাটি অনেক ব্যাপক যা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। 
কিন্তু , নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল জনসম্প্রদায়ের একটি অপরিহার্য উপাদান। জনসম্প্রদায় গড়ে উঠতে গেলে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল থাকতেই হবে। 

৫. সমাজ সর্বদা স্বয়ংসম্পূর্ণ। সমাজের মধ্যে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গ তাদের যাবতীয় প্রয়োজন সমাজের মধ্যেই পূরণ করতে পারে। 
পক্ষান্তরে , জনসম্প্রদায়ের স্বয়ংসম্পূর্ণতার বিষয়টি আপেক্ষিক। জনসম্প্রদায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। 

৬. সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে অভিন্নতা ও বিভিন্নতা উভয়ই বর্তমান। রাজনীতি , অর্থনীতি , সমাজনীতি , সংস্কৃতি - ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই ভিন্ন ভিন্ন মতবাদ লক্ষ্য করা যায়। 
কিন্তু অভিন্নতা হল জনসম্প্রদায়ের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট। জনসম্প্রদায়ের মধ্যে ভাষা , রীতিনীতি , সংস্কৃতি , মূল্যবোধ - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে অভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। 

৭. সমাজের ক্ষেত্রে '' আমরা বোধ '' বা We feeling বিষয়টি থাকতেও পারে আবার না'ও থাকতে পারে। আসলে সমাজ একটি বৃহত্তর বিষয়। এর মধ্যে এই ধরণের সমাজবোধ তৈরী হওয়া সাধারণত সম্ভব হয়না। 
কিন্তু , জনসম্প্রদায়গত মানসিকতা জনসম্প্রদায়ের একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট। এই ঐক্যবোধ বা জনসম্প্রদায়গত মানসিকতা না থাকলে জনসম্প্রদায়ের অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে পড়ে।

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সমাজ কাকে বলে ? সমাজের বৈশিষ্টগুলি লেখ। 

সমাজের সংজ্ঞা দাও। সমাজের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 




সমাজের ধারণা / সংজ্ঞা :- 


চার্লস হর্টন কুলি সমাজকে একটি জটিল প্রক্রিয়া বলেছেন। তাঁর মতে , সমাজে অবস্থানকারী প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান একে - অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে। 

মরিস জিনসবার্গ বলেছেন - সমাজে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী , প্রতিষ্ঠান - ইত্যাদির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। তাদের মধ্যে যে সহযোগিতামূলক ও প্রতিযোগিতামূলক , সংগঠিত ও অসংগঠিত , সচেতন ও অসচেতন , প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ - সম্পর্ক দেখা যায় - তার সমষ্টিই হল সমাজ। 

ম্যাকাইভার ও পেজ সমাজকে সামাজিক সম্পর্কের এক জটিল জাল বলেছেন। এছাড়াও তিনি সমাজকে সদা পরিবর্তনশীল বলেছেন। 

আরনল্ড গ্রীন সমাজকে একটি বৃহত্তর গোষ্ঠী হিসাবে অভিহিত করেছেন। এই বৃহত্তর গোষ্ঠীর মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি , ব্যক্তিগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান অবস্থান করে। 

সুতরাং সমাজ হল - মানুষের একটি সাংগঠনিক প্রকাশ যা ব্যাপক ও সার্বজনীন। সমাজের গঠন এবং বিবর্তন একটি জটিল প্রক্রিয়া। সমাজের মধ্যেই সকল প্রকার মানুষ একে - অপরের সঙ্গে ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়া করে ও ভাবের আদান - প্রদান করে। সমাজ একটি স্থায়ী জনসংগঠন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

সমাজের বৈশিষ্ট :- 


১. অভিন্নতা :- 
সমাজে অবস্থানকারী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে সম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। সমাজে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের চাহিদার বৈচিত্রের মধ্যে একটি সাধারণ সম্পর্কের সূত্র আছে। যেমন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের প্রয়োজন - শিক্ষা , খাদ্য , বস্ত্র , বাসস্থান , চিকিৎসা পরিষেবা - ইত্যাদি। সকল সমাজেই উক্ত ব্যবস্থাগুলি লক্ষ্য করা যায় - তা সেই সমাজ অপর সমাজ থেকে যতই ভিন্ন হোক না কেন। 

২. বিভিন্নতা :- 
অভিন্নতা স্বত্বেও সমাজের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বিভিন্নতা বর্তমান। যেমন নারী ও পুরুষের মধ্যে বিভিন্নতা , সমাজের বিভিন্ন মানুষের ক্ষমতা ও স্বার্থের বিভিন্নতা , শাসক ও শাসিতের মধ্যে বিভিন্নতা - ইত্যাদি। এই বিভিন্নতা বা বৈসাদৃশ্য সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করতে একান্ত অপরিহার্য। বিভিন্নতা মানুষের সামগ্রিক প্রয়োজন পূরণের জন্য কার্যকরী। 

৩. পারস্পরিক নির্ভরশীলতা :- 
সমাজে অবস্থানকারী প্রতিটি ব্যক্তি , ব্যক্তিগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান একে - অপরের উপর নির্ভরশীল। মানুষের চাহিদা বহুবিধ ও বৈচিত্রপূর্ণ। তাই সমাজের সকলকে পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল থাকতে হয়। যেমন - একজন কৃষক খাদ্যের ব্যাপারে আত্মনির্ভরশীল হলেও - চিকিৎসা , শিক্ষা , বস্ত্র - ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অপরের উপর নির্ভরশীল। 

৪. বিমূর্ততা :- 
সমাজের জৈব আকৃতি বলতে কিছু নেই। তাই অধ্যাপক গিডিংস সমাজকে একটি মনস্তাত্ত্বিক ধারণা বলে অভিহিত করেছেন। সমাজের অস্তিত্বকে আমরা উপলব্ধি করতে পারি মাত্র। 

৫. সর্বব্যাপী :- 
সমাজ একটি সর্বব্যাপী প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর প্রতিটি অংশে , যেখানে মানুষ বসবাস করে - সেখানেই সমাজের অস্তিত্ব বর্তমান। সমাজ বহির্ভুত ব্যক্তির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়না। তাই পৃথিবীর সর্বত্র সমাজের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। 

৬. সুপ্রাচীন - ব্যবস্থা :- 
সমাজ কখনোই হঠাৎ করে জন্ম নেয়নি। মানব সভ্যতার সূচনাকাল থেকেই সমাজের অস্তিত্ব বর্তমান। প্রাচীন , আদিম যুগে যখন ভাষা , লিপি - ইত্যাদি কিছুই প্রচলিত হয়নি - তখনও সমাজের অস্তিত্ব ছিল। তাই সমাজ একটি সুপ্রাচীন ব্যবস্থা। 

৭. গতিশীলতা :- 
সমাজ একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। কোনো সমাজই একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে নিজেকে আবদ্ধ রাখেনা। নির্দিষ্ট প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণের তাগিদে সমাজ সর্বদা গতিশীল। যেমন আদিম সমাজ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে বিবর্তনের বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নীত করেছে। প্রাগৈতিহাসিক সমাজ থেকে পুরাতন প্রস্তর যুগ , তারপর নব্য প্রস্তর যুগ , তারপর ধীরে ধীরে আধুনিক যুগে উত্তরণ। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৮. মিথস্ক্রিয়া :- 
সমাজে অবস্থানকারী প্রতিটি ব্যক্তি , গোষ্ঠী , প্রতিষ্ঠান একে - অপরের সঙ্গে ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়া সংগঠিত করে। এই ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দিয়েই মানুষের বহুবিধ চাহিদা পূরণ হয়। 

৯. দলবদ্ধতা :- 
সমাজে অবস্থানকারী ব্যক্তিবর্গের মধ্যে দলবদ্ধতার চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। মানুষ সর্বদাই দলবদ্ধ প্রাণী , সে কখনো একা বেঁচে থাকতে পারেনা। তাই সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে একত্রে বসবাসের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। 

১০. শ্রমবিভাজন :- 
প্রতিটি সমাজের মধ্যে শ্রমবিভাজন লক্ষ্য করা যায়। শ্রমবিভাজন সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গের সামগ্রিক প্রয়োজন পূরণ করে। বিভিন্ন ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন কর্মে লিপ্ত থাকার কারণে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন প্রয়োজনগুলি পূরণ হয়। 

১১. সামাজিক রীতিনীতি :- 
প্রতিটি সমাজে সামাজিক রীতিনীতির অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি সমাজে বিভিন্ন সামাজিক প্রথা , লোকাচার , লোকনীতি থাকে। এগুলির মাধ্যমে সমাজে একটি নির্দিষ্ট আইনবিধি তৈরী হয় এবং এই আইনবিধি দ্বারা সমাজ পরিচালিত হয়। 

১২. সামাজিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি :- 
সামাজিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মানুষের একটি প্রধান বৈশিষ্ট। তাই , প্রতিটি সমাজে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি অবস্থান করে। মানুষ এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক এবং সংরক্ষক। 

১৩. কর্তৃত্ব :- 
প্রতিটি সমাজ পরিচালিত করতে নির্দিষ্ট কর্তৃত্বের প্রয়োজন। প্রতিটি সমাজ পরিচালনার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কর্তৃত্বমূলক ব্যক্তি বা সংস্থার অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। তবে ভিন্ন ভিন্ন সমাজে কর্তৃত্বের প্রকৃতি ও চরিত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন রাজতান্ত্রিক সমাজে সকল প্রকার কর্তৃত্ব ছিল রাজা ও তার কর্মচারীদের হাতে ; আবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল প্রকার কর্তৃত্ব নিহিত থাকে সাধারণ মানুষের হাতে। 

১৪. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অবস্থিতি :- 
প্রতিটি সমাজে বিভিন্ন ধরণের প্রতিষ্ঠানের অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। সমাজ পরিচালনা করতে ও সমাজকে সচল রাখতে সমাজে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। শিক্ষা , স্বাস্থ্য পরিষেবা , পৌর পরিষেবা , আইন - শৃঙ্খলা রক্ষা , খাদ্য ও পণ্যের উৎপাদন ও বন্টন - ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান সমাজকে সচল রাখে ও মানুষের বহুবিধ প্রয়োজন পূরণ করে।     

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো    
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সংঘ কাকে বলে ? সংঘের বৈশিষ্টগুলি লেখ। 

সংঘের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 

Definition and features of Association.




সংঘের ধারণা / সংজ্ঞা। 


জিসবার্ট বলেছেন - মানুষ নির্দিষ্ট কিছু উদ্দেশ্য পূরণের তাগিদে সমবেত হয়। এই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে সমবেত জনসমষ্টিকে বলা হয় সংঘ। 

ম্যাকাইভার ও পেজ সংঘ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের উপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাঁর মতে , সংঘ গড়ে ওঠে জনগণের দ্বারা এবং স্বেচ্ছায়। 

এছাড়া , মরিস জিনসবার্গও সংঘ গড়ে ওঠার পেছনে মানুষের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। 

সুতরাং বলা যেতে পারে , সংঘ হল মানুষের দ্বারা তৈরী হওয়া এক প্রকার সংগঠন যা বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণের তাগিদে গঠিত হয়। 

সংঘের বৈশিষ্ট : - 


১. উদ্দেশ্যভিত্তিক :- 
প্রতিটি সংঘ গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে। সমজাতীয় উদ্দেশ্যযুক্ত ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিত হয়ে সংঘের জন্ম দেয়। সদস্যদের আচার - আচরণ , সংঘের লক্ষ্য ও কর্মসূচি , সংঘের নিজস্ব বিধি - ব্যবস্থা - সবকিছুই সেই নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়। 

২. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম :- 
সংঘগুলি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। প্রতিটি সংঘের নিজস্ব নিয়ম - বিধি থাকে। সেই নির্দিষ্ট নিয়ম - বিধি দ্বারা তার সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘের নিয়মগুলি কোনো ক্ষেত্রে লিখিত আকারে থাকে আবার কোনো ক্ষেত্রে অলিখিত আকারে থাকে। সংঘের প্রতিটি সদস্যকে সেই সকল নিয়ম - বিধি মেনে চলতে হয়। এইভাবে সংঘ সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. সংঘ একপ্রকার জনগোষ্ঠী :- 
সমজাতীয় উদ্দেশ্যযুক্ত মানুষ সম্মিলিত হয়ে সংঘের জন্ম দেয়। যেহেতু মানুষ সংগঠিত হয়ে সংঘের জন্ম দেয় , সেহেতু সংঘকে জনগোষ্ঠী বলা যেতে পারে। তবে সকল জনগোষ্ঠীকেই সংঘ বলা যাবেনা। কেননা , জনগোষ্ঠী হতে গেলে যে বিশেষ ধরণের বৈশিষ্ট থাকা উচিত তা সংঘের নেই। তবে বলা যেতে পারে , সকল সংঘই একপ্রকার জনগোষ্ঠী। 

৪. সদস্যপদ :- 
সংঘের সদস্যপদ ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। ব্যক্তি ইচ্ছা করলে কোনো সংঘের সদস্য হতেও পারে , আবার না'ও পারে। আবার কোনো ব্যক্তি একই সঙ্গে একাধিক সংঘের সদস্য হতে পারে। আবার সদস্যপদ ত্যাগ করাও ব্যক্তির ইচ্ছাধীন। 

৫. কৃত্রিম ও পরিকল্পিত  :- 
সংঘ মানুষের দ্বারা কৃত্রিমভাবে তৈরী হয়। মানুষ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে কৃত্রিমভাবে সংঘের জন্ম দেয়। সংঘের জন্ম হয় নির্দিষ্ট পরিকল্পনার ভিত্তিতে। নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যযুক্ত হয়ে মানুষ পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংঘের জন্ম দেয়। 

৬. স্থায়িত্ব :- 
সংঘগুলির স্থায়িত্ব নির্ভর করে সংঘের উদ্দেশ্যের উপর। উদ্দেশ্যের উপর ভিত্তি করে সংঘগুলি দীর্ঘস্থায়ী বা ক্ষণস্থায়ী উভয়ই হতে পারে। যেমন , করোনা অতিমারীর সময় বহু প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে মানবকল্যাণের স্বার্থে। কিন্তু মহামারীর প্রভাব কালক্রমে কমে এলে সেই সকল সংঘগুলির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যায়।  

৭. আঞ্চলিক বিস্তার :- 
সংঘ নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক হতে পারে , আবার না'ও পারে। কোনো কোনো সংঘের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অঞ্চল একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট হিসাবে বিবেচিত হয়। যেমন - নির্দিষ্ট কোনো পাড়ার ক্লাব। আবার কোনো কোনো সংঘের ক্ষেত্রে ভৌগোলিক অঞ্চল বিষয়টি অর্থহীন। যেমন - রোটারী ক্লাব , লায়ন্স ক্লাব , রেড ক্রস - এই সকল সংঘের বিস্তার সারা বিশ্বজুড়ে। 

৮. আইনগত ভিত্তি :- 
বেশিরভাগ সংঘের আইনগত ভিত্তি থাকে। এর অর্থ হল আইনের দৃষ্টিতে সংঘের কর্তব্য , দায়বদ্ধতা , স্বীকৃতি , অধিকার - ইত্যাদি সবকিছুই আছে। অন্যভাবে বলা যায় , সংঘের আইনগত ভিত্তি থাকার জন্য এর বিরুদ্ধে মামলা করা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৯. নির্দিষ্ট - নিয়ম বিধি :- 
প্রতিটি সংঘের নিজেস্ব নিয়ম বিধি থাকে। সংঘের প্রতিটি সদস্য সেই সকল নিয়ম বিধিগুলি মেনে চলতে বাধ্য থাকে। এই নিয়ম বিধিগুলি অমান্য করলে সংঘের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়। 

১০. স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় :- 
সমাজের কোনো সংঘই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই সংঘগুলি অন্যান্য সংঘের সাথে বা সমাজের সাথে পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল। সংঘকে তার উদ্দেশ্য পূরণ করতে অন্যান্য সংঘ বা প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করতে হয়। 

১১. দায়বদ্ধতা :- 
প্রতিটি সংঘ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গঠিত হয়। এই উদ্দেশ্য পূরণ করতে গিয়ে সংঘকে তার সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হয়। সদস্যদের প্রতি এই দায়বদ্ধতা সংঘের সদস্যদের সংঘের প্রতি দায়বদ্ধ করে তোলে। অর্থাৎ সংঘের যেমন সদস্যদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে , তেমনই সদস্যরাও সংঘের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। 

১২. পারস্পরিক সহযোগিতা :- 
যেহেতু সমজাতীয় উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে মানুষ সংগঠিত হয়ে সংঘের জন্ম দেয় , তাই সেই উদ্দেশ্য পূরণের তাগিদে সংঘের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক  মনোভাব লক্ষ্য করা যায়। সদস্যদের এই পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব সংঘের উদ্দেশ্য পূরণ করতে অপরিহার্য।

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো   
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

জনসম্প্রদায় কাকে বলে ? জনসম্প্রদায়ের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

জনসম্প্রদায়ের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 

Definition and features of Community. 




জনসম্প্রদায়ের ধারণা / সংজ্ঞা :- 


মানুষ সামাজিক জীব। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সামাজিকভাবে দলবদ্ধভাবে বসবাস করতে করতে সেইসকল মানুষের মধ্যে এক গভীর ঐক্যবোধ , সমজাতীয় মানসিকতা গড়ে ওঠে। এইভাবে তাদের মধ্যে জীবন ধারণ , চিন্তাজগৎ , সংস্কৃতি - ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক সামাজিক সম্পর্ক তৈরী হয়। সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলে গড়ে ওঠা মানবসমাজকেই জনসম্প্রদায় (Community) বলা হয়। 

চার্লস হর্টন কুলি জনসম্প্রদায়কে স্থায়ী সামাজিক গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। এই সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যেই মানুষ তার সকল প্রকার প্রয়োজন পূরণ করে। 

কিংসলে ডেভিস জনসম্প্রদায়কে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আঞ্চলিক গোষ্ঠী বলে অভিহিত করেছেন। এই গোষ্ঠীর সকল সদস্য জনসম্প্রদায়ের মাধ্যমেই তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করে। 

ম্যাকাইভার বলেছেন , জনসম্প্রদায় হল এমন এক সামাজিক গোষ্ঠী যার মধ্যে বসবাসকারী সকল সদস্য সমজাতীয় বৈশিষ্টপূর্ণ জীবনযাত্রা করে ও একে - অপরের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক স্থাপন করে। 

সুতরাং বলা যায় , জনসম্প্রদায় হল একটি সামাজিক গোষ্ঠী , যার মধ্যে বসবাসকারী সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে , সমজাতীয় আদর্শ ও সংস্কৃতি ধারণ ও বহন করে , তাদের মধ্যে এক গভীর '' আমরা বোধ '' তৈরী হয় - তাকেই জনসম্প্রদায় বলা হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

জনসম্প্রদায়ের বৈশিষ্ট :- 


জনসম্প্রদায়ের বিভিন্ন বৈশিষ্টগুলি হল নিম্নরূপ - 

১. নির্দিষ্ট এলাকা :- 
জনসম্প্রদায়ের একটি আবশ্যিক শর্ত হল নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকা। একটি নির্দিষ্ট জনসম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসবাস করে। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বহুকাল ধরে বসবাস করতে করতে সদস্যদের মধ্যে এক গভীর ঐক্যবোধ গড়ে ওঠে। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাসকারী জনসম্প্রদায়ের মধ্যে পোশাক - পরিচ্ছদ , খাদ্যাভ্যাস , সংস্কৃতি , শিক্ষা , জীবনযাত্রা , অর্থনতিক কর্মকান্ড , রাজনৈতিক জীবন - ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমজাতীয় ও একই আদর্শযুক্ত সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। তবে এর ব্যাতিক্রমও আছে। যেমন - যাযাবর শ্রেণীর মানুষদের জনসম্প্রদায় বলা হলেও তারা সর্বদা একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বসবাস করে না। 

২. আমরা বোধ (We Feeling ) :- 
প্রতিটি মানুষ একটি নির্দিষ্ট জনসম্প্রদায়ের সদস্য হিসাবে সমাজে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করে। সমাজের প্রতিটি মানুষ , প্রতিটি গোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠান পারস্পরিকভাবে ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়াশীল এবং পরস্পর পরস্পরের উপর নির্ভরশীল। এই নির্দিষ্ট সামাজিক ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে এক গভীর আত্মীয়তা গড়ে ওঠে। একে বলা হয় আমরা - বোধ। সদস্যদের আমরা বোধ জনসম্প্রদায়ের প্রধান ভিত্তি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. উদ্দেশ্য :- 
জনসম্প্রদায় কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে ওঠেনা। এর উদ্দেশ্য বহুবিধ ও বহুমুখী। যেহেতু জনসম্প্রদায়ের সকল সদস্য জনসম্প্রদায়ের মধ্যেই তাদের সকল প্রয়োজন পূরণ করে - তাই জনসম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য বহুমুখী। 

৪. স্বাভাবিক সামাজিক সংগঠন :- 
নির্দিষ্ট প্রয়োজনের ভিত্তিতে কৃত্রিমভাবে জনসম্প্রদায়ের জন্ম হয়না। জনসম্প্রদায়ের জন্ম হয় স্বাভাবিকভাবে। একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বহুকাল ধরে মানব জাতির বসবাসের ফলে স্বাভাবিকভাবেই একটি জনসম্প্রদায় গড়ে ওঠে।         

৫. পরিকল্পিত নয় :- 
মানুষ জনসম্প্রদায়ের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে ; কিন্তু পরিকল্পিতভাবে জনসম্প্রদায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। বাস্তবে মানুষের পক্ষে জনসম্প্রদায় গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় মানুষ একসঙ্গে বসবাস করতে করতে পরিকল্পনাহীনভাবেই জনসম্প্রদায় গড়ে ওঠে। 

৬. সদস্যদের জীবনধারণের সাদৃশ্যতা :- 
জনসম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে জীবনধারণের মধ্যে বহুক্ষেত্রে সাদৃশ্যতা লক্ষ্য করা যায়। জনসম্প্রদায়ের সকল সদস্য মোটামুটি একই ধরণের জীবনযাত্রা , আদর্শ , জীবনবোধ - ইত্যাদির অংশীদার হয়ে থাকে। এই সাদৃশ্যতা জনসম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে এক গভীর ঐক্যবোধ গড়ে ওঠে। 

৭. আইনগত প্রেক্ষিত :-
জনসম্প্রদায়ের কোনো আইনগত ভিত্তি থাকেনা। অর্থাৎ জনসম্প্রদায়ের মধ্যে বসবাসকারী ব্যক্তিবর্গ জনসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করতে পারেনা। তাই আইনের দৃষ্টিতে জনসম্প্রদায়ের কোনো স্বীকৃতি , অধিকার , কর্তব্য , দায়িত্ব - ইত্যাদি নেই। 

৮. পরিধি :-
জনসম্প্রদায় ছোট , বড় - উভয় প্রকারেই হতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে জনসম্প্রদায়ের পরিধি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। আবার একটি বড় জনসম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকগুলি ছোট ছোট জনসম্প্রদায়ের অস্তিত্বও লক্ষ্য করা যায়। যেমন একটি জেলার জনসম্প্রদায়ের মধ্যে অনেকগুলি গ্রামের জনসমষ্টি অন্তর্ভুক্ত থাকে। 

৯. নাম ও পরিচয় :- 
প্রতিটি জনসম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট নাম ও পরিচয় থাকে। এই নাম দ্বারাই ব্যক্তিবর্গ নির্দিষ্ট জনসম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়। আবার জনসম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট নামের ভিত্তিতেই ব্যক্তির পরিচয় , অবস্থান - ইত্যাদি সহজেই বোধগম্য হয়ে ওঠে। 

১০. স্থায়ী প্রকৃতি :- 
জনসম্প্রদায়গুলি মোটামুটি দীর্ঘস্থায়ী। স্থায়িত্ব জনসম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট। একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে বহুদিন ধরে বসবাসকারী মানুষের বসবাস একটি জনসম্প্রদায় গড়ে তোলে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

জনসম্প্রদায় ও সংঘের পার্থক্য। 

সংঘ ও জনসম্প্রদায়ের পার্থক্য। 

জনসম্প্রদায় ও সংঘের তুলনামূলক আলোচনা। 

Difference between Community and Association 




জনসম্প্রদায় ও সংঘের পার্থক্য :- 


১. পরিধিগত ক্ষেত্রে : - 
জনসম্প্রদায়ের আকৃতি ও পরিধি তুলনামূলকভাবে বড়। একটি জনসম্প্রদায়ের মধ্যে একাধিক সংঘের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। অন্যদিকে , সংঘ হল জনসম্প্রদায়ের অন্তর্গত একটি অংশ এবং এর পরিধি জনসম্প্রদায়ের তুলনায় অনেকটা ছোট। 

২. সদস্যপদের ক্ষেত্রে :-
জন্মগত সূত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি একটি জনসম্প্রদায়ের সদস্য হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তির ইচ্ছা - অনিচ্ছার কোনো ভূমিকা থাকেনা। কিন্তু সংঘের সদস্যপদ সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তির ইচ্ছা - অনিচ্ছার উপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি স্বাধীনভাবে , নিজের ইচ্ছা অনুসারে সংঘের সদস্যপদ গ্রহণ করতে পারে আবার না'ও পারে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসীমা :- 
জনসম্প্রদায়ের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসীমা থাকে। নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসীমা জনসম্প্রদায়ের একটি অন্যতম শর্ত হিসাবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সংঘের নির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিসীমা থাকেনা। যেমন - রেড ক্রস সোসাইটির অবস্থান সারা বিশ্বজুড়ে দেখা যায়। 

৪. গঠনগত দিক দিয়ে :- 
গঠনগত দিক দিয়ে জনসম্প্রদায় একটি স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান। পক্ষান্তরে কৃত্রিমভাবে সংঘের জন্ম হয়। 

৫. উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে :- 
জনসম্প্রদায় কোনো উদ্দেশ্যের পরিপেক্ষিতে গঠিত হয়না। এর উদ্দেশ্য বহুবিধ ও ব্যাপক। মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যের সমষ্টি হল জনসম্প্রদায়। মানুষ তার জীবনধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যগুলি জনসম্প্রদায় থেকেই পূরণ করে। অন্যদিকে , সংঘ গড়ে ওঠে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে। মানুষ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে কৃত্রিমভাবে সংঘ প্রতিষ্ঠা করে। 

৬. আইনগত ভিত্তি :- 
জনসম্প্রদায়ের কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকেনা। কিন্তু সংঘের আইনগত ভিত্তি থাকে। 

৭. স্থায়িত্বের দিক দিয়ে :- 
স্থায়িত্বের দিক দিয়ে জনসম্প্রদায় সংঘের তুলনায় অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী। যেহেতু সংঘগুলি মানুষের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের উদ্দেশ্যে কৃত্রিমভাবে গঠিত হয় , তাই এই প্রয়োজনগুলি পূরণ হয়ে গেলেই সংঘের অবলুপ্তি ঘটে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় , করোনা অতিমারীর সময় বহু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গড়ে উঠেছিল ; কিন্তু বর্তমানে করোনার প্রকোপ কমে যাওয়াতে সেই সকল সংস্থাগুলির প্রয়োজন ফুরিয়েছে। 

৮. নিয়ম বিধির দিক দিয়ে :- 
জনসম্প্রদায়ের নির্দিষ্ট কোনো লিখিত নিয়ম বিধি থাকেনা। জনসম্প্রদায়গুলি পরিচালিত হয় স্বাভাবিক নিয়ম , প্রথা , ঐতিহ্য , লোকাচার - ইত্যাদির মাধ্যমে। কিন্তু প্রতিটি সংঘের নির্দিষ্ট লিখিত নিয়ম বিধি থাকে। এই নিয়ম বিধি দ্বারা সংঘ তার সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

৯. স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিক দিয়ে :- 
জনসম্প্রদায়গুলি সংঘের তুলনায় অনেক বেশি স্বয়ংসম্পূর্ণ। জনসম্প্রদায়গুলি মোটামুটি স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সদস্যদের চাহিদা পূরণ করে থাকে। কিন্তু সংঘগুলি কোনোভাবেই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। উদ্দেশ্যপূরণের জন্য প্রতিটি সংঘ পরস্পরের উপর নির্ভরশীল ও পক্ষান্তরে জনসম্প্রদায়ের উপর নির্ভরশীল। 

১০. সদস্যসংখ্যা ও অর্থনৈতিক বিষয় :-  
জনসম্প্রদায়ের সদস্যসংখ্যা সংঘের তুলনায় অনেক বেশি হয়। সংঘের ক্ষেত্রে সদস্যপদ গ্রহণ , সদস্যপদ পুনর্নবীকরণ , বিভিন্ন ফি বা চাঁদা - ইত্যাদি বিষয় জড়িত থাকে। তবে , জনসম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে উক্ত বিষয়গুলির কোনো অস্তিত্ত্ব থাকেনা। জনসম্প্রদায়ের সদস্যপদ স্বাভাবিক ও বংশগতভাবে তার ধারা প্রবাহিত হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো    
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সামাজিক সংগঠন কাকে বলে ? সামাজিক সংগঠনের বৈশিষ্টগুলি লেখ। 

সামাজিক সংগঠনের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 




সামাজিক সংগঠনের ধারণা / সংজ্ঞা :- 


সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গ সকলেই নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য একে - অপরের উপর নির্ভরশীল এই প্রয়োজনগুলি বিবিধ ও বহুমুখী। প্রয়োজনগুলি মূলতঃ তিন প্রকার - জৈবিক , মানসিক ও সামাজিক। এই প্রয়োজনগুলি পূরণের উদ্দেশ্যে মানুষ সামাজিক সংগঠন তৈরী করে। সামাজিক সংগঠনগুলি মানুষের এইসকল প্রয়োজন পূরণ করে। এই সামাজিক সংগঠনগুলি মানুষ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত্রিমভাবে সামাজিক সংগঠনগুলি তৈরী করে। 

চার্লস হর্টন কুলি বলেছেন , মানুষের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়ার ফলাফল হিসাবে সামাজিক সংগঠনের জন্ম হয় এবং সামাজিক সংগঠনগুলি পারস্পরিক ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে থাকে। 

জনসন বলেছেন , সমাজস্থ ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বর্তমান এবং তাদের চাহিদা বহুমুখী। এই বহুমুখী চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্যে সামাজিক আন্তঃক্রিয়ার ফল হিসাবে সামাজিক সংগঠনের জন্ম হয়। 

অগাস্ট কোঁত বলেছেন , মানুষ তার নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য পূরণের তাগিদে '' সাধারণ সামাজিক চুক্তি '' দ্বারা সামাজিক সংগঠনগুলির জন্ম দেয়। 

এমিল ডুরখেইম বলেছেন , সামাজিক সংগঠনগুলি নীতি ও মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। 

সমাজতাত্ত্বিকগণ প্রদত্ত সংজ্ঞা থেকে একথা বলা যায় যে , সামাজিক সংগঠনগুলি মানুষের প্রয়োজন পূরণের তাগিদে কৃত্রিমভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সামাজিক সংগঠনগুলি রাজনৈতিক , সামাজিক , অর্থনৈতিক , শিক্ষামূলক , ধর্মীয় - ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। সামাজিক সংগঠনের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হল - বিদ্যালয় , ব্যাংক , মন্দির - মসজিদ - ইত্যাদি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

সামাজিক সংগঠনের বৈশিষ্ট :- 


১. নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকেন্দ্রিক :- 
প্রতিটি সামাজিক সংগঠন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই গঠিত হয়। মানুষের নির্দিষ্ট প্রয়োজন পূরণ করাই হল সামাজিক সংগঠনগুলির প্রধান উদ্দেশ্য। সামাজিক সংগঠনগুলি মানুষের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারলে তার অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে পরে। 

২. সদস্যদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতা :- 
সামাজিক সংগঠনগুলিতে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সামাজিক সংগঠনগুলি তার উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে সফল হয়। সদস্যদের সহযোগিতা ব্যতীত সামাজিক সংগঠন অচল হয়ে পড়ে। 

৩. ঐক্যমত :- 
সামাজিক সংগঠনের সদস্যদের ঐক্যমত্যতা সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করে। ঐক্যমত্যতার ভিত্তিতেই সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার তাগিদে সহযোগী হিসাবে ভূমিকা পালন করে। 

৪. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম :- 
সামাজিক সংগঠনগুলি সমাজ নিয়ন্ত্রনের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের কিছু নির্দিষ্ট রীতিনীতি ও নিয়ম থাকে। এই সকল রীতিনীতি ও নিয়ম সমাজের ব্যক্তিবর্গের উপর প্রযুক্ত হয়। এইভাবে সামাজিক সংগঠনগুলি সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হয়ে ওঠে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি :- 
প্রতিটি সামাজিক সংগঠন পরিচালিত হয় নির্দিষ্ট কর্ম - পদ্ধতি দ্বারা। সংগঠনের সদস্য ও সাধারণ মানুষ সকলেই নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমেই তাদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করে। সামাজিক সংগঠনগুলির কর্ম পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রথাগত কর্ম পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করাকে অবৈধ বলে মনে করা হয়। 

৬. সংখ্যা :- 
সকল সমাজে এক ধরণের সামাজিক সংগঠন একই সংখ্যায় থাকেনা ; স্থান - কালভেদে সামাজিক সংগঠনগুলির সংখ্যার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন ভারতের মত জনবহুল দেশে বিদ্যালয়ের সংখ্যা আর নাউরু , ঘানা - ইত্যাদি ক্ষুদ্র দেশগুলিতে বিদ্যালয়ের সংখ্যা কখনো এক হতে পারেনা। 

৭. মর্যাদাগত পার্থক্য :- 
সমাজে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক সংগঠন থাকে। কিন্তু কর্মপরিধি , সংস্কৃতি , কাজের ধরণ - ইত্যাদির পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক সংগঠনগুলির মর্যাদার ক্ষেত্রে তারতম্য ঘটে। যেমন , রামকৃষ্ণ মিশনের সামাজিক মর্যাদা ও একটি ছোট্ট এলাকার উন্নয়ন সমিতির মধ্যে মর্যাদার বিস্তর পার্থক্য আছে ; যদিও উভয়ের উদ্দেশ্যই এক। 

৮. শ্রম - বিভাজন :- 
সমাজে অবস্থিত সকল সামাজিক সংগঠন এক প্রকারের হয়না। ভিন্ন ভিন্ন ধরণের সামাজিক সংগঠন ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে গঠিত হয়। এর ফলেই সামাজিক সংগঠনগুলির মধ্যে শ্রম বিভাজনের ধারণাটি সুস্পষ্টরূপে ফুটে ওঠে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৯. প্রকৃতি :- 
প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের কাজের ধরণ তার প্রকৃতি নির্ধারণ করে। যেমন রেডক্রস সোসাইটির মূল কাজ হল রক্তদান শিবির আয়োজন করা ও সমাজে রক্তের অভাব পূরণ করা ; অর্থাৎ রেডক্রস সোসাইটি হল একটি জনস্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন। আবার বিদ্যালয়ের মূল কাজ হল সাক্ষরতার প্রসার ঘটানো , তাই বিদ্যালয়গুলি হল শিক্ষামূলক সামাজিক সংগঠন। 

১০. প্রকারভেদ :- 
সামাজিক সংগঠনগুলি প্রকৃতিগত দিক দিয়ে দুই প্রকারের হয়ে থাকে ; যথা - বিধিবদ্ধ ও অবিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন। যেসকল সামাজিক সংগঠনগুলি সাধারণ উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরী হয়না ; নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে কৃত্রিমভাবে তৈরী হয় - সেগুলিকে বলে বিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠন। যেমন , বিদ্যালয়। 
আবার , অবিধিবদ্ধ সামাজিক সংগঠনগুলি হল সাধারণ উদ্দেশ্যযুক্ত এবং এগুলি স্বাভাবিকভাবে সৃষ্টি হয়। যেমন - বন্ধুত্বের সম্পর্ক , একজন ব্যক্তির সঙ্গে অপর ব্যক্তির সাধারণ মানবিক সম্পর্ক - ইত্যাদি। 

১১. বিশ্বজনীন :- 
সামাজিক সংগঠনগুলি বিশ্বজনীন। বিশ্বের প্রতিটি সমাজেই সামাজিক সংগঠনের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে মানুষ নিজ উদ্দেশ্যগুলিকে পূরণ করে। তাই প্রতিটি সমাজে সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। 

১২. পরিবর্তনশীল :- 
সামাজিক সংগঠনগুলি চরিত্র , প্রকৃতি ও কর্মপদ্ধতি পরিবর্তনশীল। যেমন , গত কয়েক দশকে বৈবাহিক সংগঠনের চরিত্রের ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়গুলিতে পঠন - পাঠন পদ্ধতি বিগত দশকের তুলনায় অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। 

পরিশেষে বলা যায় , সমাজে সামাজিক সংগঠনের উপস্থিতি ছাড়া সমাজ অচল হয়ে পড়বে , মানুষের উদ্দেশ্য ও চাহিদাগুলি পূরণ হবেনা। সামাজিক সংগঠনগুলিই সমাজকে সচল রাখে এবং সামাজিক বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
         
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সংস্কৃতির সংজ্ঞা দাও। সংস্কৃতির বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

সংস্কৃতির সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 

সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানগুলি সম্পর্কে আলোচনা কর। 




সংস্কৃতির সংজ্ঞা / সংস্কৃতির ধারণা :- 


সংস্কৃত শব্দটির ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ Colere থেকে ; এর অর্থ কর্ষণ করা। একজন শিশু ছোটবেলা থেকে যা কিছু শেখে তার প্রায় সবকিছুই রপ্ত করে। এরপর অনুশীলনের দ্বারা শিশু সেই অভিজ্ঞতাকে আচার - আচরণের অঙ্গ করে তোলে। তাই সংকীর্ণ অর্থে সংস্কৃতি হল অভিজ্ঞতালাভ ও অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত্ব করা বিষয়। 
আবার জার্মান ভাষায় সংস্কৃতি অর্থে Kultur শব্দটি ব্যবহার করা হত। এর অর্থ সুন্দর যাত্রা , ঘর , সাহিত্য ও অন্যান্য ভালো উপাদান। এটি হল সংস্কৃতির ব্যাপক অর্থ। এই অর্থে মানুষের জীবনের সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। 

ই বি টেলর বলেছেন , সমাজের সদস্য হিসাবে প্রতিটি মানুষ সমাজ থেকে জ্ঞান , বিশ্বাস , শিল্পকলা , নৈতিকতা , রীতিনীতি , আইন ও প্রথা , লোকাচার - লোকনীতি - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়গুলি সম্পর্কে অবহিত হয় ও অভিজ্ঞতালাভ করে। এই সকল উপাদানের জটিল সমষ্টি হল সংস্কৃতি। 

ম্যাথু আরনল্ড বলেছেন , সংস্কৃতি হল পরিপূর্ণতা। মানব সমাজের সামগ্রিক দিক সংস্কৃতির মাধ্যমেই পরিচালিত ও আবর্তিত হয়।  

ম্যালিনস্কি বলেছেন , সংস্কৃতি হল মানুষের উদ্দেশ্য পূরণের একটি মাধ্যম। 

ম্যাকাইভার বলেছেন , আমরা যা , তা'ই হল সংস্কৃতি। 

লিনটন বলেছেন , সংস্কৃতি হল আচার - আচরণের সমষ্টি। 

উপরোক্ত বক্তব্যগুলিকে বিশ্লেষণ করলে বলা যায় , সংস্কৃতি এমন একটি বিষয় যা মানুষ সমাজ থেকে আয়ত্ত্ব করে , যা ব্যক্তিগত নয় - সর্বজনীন এবং যা মানুষের শিক্ষা - দীক্ষা , আচার - ব্যবহার , রীতিনীতি , প্রথা , লোকাচার , আনন্দ - উৎসব , সাধারণ জীবনযাত্রা - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়র পরিচয় বহন করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

সংস্কৃতির বৈশিষ্ট / সংস্কৃতির উপাদান :- 


১. মানুষের প্রয়োজনভিত্তিক :- সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানগুলি মানুষের প্রয়োজনে রচিত হয়। যেসকল উপাদান মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়না , সেগুলি সাংস্কৃতিক উপাদানরূপে বিবেচিত হয়না। মানুষ নির্দিষ্ট অভাবের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট উপাদানগুলোকে সংস্কৃতির উপাদান হিসাবে গ্রহণ করে। 

২. বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান :- সংস্কৃতির উপাদানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় - বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদান। বিদ্যালয় , অফিস , মন্দির - ইত্যাদি হল বস্তুগত উপাদান। অন্যদিকে অবস্তুগত উপাদানগুলি হল মানসিক। অবস্তুগত উপাদানগুলির মধ্যে প্রধান হল - আদর্শ , নীতি , মূল্যবোধ , ধারণা , কল্পনা - ইত্যাদি। 

৩. ভিন্ন ভিন্ন সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতা :- বর্তমান পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন সমাজে সাংস্কৃতিক ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি সমাজের ধর্মবিশ্বাস , রীতিনীতি , আদর্শ - ইত্যাদি ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতির হয়। তাই ভিন্ন ভিন্ন সমাজে সংস্কৃতির স্বতন্ত্রতা লক্ষ্য করা যায়। 

৪. সংস্কৃতিগত প্রলক্ষণ :- প্রতিটি মানব সমাজে কিছু সংস্কৃতিগত প্রলক্ষণ থাকে। মানুষের নিজেদের প্রয়োজন পূরণের উদ্দেশ্যে এই প্রলক্ষণগুলি গড়ে ওঠে। যেমন খাদ্যের প্রয়োজনে রন্ধন প্রক্রিয়া , বিচারের প্রয়োজনে বিচারের প্রক্রিয়া - ইত্যাদি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. জন্মগত নয় :- সংস্কৃতি কখনোই ব্যক্তির জন্মগত নয় ; এটি শিক্ষা ও অনুশীলনের দ্বারা ব্যক্তি রপ্ত করে। একটি শিশু সমাজে জন্মানোর পর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কৃতির উপাদানগুলোকে অভ্যাসে পরিণত করে। 

৬. সংস্কৃতি একটি সামাজিক বিষয় :- সংস্কৃতি বিষয়টি সামাজিক ; ব্যক্তিগত নয়। একজন মানুষ সামাজিক পরিবেশের মধ্যেই সংস্কৃতির উপাদানগুলোকে আয়ত্ত্ব করে ও অনুশীলনের মাধ্যমে সেগুলিকে নিজের আচার আচরণের অংশ করে তোলে। 

৭. পরিবর্তনশীল :- সংস্কৃতি দেশ ও কাল ভেদে পরিবর্তনশীল। সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতিরও বিবর্তন ঘটে। মানুষ প্রয়োজনীয় উপাদান বা বিষয়গুলোকে গ্রহণ করে ও অপ্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকে বর্জন করে। আবার প্রয়োজনে নতুন নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান সৃষ্টি করে। তাই সংস্কৃতি পরিবর্তনশীল। 

৮. প্রবহমান :- সংস্কৃতি একটি প্রবহমান বিষয় এবং তা প্রজন্ম হতে প্রজন্ম প্রবাহিত হতে থাকে। সংস্কৃতির বিষয়গুলি কখনোই স্থির নয়। 

৯. বিশ্বাস ও মনোভাব :- বিশ্বাস ও মনোভাব হল সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সমাজে বসবাসকারী সকল মানুষ সামাজিক উপাদানগুলির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটায় এবং এই মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই ব্যক্তিবর্গের সামাজিক বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস ও নির্দিষ্ট মনোভাব তৈরী হয়। 

১০. নীতি ও মূল্যবোধের সহাবস্থান :- মানুষের সাংস্কৃতিক জীবনে নীতি ও মূল্যবোধের পারস্পরিক সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়। নীতি ও মূল্যবোধ সংস্কৃতির ভিত্তি রচনা করে। আদর্শ জীবন ও সমাজ গঠনের লক্ষ্যে মানুষ সমাজে প্রচলিত নীতি ও মূল্যবোধগুলোকে অনুসরণ করে এবং এর মধ্যে দিয়েই সংস্কৃতি সংরক্ষিত হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১১. প্রতীক ও সংকেত :- কোনো - কোনো সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদানগুলোকে প্রতীক বা সংকেত দ্বারা উপস্থাপনের রীতি প্রচলিত আছে। এছাড়াও কোনো বস্তুর অবস্থান বোঝাতে , বিশেষ কোনো নির্দেশ বোঝাতে - প্রতীক বা সংকেত ব্যবহার করা হয়। এই প্রতীক বা সংকেতগুলি সামাজিক আদান - প্রদান ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হয় এবং মূল্যবোধের উপস্থাপক হিসাবেও কাজ করে। 

১২. সামাজিকীকরণ :- সংস্কৃতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল সামাজিকীকরণ। মানুষ সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সংস্কৃতির উপাদানগুলির সঙ্গে পরিচিত হয় ও তাদের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটায়। প্রচলিত সংস্কৃতিকে এক প্রজন্ম থেকে অপর প্রজন্মে সঞ্চারিত করে সামাজিকীকরণ। 

১৩. নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য :- প্রতিটি সাংস্কৃতিক উপাদানের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বর্তমান। উদ্দেশ্যবিহীন সাংস্কৃতিক উপাদান মানুষ বর্জন করে। যেসকল উপাদান মানুষের প্রয়োজন পূরণ করে ; কেবলমাত্র সেই সকল উপাদানগুলিই সাংস্কৃতিক উপাদান হিসাবে গৃহীত হয়। 

১৪. অতিযান্ত্রিক বিষয় : - হার্বার্ট স্পেনসার সংস্কৃতিকে একটি অতিআঙ্গিক ও অতিযান্ত্রিক বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। কোনো একটি বস্তুগত উপাদানকে ভাবগত উপাদানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যেমন , কোনো দেশের জাতীয় সংগীত শুধুমাত্র একটি গান বা সংগীত নয় ; তার সঙ্গে জড়িত থাকে আবেগ , জাতীয়তাবোধ , দেশপ্রেম - ইত্যাদি। 

১৫. সমাজ নিয়ন্ত্রণ :- সামাজিক নিয়ন্ত্রণের একটি অপরিহার্য উপাদান হল সংস্কৃতি। সমাজে প্রচলিত সংস্কৃতি মানুষের বিচারবুদ্ধিকে প্রভাবিত করে এবং আচার - আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিক নিয়ন্ত্রক হিসাবে ভূমিকা পালন করে। 

১৬. সংস্কৃতি একটি অবিধিবদ্ধ বিষয় :- সাধারণতঃ সাংস্কৃতিক বিষয়গুলির কোনো লিখিত ভিত্তি থাকেনা। তবে সমাজে প্রচলিত সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টের মধ্যে কিছু কিছু বিধিবদ্ধ আইনে সংযুক্ত করা হলেও সংস্কৃতির বেশিরভাগ উপাদানগুলি হল প্রথা ভিত্তিক। তাই সংস্কৃতি একটি অবিধিবদ্ধ বিষয়। 

১৭. সংস্কৃতি একটি অন্তঃসম্পর্কিত বিষয় :- প্রথা , লোকাচার , লোকনীতি , রীতিনীতি , আদর্শ - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ের সম্মিলিত রূপ হল সংস্কৃতি। আবার উক্ত বিষয়গুলি সংস্কৃতির মাধ্যমেই পারস্পরিক সংযোগ রক্ষা করে। 

১৮. অভিযোজনের সহায়ক :- সংস্কৃতি ব্যক্তিমানবের অভিযোজনের সহায়ক হিসাবে কাজ করে। মানুষ সমাজে জন্মগ্রহণ করে এবং সংস্কৃতির মাধ্যমেই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে এবং সংস্কৃতির উপাদানগুলি ব্যক্তিবর্গের অভিযোজনের সহায়ক হয়ে ওঠে। 

পরিশেষে বলা যায় , ব্যপক অর্থে সংস্কৃতি প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার যথার্থই বলেছেন - আমরা যা , তা'ই আমাদের সংস্কৃতি। সংস্কৃতি সমাজের একপ্রকার বাহ্যিক প্রকাশ এবং কোনো একটি সমাজে সংস্কৃতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তা ঐতিহ্যে পরিণত হয়।     

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো                      

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সামাজিকীকরণের বিভিন্ন মাধ্যমগুলি সম্পর্কে লেখ। 

সামাজিকীকরণের বিভিন্ন উপাদান। 




সামাজিকীকরণের মাধ্যম :- 


সামাজিকীকরণ হল একটি বহুউপাদানবিশিষ্ট প্রক্রিয়া। সমাজতাত্ত্বিক কিংসলে ডেভিস সামাজিকীকরণের মাধমগুলিকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন - কর্তৃত্বমূলক ও অকর্তৃত্বমূলক। সামাজিকীকরণের কর্তৃত্বমূলক মাধ্যমগুলি হল সেইসকল মাধ্যম যেগুলি ব্যক্তি বা শিশুর উপর কর্তৃত্ব আরোপ করে ; যেমন - বাবা - মা , শিক্ষক , রাষ্ট্র - ইত্যাদি। অন্যদিকে অকর্তৃত্বমূলক মাধ্যমগুলি হল সেইসকল মাধ্যম যেগুলি শিশুর উপর কর্তৃত্ব আরোপ করেনা ; যেমন - বন্ধুগোষ্ঠী , গণমাধ্যম - ইত্যাদি। 
সামাজিকীকরণের বিভিন্ন মাধ্যমগুলি নিম্নরূপ - 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১. পরিবার :- 
সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলির মধ্যে পরিবারকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমরূপে বিবেচিত করা হয়। প্রতিটি শিশু জন্মগ্রহণের পর থেকে তার পরিবারের মধ্যেই বেড়ে ওঠে। সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তর পার্থক্য থাকলেও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়টি সাধারণতঃ সকল পরিবারে একই ধরণের হয়ে থাকে। শিশুর প্রথম শিক্ষা শুরু হয় তার মায়ের কাছ থেকে এবং তারপর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে। সামাজিক নিয়ম - কানুন , রীতিনীতি ,আদব - কায়দা , প্রথা - এই সমস্তকিছুর শিক্ষা শিশু পায় তার পরিবারের কাছ থেকেই। সেই কারণেই পরিবারকে সামাজিকীকরণের প্রধান ও প্রাথমিক মাধ্যম বলা হয়ে থাকে। 

২. শিক্ষা - প্রতিষ্ঠান :- 
শিক্ষা - প্রতিষ্ঠান হল সামাজিকীকরণের একটি বিধিবদ্ধ মাধ্যম। প্রাথমিক পর্যায়ে পারিবারিক শিক্ষার পর একজন শিশু বিদ্যালয় জীবনে প্রবেশ করে। বিদ্যালয় জীবনে শিশু বিধিবদ্ধভাবে সামাজিকীকরণের বিষয়টিকে আয়ত্ত করে। বিদ্যালয় সামগ্রিক সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ। তাই একজন শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যালয় জীবনে শিশুর সামাজিকীকরণ ঘটে পাঠক্রম ও সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীকে কেন্দ্র করে। শৃঙ্খলাবদ্ধতা , নিয়মানুবর্তিতা , শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধার মনোভাব , নেতৃত্ব প্রদানের ক্ষমতা , পাঠের প্রতি মনোযোগী হওয়া , প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা - ইত্যাদি সামাজিক বিষয়গুলির সঙ্গে পরিচিত হয় ও দক্ষ হয়ে ওঠে। এইভাবে শিক্ষা - প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সামাজিকীকরণ ঘটে। 

৩. গণমাধ্যম :- 
গণমাধ্যম হল সমাজের আয়না স্বরূপ। সমাজে ঘটে চলা বিভিন্ন ঘটনা , সমাজের পরিবর্তন ও বিবর্তন , সরকারি নীতি , শিক্ষা - সাহিত্য ও সংস্কৃতি - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সমাজস্থ মানুষের নিকট পরিবেশন করে। শিশুর মধ্যে সামাজিকীকরণের বিকাশের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যমগুলি হল - রেডিও , দূরদর্শন , সংবাদপত্র এবং আধুনিক কালে ডিজিটাল সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক। এইসকল গণমাধ্যমগুলির মাধ্যমে শিশু তার পারিপার্শ্বিক , জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনের সঙ্গে পরিচিত হয় ও সেই সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করে। গণমাধ্যমগুলি জনমত গঠনের ক্ষেত্রে এবং চিন্তাজগতে গভীর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। 

৪. রাষ্ট্র - ব্যবস্থা :- 
রাষ্ট্র - ব্যবস্থার মূলতঃ তিনটি বিভাগ - আইন , শাসন ও বিচার। এই তিন বিভাগের মাধ্যমে রাষ্ট্র তার নাগরিকদের উপর বিভিন্ন বাধানিষেধ আরোপ করে ও নাগরিকদের নিয়ন্ত্রণ করে। এই নিয়ন্ত্রণ অবশ্য ইতিবাচক ; কেননা রাষ্ট্র নাগরিকদের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে নাগরিকদের পরিপূর্ণ বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলে। প্রতিটি শিশু রাষ্ট্র - ব্যবস্থার অন্তর্গত একজন সদস্য হিসাবে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে এবং সমাজের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া সংগঠিত হয়। এইভাবে রাষ্ট্র ব্যবস্থা শিশুর সামাজিকীকরণে সহায়তা করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. সমবয়সী ও বন্ধুগোষ্ঠী :- 
পরিবার , শিক্ষা প্রতিষ্ঠান , রাষ্ট্র - এইসকল বিধিবদ্ধ ও কর্তৃত্বমূলক মাধ্যমগুলি ছাড়া শিশুর সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে তার সমবয়সী ও বন্ধুগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজতাত্ত্বিক Piaget শিশুর সঙ্গে তার সমবয়সী বা বন্ধুগোষ্ঠীকে সর্বাধিক গণতান্ত্রিক বলে মন্তব্য করেছেন। বন্ধুগোষ্ঠীর সঙ্গে শিশুর সম্পর্ক হয় সহজ - সরল ও অবাধ। শিশু এখানে খোলামেলাভাবে মিশতে পারে। বিভিন্ন কর্মে বন্ধুগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ , তাদের কথাবার্তা ইত্যাদি শিশুকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। 

৬. ধর্মীয় রীতিনীতি ও প্রতিষ্ঠান :- 
প্রতিটি মানুষের জীবনে ধর্মের প্রভাব অতি গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের আচার - আচরণ , সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া , চিন্তা - ভাবনা , আদর্শ - ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় ধর্মের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়। ধর্মের বিভিন্ন প্রথা , রীতিনীতি , আচার - অনুষ্ঠান , বিধি - নিয়ম , উপদেশ ও অনুশাসন ব্যক্তির সামাজিক ভূমিকা নির্ণয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাস ( যেমন দেবতার অস্তিত্ব , পাপ - পুণ্যের বোধ - ইত্যাদি ) শিশুর সামাজিকীকরণে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 

৭. সাহিত্য :- 
বিভিন্ন গ্রন্থ , পত্র - পত্রিকা , সাময়িক পত্র ও অন্যান্য মাধ্যমে সাহিত্য প্রকাশিত হয়। প্রতিটি সাহিত্যিক রচনায় কবি বা লেখকের জীবনবোধ , দর্শন ও সমাজচেতনা প্রকাশিত হয়। এই চেতনা পাঠকের মধ্যেও সঞ্চারিত হয়। পাঠকবর্গ সাহিত্যপাঠের মধ্যে দিয়ে সমাজের চালচিত্র ও বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। এছাড়াও গ্রন্থপাঠ মানুষের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। সাহিত্যের মাধ্যমে মানুষ সমাজে প্রচলিত ধ্যান - ধারণা , রীতি - পদ্ধতি - ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত হতে পারে। 

৮. বিভিন্ন প্রকার আদর্শ :- 
প্রতিটি শিশু নিজ জীবনে বহু মহাপুরুষ ও কর্মবীরদের আদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়। মহাপুরুষদের বাণী ও কর্মবীরদের জীবনকাহিনী সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। সমাজ জীবনে প্রায় প্রতিটি শিশুই শিক্ষার মাধ্যমে বা বড়দের বলা গল্পের মাধ্যমে - এই সকল মহাপুরুষদের আদর্শ সম্পর্কে অবগত হন। এই সকল আদর্শ ব্যক্তিজীবনে ও সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। 

৯. কর্মজগৎ :- 
শৈশব ও শিক্ষাজীবন শেষ করে মানুষ কর্মজগতে প্রবেশ করে। এই কর্মজগৎ মানুষের সামাজিকীকরণের একটি প্রত্যক্ষ মাধ্যম। মানুষ তার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত হয়। কর্মক্ষেত্রে মানুষ সমাজকে পরিপূর্ণভাবে উপলব্ধি করতে পারে এবং সেইমত নিজেদের আচার - আচরণের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করতে পারে। 

পরিশেষে বলা যায় , সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলি এককভাবে সামাজিকীকরণ ঘটায় না ; সবগুলি মাধ্যম সম্মিলিতভাবে ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়া ঘটায় ও সামাজিকীকরণ সংগঠিত করে। সামাজিকীরণের মাধ্যমগুলি দেশ - কালভেদে মোটামুটি একই রকম থাকে। ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যমগুলি ব্যক্তির উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেললে ব্যক্তির জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে ; আবার এর উল্টোটাও দেখা যায়। সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলি মূলতঃ ব্যক্তিজীবনে তাদের ব্যক্তিত্ব ও আচার - আচরণের গতি - প্রকৃতি নির্ধারণ করে।      

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো   
    
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

সামাজিকীকরণ কাকে বলে ? সামাজিকীকরণের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

সামাজিকীকরণের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 

সামাজিকীকরণ ও তার বৈশিষ্ট। 




সামাজিকীকরণের ধারণা / সংজ্ঞা :- 

প্রতিটি শিশু জৈবিক প্রাণী হিসাবে জন্মলাভ করে। কিন্তু ধীরে ধীরে সমাজের নিয়ম , রীতিনীতি , প্রথা ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত হয় এবং ধীরে ধীরে সামাজিক প্রাণী হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। অর্থাৎ সামাজিকীকরণ হল ব্যক্তির জৈবিক প্রাণী থেকে সামাজিক প্রাণীতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়া। 

কিংসলে ডেভিস বলেছেন - সামাজিকীকরণ হল একটি প্রক্রিয়া এবং এর মাধ্যমে শিশু সামাজিক প্রাণীতে পরিণত হয়। 

ম্যাকাইভার বলেছেন - সামাজিকীকরণের মাধ্যমে ব্যক্তিবর্গ পরপস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং জটিল সামাজিক কাঠামোতে অংশগ্রহণ করে। 

অগবার্ণ ও নিমকফ বলেছেন - সামাজিকীকরণের মাধ্যমেই ব্যক্তি সমাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্থাপন করে। 

বোগারডাস বলেছেন - সামাজিকীকরণের মাধ্যমেই বেক্তিবর্গ পরস্পরের সঙ্গে ব্যবহারিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। 

সুতরাং সামাজিকীকরন হল একটি সামাজিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শিশু সামাজিক জীবনের সঙ্গে পরিচিত হয় , শিশুর ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে , শিশু সমাজের সঙ্গে অভিযোজনের দক্ষতা অর্জন করে। সামাজিকীকরণের মাধ্যমেই ব্যক্তি তার সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হয় এবং তার ধারক ও বাহক হয়ে ওঠে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

সামাজিকীকনের বৈশিষ্ট :- 


১. একাধিক মাধ্যম :- 
ব্যক্তি নিজে নিজেই সামাজিকীকরণ ঘটাতে পারেনা। তাকে এই কাজে সাহায্য করে যেসকল উপাদান - সেগুলিকে বলে সামাজিকীকরণের মাধ্যম। সামাজিকীকরণের প্রধান মাধ্যমগুলি হল - পরিবার , বন্ধুগোষ্ঠী , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান , গণমাধ্যম , রাষ্ট্র , বিভিন্ন আদর্শ - ইত্যাদি। এইসকল উপাদানগুলি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যক্তির সামাজিকীকরণে সহায়তা করে। 

২. উপাদানগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক :- 
সামাজিকীকরণের বিভিন্ন মাধ্যমগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বর্তমান। ব্যক্তি ও সামাজিকীকরণের মাধ্যমগুলি পারস্পরিক ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সামাজিকীকরণ ঘটায়। যেমন রাষ্ট্র যথাযথ শিক্ষার ব্যবস্থা করলে শিক্ষা ব্যক্তির চেতনার উন্নতি ঘটায়। মানুষের চেতনার উন্নতি সামাজিকীকরণে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করে। 

৩. সামাজিক প্রক্রিয়া :- 
সামাজিকীকরণ সম্পূর্ণরূপে একটি সামাজিক প্রক্রিয়া। সমাজে অবস্থানকারী ব্যক্তি সামাজিক উপাদানগুলির সঙ্গে ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমেই সামাজিকীকরণ ঘটায়। সামাজিকীকরণের প্রতিটি উপাদান সম্পূর্ণরূপে সামাজিক। 

৪. সকল সমাজে বিদ্যমান :- 
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সকল সমাজেই বিদ্যমান। দেশ ও কালভেদে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সকল সমাজেই লক্ষ্য করা যায়। আদিম সমাজ থেকে বর্তমান সমাজ পর্যন্ত ; এমনকী , যেসকল সমাজে সভ্যতার আলো পৌঁছয়নি , সেসকল সমাজেও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. গতিশীল প্রক্রিয়া :- 
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি একটি গতিশীল প্রক্রিয়া। সমাজের পরিবর্তন ও সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটিও সমানতালে সংগঠিত হতে থাকে। 

৬. নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া :- 
সামাজিকীকরণ একটি নিরবচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া। মানবজীবন ও সমাজজীবনের কোনো স্তরেই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়না - তা প্রবহমান এবং নিরবচ্ছিন্ন। সমাজ সৃষ্টি থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া নিরন্তর সংগঠিত হয়ে চলেছে। 

৭. সামাজিকীকরণ সমাজের সকল অংশকে প্রভাবিত করে :- 
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মধ্যেই যে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় - তা কিন্তু নয়। সামাজিকীকরণ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সংগঠিত হয়। সমাজে বসবাসকারী সকলেই সামাজিকীকরণের মাধ্যমে সমাজের সঙ্গে পরিচিত হয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করে। 

৮. পরিস্থিতিভেদে তারতম্য :- 
পরিস্থিতিভেদে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। একটি আদর্শ সমাজের ব্যক্তিবর্গের সামাজিকীকরণ ঘটে আদর্শরূপে ; অন্যদিকে , যেসকল সমাজের পরিবেশ অসামাজিক , সেসকল সমাজের ব্যক্তিবর্গের সামাজিকীকরণ ঘটে নেতিবাচকরূপে। 

৯. সমাজের পরিবর্তন :- 
সামাজিক পরিবর্তনের একটি প্রধান উপাদান হল সামাজিকীকরণ। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তিবর্গ সমাজের পরবর্তনশীল রীতিনীতির সঙ্গে অভিযোজন ঘটিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করে। 

১০. মিথস্ক্রিয়া :- 
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ব্যক্তি , সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও সমাজের মধ্যে মিথস্ক্রিয়া সংগঠিত হয়। ব্যক্তি , প্রতিষ্ঠান ও সমাজের মিথস্ক্রিয়া সামাজিক পরিবর্তনকে সূচিত করে। 

পরিশেষে বলা যায় , সামাজিকীকরণ হল এমন এক প্রক্রিয়া যার দ্বারা ব্যক্তি সমাজের রীতিনীতি , প্রথা , সামাজিক আদব - কায়দা , আদর্শ , মূল্যবোধ ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত হয় এবং অভিযোজনের মাধ্যমে সামাজিক প্রাণীতে পরিণত হয়। সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়াটি ধারাবাহিক এবং ব্যক্তিজীবনের সর্বকালীন সঙ্গী , ব্যবহারিক সম্পর্কের অন্যতম কারক , সামাজিক কল্যাণসাধন ও শৃঙ্খলারক্ষার উদ্দীপক বিশেষ। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
   
  
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

Followers

Pages

  • Home
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • CONTACT ME
  • About Me

Contact Form

Name

Email *

Message *

About me

Hallow viewers , myself Nandan Dutta [Subhankar Dutta], reside at Maheshpur,Malda.
I made this website for the students of B.A. courses under Gour Banga University. Here you can get suggestions of different subjects like HISTORY , SOCIOLOGY , POLITICAL SCIENCE & EDUCATION.
In future I will add MCQ sections of those subjects.


Categories

  • 1ST SEMESTER SUGGESTION (1)
  • 2 ND YEAR SUGGESTION (1)
  • 2ND SEMESTER (1)
  • 3RD SEMESTER (8)
  • BENGALI NOTES (21)
  • CU suggestion. (1)
  • EDUCATION NOTES (141)
  • ENGLISH COMPULSORY (16)
  • GBU Suggestion. (7)
  • HISTORY EUROPE & WORLD (46)
  • HISTORY NOTES (68)
  • POL SC NOTES (69)
  • SOCIOLOGY NOTES (72)
  • WBCS 2020 (1)

recent posts

Blog Archive

  • November 2025 (1)
  • August 2025 (4)
  • May 2025 (3)
  • April 2025 (20)
  • March 2025 (12)
  • February 2025 (8)
  • November 2024 (5)
  • October 2024 (2)
  • September 2024 (2)
  • June 2024 (2)
  • March 2024 (6)
  • February 2024 (4)
  • October 2023 (5)
  • May 2023 (5)
  • April 2023 (1)
  • December 2022 (1)
  • November 2022 (13)
  • September 2022 (2)
  • August 2022 (7)
  • July 2022 (29)
  • June 2022 (10)
  • May 2022 (25)
  • April 2022 (24)
  • March 2022 (16)
  • February 2022 (19)
  • January 2022 (21)
  • December 2021 (46)
  • November 2021 (5)
  • October 2021 (6)
  • September 2021 (5)
  • August 2021 (41)
  • July 2021 (43)
  • June 2021 (31)
  • May 2021 (7)
  • April 2021 (1)
  • July 2020 (1)
  • June 2020 (3)
  • April 2020 (1)
  • November 2019 (1)
  • July 2019 (1)
  • June 2019 (1)
  • May 2019 (1)
  • April 2019 (2)
  • January 2019 (1)

Pages

  • Home
  • 2nd SEM ভাষাতত্ত্ব :
  • বাংলা উপভাষা
  • দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব
  • ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলি আলোচনা করো।
  • হর্ষবর্ধনের কৃতিত্ব আলোচনা করো। তাকে কি উত্তর পথনাথ বলা যায় ?
  • ভারতীয় সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
  • উদারনীতিবাদ : সংক্ষিপ্ত ধারণা :-
  • চোল শাসনব্যবস্থা :-
  • গুপ্তযুগ সুবর্ণযুগ সম্পর্কিত আলোচনা।
  • ৬. উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলাভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট আল...
  • 1. Marxism
  • আধুনিক বাংলা ভাষা ও তার বৈশিষ্ট।
  • Discuss the career and achievements of Samudragupta .
  • ভাষাতত্ত্ব

Created with by ThemeXpose | Distributed by Blogger Templates