Pages

Powered by Blogger.
1ST SEMESTER SUGGESTION 2 ND YEAR SUGGESTION 2ND SEMESTER 3RD SEMESTER BENGALI NOTES CU suggestion. EDUCATION NOTES ENGLISH COMPULSORY GBU Suggestion. HISTORY EUROPE & WORLD HISTORY NOTES POL SC NOTES SOCIOLOGY NOTES WBCS 2020

NANDAN DUTTA

A new approach for exam notes .

জুলাই বিপ্লবের ফলাফল। 




জুলাই বিপ্লবের ফলাফল। 

ফ্রান্স তথা সমগ্র ইউরোপের ইতিহাসে ১৮৩০ এর জুলাই বিপ্লব ছিল এক যুগান্তকারী ঘটনা। জুলাই বিপবের মাধ্যমেই ফ্রান্সে বহুদিনের বুরবোঁ শাসনের অবসান ঘটে তথা ফ্রান্সের সিংহাসনে বংশানুক্রমিক রাজপদ অধিকারের যে প্রথা প্রচলিত ছিল তা বিলুপ্ত হয়। 

তবে ডক্টর রবিনসন ও বিয়ার্ড জুলাই বিপ্লবকে কোনো যুগান্তকারী ঘটনা বা বিপ্লব বলতে রাজি নন। তাঁদের মতে , জুলাই বিপ্লবের ফলে ফ্রান্স তথা ইউরোপের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছিল খুব সামান্য ; তাই একে বিপ্লব আখ্যা দেওয়া উচিত নয়। এছাড়াও ঐতিহাসিক কোব্বান জুলাই বিপ্লবকে একটি '' রক্ষণশীল বিপ্লব '' বলে অভিহিত করেছেন। 

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। কোনো নতুন সংবিধান প্রবর্তিত হয়নি , প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি , মধ্যবিত্ত বুর্জোয়াদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই ঐতিহাসিকগণের সিংহভাগ জুলাই বিপ্লবের ফলাফল হিসাবে শুধুমাত্র রাজবংশের পরিবর্তনকেই একমাত্র উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসাবে চিহ্নিত করেন। 

যাইহোক জুলাই বিপবের ফলাফলকে দুটি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যেতে পারে। 
(ক ) ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের প্রভাব ও 
(খ ) ইউরোপে জুলাই বিপ্লবের প্রভাব। 

(ক ) ফ্রান্সে জুলাই বিপ্লবের প্রভাব :- 


১. বুরবোঁ রাজতন্ত্রের পতন :- 
নেপোলিয়নের পতনের পর ভিয়েনা সম্মেলনের মাধ্যমে বুরবোঁ বংশীয় দশম চার্লস ফ্রান্সের সিংহাসন অধিকার করেছিলেন। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বুরবোঁ রাজবংশের শাসন ক্ষমতার অবসান ঘটে এবং অর্লিয়েন্স বংশীয় লুই ফিলিপ ফ্রান্সের সিংহাসন দখল করেন। এছাড়াও বুরবোঁ রাজবংশের সকল প্রকার সাংবিধানিক ও বিশেষ ক্ষমতার অবসান ঘটে। 

২. বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের অবসান :- 
বুরবোঁ রাজবংশের পতনের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বংশানুক্রমিক রাজপদ অধিকারের প্রথাটিও বাতিল হয়ে যায়। বুরবোঁ রাজবংশ তার সকল ক্ষমতা হারিয়ে কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন :- 
জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রথম প্রতিফলনের ঘটনা দেখা যায়। কেননা , লুই ফিলিপ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত না হলেও তিনি সাংবিধানিক বিধিনিয়ম অনুসারে রাজতন্ত্র পরিচালনার অঙ্গীকার গ্রহণ করেন। তাই এই ঘটনাকে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বলা যেতে পারে। 

৪. বুর্জোয়াদের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা :- 
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্রান্সের আইনবিভাগ ও শাসনবিভাগে বুর্জোয়াদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু শাসন ক্ষমতা লাভ করে বুর্জোয়ারা রাষ্ট্রযন্ত্রকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে থাকে। ফলে ফ্রান্সের সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃতীয় শ্রেণীর মানুষেরা অধিকার বঞ্চিত হন। সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসন সম্পর্কে যে ক্ষোভ জন্ম নেয় - তা অনতিদূরে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়। 

৫. ভোটাধিকারের পরিবর্তন :- 
অষ্টাদশ লুইয়ের শাসনকালে ন্যূনতম ৩০০ ফ্রাঁ কর প্রদানকারীদের কেবলনাত্র ভোটাধিকার ছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর লুই ফিলিপের আমলে ৩০০ ফ্রাঁ - এর পরিবর্তে ন্যূনতম ২০০ ফ্রাঁ কর প্রদানকারীদের ভোটাধিকার দেওয়া হয়। আপাতদৃষ্টিতে এই পরিবর্তন তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে না হলেও তৎকালীন পরিস্থিতির সাপেক্ষে এটি ছিল বিপ্লবের একটি বড় জয়। 

৬. সামন্ততন্ত্রের উপর তীব্র আঘাত :- 
জুলাই বিপ্লবের সংস্কারগুলি ফ্রান্সে প্রচলিত সামন্ততন্ত্রের উপর তীব্র আঘাত হানে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে যেহেতু ফ্রান্সে উগ্র রাজপন্থীদের বিলোপ ঘটে ; তার ফল হিসাবে ফ্রান্সে সামন্ততন্ত্র দ্রুত পতনের দিকে ধাবিত হয়। 

৭. যাজক শ্রেণীর ক্ষমতা হ্রাস :- 
জুলাই বিপ্লবের পর ফ্রান্সে যাজক শ্রেণীর ক্ষমতা ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। ইতিপূর্বে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারণ , শিক্ষা ব্যবস্থা , সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যাজক শ্রেণীর যে প্রবল ক্ষমতা ছিল - তার অবসান ঘটে। এছাড়াও যাজক শ্রেণী যেসকল রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভ করেছিল - সেগুলি বাতিল করা হয়। স্বাধীন চিন্তা প্রসারের বিরুদ্ধে যাজক সম্প্রদায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে যে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করত - তার সম্ভাবনা দূর হয়।      

৮. সাংবিধানিক পরিবর্তন :- 
ইতিপূর্বে ফ্রান্সের সংবিধানের ১৪ নং ধারা অনুসারে জরুরি অবস্থায় রাজা অর্ডিন্যান্স ঘোষণা করার অধিকারী ছিলেন। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর রাজার অর্ডিন্যান্স জারি করার ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেওয়া হয়। আইনবিভাগ ও শাসনবিভাগের প্রকৃত ক্ষমতা বুর্জোয়াদের হাতে অধিষ্ঠিত হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৯. মেটারনিখ ব্যবস্থার অবসানের সূচনা :- 
১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা কংগ্রেসের পর অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিখ সমগ্র ইউরোপ জুড়ে রক্ষনশীলতা ও পুরাতনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল নীতি কার্যকর করেন। কিন্তু লুই ফিলিপের সিংহাসনারোহনের মাধ্যমে ভিয়েনা কংগ্রেসের '' ন্যায্য অধিকার নীতি '' অমান্য করা হয়। এইভাবে প্রাথমিকভাবে মেটারনিখ ব্যবস্থার পতনের সূচনা হয়। 

১০. ফ্যাক্টরি আইন প্রবর্তন :- 
শিল্পবিপ্লবের ফলে পুঁজিপতিদের হাতে প্রচুর অর্থের সমাগম হলেও শ্রমিকরা ছিলেন শোষিত ও বঞ্চিত। শ্রমিকদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন সমাজতন্ত্রী লুই ব্ল্যাঙ্ক। তাঁদের তীব্র আন্দোলনের চাপে পড়ে লুই ফিলিপ সরকার ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে শ্রমিকদের স্বার্থে ফ্যাক্টরি আইন প্রবর্তন করতে বাধ্য হন। 

(খ ) ইউরোপে জুলাই বিপ্লবের প্রভাব :- 

সমগ্র ইউরোপ জুড়ে জুলাই বিপ্লবের ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। জুলাই বিপ্লবের পরও মেটারনিখ ইউরোপ জুড়ে রক্ষনশীলতা ও পুরাতনতন্ত্র বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। অন্যদিকে লুই ফিলিপ ছিলেন সংস্কারের প্রতি উদাসীন ; তিনি স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে চেয়েছিলেন। তবে একথা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে ফরাসি বিপ্লব প্রসূত উদারনৈতিক ও প্রগতিশীল আদর্শগুলি জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। 

১. পোল্যান্ডের বৃহদাংশ এতদিন পর্যন্ত রাশিয়ার অধীনে এবং কিছুটা প্রাশিয়ার অধীনে ছিল। জুলাই বিপ্লবের ফলে বুরবোঁ রাজবংশের পতন ঘটলে পোল্যান্ডেও জাতীয়তাবাদী আন্দোলন শুরু হয় 

২. ১৮১৫ সালে ভিয়েনা চুক্তির মাধ্যমে বেলজিয়ামের স্বাধীনতা লোপ পেয়েছিল। বেলজিয়ামকে ডাচ বা হল্যান্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু বুরবোঁ রাজবংশের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বেলজিয়ামে ডাচ বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়ে যায় এবং ২৫ শে অগাস্ট ১৮৩০ সালে এক অভ্যত্থান ঘটে এবং ৪ঠা অক্টোবর বেলজিয়াম স্বাধীনতা ঘোষণা করে। 

৩. জার্মানিতেও কাসেল , লাইপজিগ , ব্রান্সউইক - ইত্যাদি অঞ্চলে উদারনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। 

৪. বুরবোঁ রাজবংশের অবসানের পর ইতালিতে কার্বনারী সহ অন্যান্য গুপ্তসমিতিগুলি অধিকমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং বৈদেশিক শাসনের অবসানের দাবী জানাতে থাকে। 

৫. এছাড়া , জুলাই বিপ্লবের সাফল্যে প্রভাবিত হয়ে সুইজারল্যান্ড , সুইডেন ,পর্তুগাল - ইত্যাদি রাষ্ট্রেও উদারনৈতিক সংবিধানের দাবীতে আন্দোলন শুরু হয় এবং বেশ কিছু প্রগতিশীল পরিবর্তন সাধিত হয়। 

৬. ইতিপূর্বে নরওয়ে সুইডেনের অধীনে ছিল। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের পর নরওয়েতে স্বায়ত্তশাসনের দাবীতে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। 

৭. ইংল্যান্ডে চার্টিস্ট আন্দোলন শুরু হয়। এই আন্দোলন ছিল মূলতঃ শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। চার্টারে শ্রমিক স্বার্থ সমন্বিত মোট ৬ টি দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। 

৮. স্পেন ও পর্তুগাল উভয় রাষ্ট্রই গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রবর্তনের দাবীতে আন্দোলন শুরু করে এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়। 

পরিশেষে বলা যায় যে , জুলাই বিপ্লব মানুষের আশা - আকাঙ্খাকে পূরণ করতে না পারলেও ফরাসি বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া বৈপ্লবিক ভাবধারা , প্রগতিশীলতা ও গণতন্ত্রের আদর্শ - ইত্যাদি বৌদ্ধিক বিষয়গুলিকে পুনরায় জাগিয়ে তুলছিল। তাই জুলাই বিপ্লবের পরোক্ষ প্রভাব হিসাবে ১৮১৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের উত্থানকে চিহ্নিত করা হলে অত্যুক্তি করা হবেনা।       

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

মেটারনিখ ব্যবস্থার পতনের কারণ।  




মেটারনিখ ব্যবস্থার পতনের কারণ :- 


নেপোলিয়নের পতনের পর ভিয়েনা সম্মেলন ও তার পরবর্তী সময়কালে ইউরোপীয় রাজনীতির প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিখ। ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে ভিয়েনা সম্মেলন থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব পর্যন্ত সময়কালকে তাই '' মেটারনিকের যুগ '' বলা হয়। এই সময়কালে মেটারনিখ সমগ্র ইউরোপ জুড়ে প্রবল প্রতিক্রিয়াশীল , উদারনৈতিক ও প্রগতিশীল ভাবধারার বিরোধী এবং রক্ষণশীল শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। এই ব্যবস্থাকে '' মেটারনিখ ব্যবস্থা '' বলা হয়। তবে মেটারনিকের বিভিন্ন নীতির মধ্যেই তাঁর পতনের বীজ নিহিত ছিল। মেটারনিখ ব্যবস্থার পতনের কারণগুলি ছিল - 

১. বিপ্লব বিরোধিতা :- 
মেটারনিখ ফরাসি বিপ্লব হতে উদ্ভুত সকল প্রকার প্রগতিশীল ভাবধারার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি বলপ্রয়োগ ও দমনমূলক নীতির মাধ্যমে সকল প্রকার আধুনিক ও প্রগতিশীল ভাবধারার প্রসার রোধ করেছিলেন। কিন্তু ফরাসি বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন প্রগতিশীল আদর্শগুলি মানুষকে প্রগতিশীলতার পথে ভাবতে শিখিয়েছিল। তাই মাত্র তিন দশক মেটারনিখ বলপ্রয়োগ করে সেগুলির প্রসার রোধ করলেও তা একসময় মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। 

২. রাজতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা :- 
ভিয়েনা সম্মেলনের মাধ্যমে মেটারনিখ ইউরোপে পুরোনো বিভিন্ন রাজবংশগুলিকে ইউরোপের বিভিন্ন সিংহাসনে বসিয়েছিলেন। যেমন - ফ্রান্সের সিংহাসনে বুরবোঁ রাজবংশের অষ্টাদশ লুইকে বসানো হয়। কিন্তু ফরাসি বিপবের ফলে রাজতন্ত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিরোধিতা জন্ম নিয়েছিল মেটারনিকের নীতি সেই ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে তোলে। মূলতঃ এর ফলেই ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জুলাই বিপ্লব ও ১৮৪৮ সালে ফেব্রুয়ারি বিপ্লব সংগঠিত হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. পরিবর্তনের বিরোধী :- 
মেটারনিখ তীব্রভাবে রক্ষণশীল ছিলেন এবং যেকোনো পরিবর্তনের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। কিন্তু এই রক্ষণশীল নীতির জন্য ইউরোপ সমগ্র বিশ্বের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে থাকে। ফলে জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এছাড়াও পরিবর্তনের বিরোধিতার ফলে ইউরোপ অর্থনৈতিক , সাংস্কৃতিক - ইত্যাদি সব দিক দিয়েই পিছিয়ে পড়েছিল। 

৪. শিল্পবিপ্লব :- 
ইতিমধ্যেই ইউরোপে শিল্পবিপ্লব সংগঠিত হয়। শিল্পবিপ্লব ইংল্যান্ড , জার্মানি - ইত্যাদি রাষ্ট্রকে প্রভূত অর্থনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী করে তোলে। এছাড়া শিল্প বিপ্লবের ফলে যে এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল - মেটারনিখ তার স্বরূপ উপলব্ধি করতে না পেরে চূড়ান্ত ভুল করেছিলেন। 

৫. ইউরোপীয় অন্যান্য রাষ্ট্রগুলির বিরোধিতা :- 
মেটারনিখের নীতি ইউরোপের প্রগতিশীলতা রুদ্ধ করে দেওয়ায় ইউরোপীয় অন্যান্য দেশগুলি মেটারনিখ ব্যবস্থার বিরোধিতা করতে থাকে। যেমন , সর্বপ্রথম ইংল্যান্ড ও রাশিয়া মেটারনিখ নীতি ত্যাগ করে এবং তার পরবর্তীকালে ফ্রান্সও মেটারনিখ নীতি ত্যাগ করে। ফলে অস্ট্রিয়া ও মেটারনিখ ব্যবস্থা উভয়ই ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে। 

৬. অসামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি :- 
মেটারনিকের নীতিগুলি ছিল সময়ের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একদিকে ফরাসি বিপ্লব সাধারণ মানুষ ও পন্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে গতিশীল মতাদর্শের জন্ম দিয়েছিল ; অন্যদিকে শিল্প বিপ্লব , নগরায়ণ - ইত্যাদি বিষয়গুলি ইউরোপে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। কিন্তু সেখানে মেটারনিকের প্রগতিশীল বিরোধী নীতি ছিল সম্পূর্ণরূপে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. শিক্ষা ক্ষেত্রে কঠোর নীতি প্রয়োগ :- 
রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে মেটারনিখ শিক্ষা ক্ষেত্রগুলিকেও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দর্শন , নীতিশাস্ত্র - ইত্যাদি প্রগতিশীল বিষয়গুলির পঠন - পাঠন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কোনোভাবেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে যাতে প্রগতিশীল ভাবধারা প্রচার না করা হয় সেজন্য তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে গুপ্তচর নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ফরাসি বিপ্লব মানুষের বৌদ্ধিক ক্ষেত্রে যে প্রগতিশীল পরিবর্তন নিয়ে এসেছিল - তার গতি রুদ্ধ করা মেটারনিকের পক্ষে সম্ভব হয়নি। 

৮. জনসমর্থনের অভাব :- 
মেটারনিকের সকল নীতি ও কর্মসূচি ইউরোপীয় সাধারণ মানুষ ও রাজন্যবর্গের উপর বলপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়। এই আরোপিত কূটনৈতিক ব্যাবস্থা সাধারণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপীয় রাজন্যবর্গও খোলামনে স্বীকার করেননি। তাই মেটারনিখ ব্যবস্থা কোনো স্তরেই জনসমর্থন আদায় করতে পারেনি - যা ছিল তার পতনের অন্যতম কারণ। 

৯. বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী অভ্যুত্থান :- 
মেটারনিখ ব্যবস্থার উপর তীব্র আঘাত হানে ইউরোপের বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী অভ্যুত্থান। যেমন - মেটারনিখ ব্যবহার বিরুদ্ধে ফার্দিনান্ড নিজ রাজ্যে প্রগতিশীল শাসন ব্যবস্থা চালু করেন ; এমনকি পর্তুগালে মেটারনিকের নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন সংগঠিত হয়। এছাড়াও নেপলসে আধুনিক ভাবধারার প্রসারের ফলে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। এইসকল জাতীয়তাবাদী অভ্যুত্থান মেটারনিখ তন্ত্রের পতনকে নিশ্চিত করে তোলে। 

১০. ফেব্রুয়ারি বিপ্লব (১৮৪৮) ও মেটারনিখ ব্যবস্থার পতন :- 
১৮৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে জুলাই রাজতন্ত্রের পতন ঘটে এবং ফ্রান্সে ''দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র '' প্রতিষ্ঠিত হয়। জুলাই বিপ্লবের মূল কারণ ছিল - শাসন ব্যবস্থায় বুর্জোয়াদের প্রাধান্য , ত্রুটিপূর্ণ বিদেশনীতি , মূল্যবৃদ্ধি , বেকার সমস্যা , বাণিজ্যিক মন্দা - ইত্যাদি। ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে লুই ফিলিপ অস্ট্রিয়ার সিংহাসন হারালেও প্রকৃতপক্ষে তা ছিল মেটারনিকের পতন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা নগরীতে তীব্র ছাত্র ও শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলন শুরু হলে তা ধীরে ধীরে সমগ্র অস্ট্রিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। এইসময় পুলিশের গুলিতে ২৩ জন নিহত হলে আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং সমগ্র ইউরোপ উত্তাল হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে মেটারনিখ এবং লুই ফিলিপ ইংল্যান্ডে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং মেটারনিখ ব্যবস্থার পতন ঘটে।     

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো    
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

মেটারনিখ ব্যবস্থা কাকে বলে ? মিটারনিখ ব্যবস্থার বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর।  




মেটারনিখ ব্যবস্থা :- 


ইউরোপের ইতিহাসে ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ পর্যন্ত সময়কাল যাবৎ ইউরোপীয় ইতিহাসের প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন অস্ট্রিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মেটারনিখ। তাই ইউরোপের ইতিহাসে এই সময়কালকে '' মেটারনিকের যুগ '' বলে। এই সময়কাল যাবৎ মেটারনিখ সমগ্র ইউরোপ রক্ষণশীল ও পুরাতনপন্থী শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। মেটারনিখ প্রবর্তিত এই শাসন ব্যবস্থা '' মেটারনিখ ব্যবস্থা '' বা '' মেটারনিখতন্ত্র '' নামে পরিচিত। মেটারনিকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সমগ্র ইউরোপ জুড়ে বৈপ্লবিক ভাবধারা প্রতিরোধ করা এবং পুরাতনতন্ত্রের প্রচলন ঘটানো। 

মেটারনিখ ব্যবস্থার বৈশিষ্ট :- 


১. বৈপ্লবিক ভাবধারা প্রতিরোধ :- 
মেটারনিখ ছিলেন রাজতান্ত্রিক ভাবধারার সমর্থক। ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্স তথা সমগ্র ইউরোপ জুড়ে যে বৈপ্লবিক ভাবধারা জন্ম নিয়েছিল - মেটারকের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সেই বৈপ্লবিক ভাবধারা প্রতিরোধ করা। ফরাসি বিপ্লব হতে উদ্ভুত স্বাধীনতা , সাম্য , উদারনীতি , সৌভাতৃত্ব - ইত্যাদি আদর্শগুলিকে মেটারনিখ রাজনৈতিকভাবে তীব্র বিরোধিতা করতেন। তাই এই ধরণের ভাবধারা প্রতিরোধ করতে মেটারনিখ বদ্ধপরিকর ছিলেন।  

২. রক্ষনশীলতা :- 
ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সে যেসকল বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছিল সেই সকল পরিবর্তনগুলির তীব্র বিরোধিতা করেন মেটারনিখ। তিনি রক্ষণশীল আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তাই মেটারনিকের শাসনকালে ফরাসি বিপ্লব হতে উদ্ভুত সকল প্রকার প্রগতিশীল পরিবর্তনকে তিনি নস্যাৎ করে দেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. পুরাতনতন্ত্র :- 
মেটারনিকের শাসনকালে ইউরোপ বিপ্লব পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যায়। পুরোনো সকল রাজবংশগুলিকে ইউরোপের বিভিন্ন সিংহাসনে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়। যেমন নেপোলিয়নের পর ফ্রান্সের সিংহাসনে বুরবোঁ বংশের অষ্টাদশ লুই। এমনকী , সংবাদপত্রেও যাতে প্রগতিশীল ও আধুনিক ভাবধারার প্রচার না করা হয় - সে বিষয়ে কঠোর দৃষ্টি রাখা হত। 

৪. ইউরোপীয় রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা :- 
মেটারনিখ তাঁর সময়কালে ইউরোপীয় রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য ও একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন পরিস্থিতিতে ফ্রান্স , হল্যান্ড , প্রাশিয়া - ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলি অনেকটা শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে নেপোলিয়নের পতনের পর ইউরোপীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী কোনো নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটেনি। মেটারনিখ এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে অস্ট্রিয়াকে ইউরোপের নিয়ন্ত্রক শক্তিতে পরিণত করতে চেয়েছিলেন। 

৫. ইউরোপের পুনর্গঠন ও শক্তিসাম্য রক্ষা :- 
ইউরোপীয় শক্তিগুলির মধ্যে সমতা বজায় রাখতে মেটারনিখ বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন - বেলজিয়ামকে হল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয় , ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী তিনটি জেলা সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয় , স্যাভয় ও সার্ডিনিয়ার সঙ্গে জেনোয়াকে যুক্ত করা হয় প্রাশিয়ার সঙ্গে রাইন অঞ্চলের জেলাগুলিকে যুক্ত করা হয় - ইত্যাদি। 

৬. ফ্রান্সকে দুর্বল করে তোলা :- 
যেহেতু বৈপ্লবিক ভাবধারাগুলির জন্ম হয়েছিল ফ্রান্সে , তাই মেটারনিখ ফ্রান্সকে যতটা সম্ভব দুর্বল করে তুলতে চেয়েছিলেন - যাতে ফ্রান্সে নতুন করে কোনো বৈপ্লবিক ভাবধারার প্রসার ঘটে অস্ট্রিয়ার নেতৃত্ব বিপন্ন না করতে পারে। এই উদ্দেশ্যে মেটারনিখ বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। যেমন - ফ্রান্সের সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়ে সেখানে পাঁচ বছরের জন্য মিত্রপক্ষের সেনা নিয়োগ করা হয় , ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রায় ৭৫ কোটি ফ্রাঁ ফ্রান্সের কাছ থেকে আদায় করা হয় , ফ্রান্সের সীমানা পুনর্গঠন করা হয় - ইত্যাদি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নীতি :- 
মেটারনিখ একদিকে ইউরোপীয় রাজনীতিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন ও রক্ষনশীলতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন ; এবং অন্যদিকে ইউরোপীয় রাজনীতিতে অস্ট্রিয়ার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যে বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ গ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বকে অস্বীকার করেননি। 

৮. কার্লসবাড ডিক্রি :- 
মেটারনিখ উদারনৈতিক ভাবধারাকে স্বমূলে উৎখাত করতে চেয়েছিলেন। তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বৌদ্ধিক জগতে বৈপ্লবিক ভাবধারার প্রসার প্রতিরোধ করতে না পারলে শীঘ্রই তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। এই উদ্দেশ্যে মেটারনিখ কার্লসবাড ডিক্রি জারি করেন। এই নির্দেশনামার মাধ্যমে ছাত্র , শিক্ষক , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান - সকলকেই উদারনৈতিক ও প্রগতিশীল ভাবধারা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

৯. রাজতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ :- 
নেপোলিয়ন পরবর্তী যুগে ভিয়েনা সম্মেলনের পর ইউরোপে যেসকল রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় - সেগুলি সবই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মেটারনিকের নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল। মেটারনিখ এইসকল রাজবংশগুলির উপর নিজ রক্ষণশীল আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি রাজবংশগুলিকে নির্দেশ দিতেন - শাসন করুন , কিন্তু পরিবর্তন করবেন না ( Govern but change nothing ) । 

১০. অস্ট্রিয়াতে একচ্ছত্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা :- 
ভিয়েনা সম্মেলনের পর অস্ট্রিয়াতে মেটারনিকের একচ্ছত্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি অস্ট্রিয়ার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈপ্লবিক আদর্শ প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে - দর্শন , নীতিশাস্ত্র , যুক্তিবিদ্যা - ইত্যাদি প্রগতিশীল বিষয়গুলি পঠন - পাঠন বন্ধের নির্দেশ দেন। এমনকী , তাঁর নির্দেশ যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে কি'না তার উপর নজর রাখার জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুপ্তচর নিয়োগ করেছিলেন। 

পরিশেষে বলা যায় , ১৮১৫ থেকে ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ইউরোপীয় রাজনীতিতে মেটারনিকের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকলেও , মেটারনিকের নীতিগুলির মধ্যেই লুকিয়ে ছিল - তার পতনের কারণ। কেননা , মেটারনিকের প্রতিটি সিদ্ধান্ত বলপূর্বক ইউরোপীয় শক্তিবর্গের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় ; তাতে জনসমর্থনের লেশমাত্র ছিলনা।    

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো   
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার শর্তগুলি আলোচনা কর।  




বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার শর্ত:-

বিচারবিভাগ হল নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও গণতন্ত্রের প্রধান রক্ষাকর্তা। বিচারবিভাগ সরকারের স্বৈরাচারী মানসিকতা প্রতিহত করে , জনস্বার্থ বিরোধী আইন প্রণয়নে বাধা প্রদান করে বা বাতিল করে দেয় এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে। তাই বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করা একান্ত অপরিহার্য। বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা বেশ কয়েকটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন - 

১. ক্ষমতা স্বাতন্ত্রীকরণ নীতির প্রয়োগ :- 
সরকারের মূল তিনটি বিভাগ - আইন , শাসন ও বিচার। রাষ্ট্রীয় নীতিতে ক্ষমতা স্বাতন্ত্রীকরণ নীতি গৃহীত হলে অপর দুই বিভাগ বিভাগকে কম প্রভাবিত করতে পারে বা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারায়। শাসন বা আইন বিভাগ যদি খুব সহজেই বিচারপতিদের পদচ্যুত করতে পারে , তাহলে বিচার প্রক্রিয়ায় তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার্থে ক্ষমতা স্বাতন্ত্রীকরণ নীতি অনুসরণ করা একান্তভাবে কাম্য। 

২. বিচারপতিদের যোগ্যতা :- 
পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতিদের আরো বেশ কিছু মানবিক ও সামাজিক যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়। এইসকল যোগ্যতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল - সততা , নির্ভীকতা , যুক্তিবাদিতা , রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা - ইত্যাদি। এছাড়াও বিচারপতিদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখা একান্ত প্রয়োজন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. বিচারপতিদের নিয়োগ :- 
বিভিন্ন রাষ্ট্রে বিচারপতিদের নিয়োগ পদ্ধতির মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। যেমন - ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র - ইত্যাদি দেশে উচ্চ আদালতগুলির বিচারপতিগণ শাসনবিভাগ কর্তৃক নিযুক্ত হন। এক্ষেত্রে , বিচারপতিদের সম্পূর্ণরূপে শাসন বিভাগের প্রভাবমুক্ত রাখা অনেকসময় সম্ভব হয়না। 
আবার , সুইজারল্যান্ড , বুলগেরিয়া - ইত্যাদি দেশে বিচারপতিগণ আইনসভা কর্তৃক নিযুক্ত হন। ফলে বিচারপতিদের নিয়োগ ও কার্যকাল নির্ভর করে আইনবিভাগের সদস্যদের ইচ্ছা - অনিচ্ছার উপর। 
অন্যদিকে , বিচারকগণ যদি জনগণ কর্তৃক নিযুক্ত হন - তাহলেও বিচারকদের পক্ষে পক্ষপাতহীন বিচারকার্য পরিচালনা করা সম্ভব হয়না। 
এক্ষেত্রে উল্লেখ করা প্রয়োজন , এখনও পর্যন্ত কোনো বিচারবিভাগেই বিচারপতি নিয়োগের সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত কোনো পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি। 

৪. বিচারপতিদের কার্যকাল :- 
বিচারপতিরা স্বল্প সময়ের জন্য নিযুক্ত হলে তাদের মধ্যে দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে উঠবার সম্ভাবনা দেখা যায় এবং নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আনুগত্য তৈরী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। তাই বিচারপতিদের কার্যকাল একটি নির্দিষ্ট বয়স বা সময়কাল পর্যন্ত থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়। 

৫. বিচারপতিদের অপসারণ :- 
বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টি বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নটির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সাধারণতঃ আইনবিভাগ ও শাসনবিভাগের হাতে উচ্চ পদস্থ বিচারপতিদের অপসারণের বিষয়টির দায়ভার অর্পিত থাকে। কিন্তু বিচারপতিদের পদচ্যুত করার ক্ষেত্রে আইন বা শাসনবিভাগের যদি কোনো সংকীর্ণ স্বার্থ জড়িত থাকে - তাহলে তা বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে অনুকূল নয়। তাই বেশিরভাগ শাসনতন্ত্রে কেবলমাত্র অযোগ্যতা , দুর্নীতি , সাংবিধানিক অধিকারভঙ্গ - ইত্যাদি সংবেদনশীল অভিযোগ ছাড়া বিচারপতিদের পদচ্যুত করা যায়না। 

৬. বিচারপতিদের বেতন সংক্রান্ত বিষয় :- 
প্রতিটি বিচারালয়ের বিচারপতিদের বেতন , ভাতা - ইত্যাদি পদাধিকারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে স্থির করা উচিত। বিচারপতিদের বেতন যদি প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট না হয় তাহলে বিভিন্ন সমস্যার সম্ভাবনা দেখা দেয় ; যেমন - 
(ক ) বিচারপতিদের মধ্যে দুর্নীতিপরায়ণ হওয়ার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। 
(খ ) যোগ্য ব্যক্তিরা বিচারপতির পদ গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করতে পারেন। 
(গ ) বিচারপতিরা পদে থাকাকালীন অন্য বৃত্তি বা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে পারেন - যা বিচারব্যবস্থার মর্যাদার পক্ষে মোটেও শোভনীয় নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. চাকুরী সংক্রান্ত নিরাপত্তাবিধান :- 
বিচারকদের চাকুরী সংক্রান্ত বিভিন্ন শর্ত , পদের স্থায়িত্ব ও কার্যকাল - ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হলে বিচারপতিরা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করতে পারেন। 

৮. সামাজিক নিরাপত্তাবিধান :- 
নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য সম্পাদন করতে গিয়ে বিচারপতিদের অনেকসময় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী , সমাজবিরোধী , রাজনৈতিক নেতা , সমাজবিরোধী - ইত্যাদির বিরুদ্ধে রায় প্রদান করতে হয় ও শাস্তির বিধান দিতে হয়। তাই বিচারপতিদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্ছিদ্র হওয়া উচিত যাতে তারা কোনোপ্রকার হুমকি বা ভীতিপ্রদর্শনের সম্মুখীন না হন। 

৯. এছাড়াও বিচারপতিদের জনমতের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা উচিত। বিচারকার্যে জনমতের প্রভাব নিরপেক্ষ বিচারের পক্ষে কাম্য নয়। 

পরিশেষে বলা যায় , বিচারবিভাগের স্বাধীনতা বহুলাংশে নির্ভর করে বিচারপতিদের ব্যাক্তিগত চরিত্র ও ব্যক্তিত্ত্বের উপর। কেননা , আইন বিভাগ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাসনবিভাগ সংকীর্ণ স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে বিচারবিভাগকে প্রভাবিত করতে চায়। তাই বিচারব্যবস্থার সম্পূর্ণ স্বাধীনতা রক্ষা সম্ভব নয়। অ্যালান বল বিচারবিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার বিষয়টিকে আধা অলীক কাহিনী ( Semi - Fiction ) বলে অভিহিত করেছেন।   

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো  
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

বিচারবিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী। 




বিচারবিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলী। 


বিচারবিভাগ সমাজে ন্যায় - বিচার প্রতিষ্ঠা করে , মানুষের মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষা করে , সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধ করে। লর্ড ব্রাইস বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতাকে সরকারের উৎকর্ষতা বিচারের মানদন্ড বলে মন্তব্য করেছেন। অ্যালান বল বিচারবিভাগের কার্যাবলীকে চারভাগে ভাগ করেছেন ; যথা - (ক ) সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও বিচারবিভাগীয় আলোচনা , (খ ) বিভিন্ন ব্যক্তি , প্রতিষ্ঠান , সরকার ও রাজনৈতিক - সামাজিক সংস্থাগুলির বিরোধের মীমাংসা করা , (গ ) রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংরক্ষণ ও (ঘ ) মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা। 

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে গণতন্ত্রের প্রকৃতি নির্ভর করে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার উপর। বিচারবিভাগ যদি স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কর্তব্য পালন করতে না পারে বা দুর্নীতিগ্রস্থ হয় , তাহলে নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ উভয়ই বাধাপ্রাপ্ত হয়। তবে শুধুমাত্র মামলার বিচার করাই বিচার বিভাগের একমাত্র কাজ নয়। বিচারবিভাগের কাজ বহুমুখী। সেগুলি হল - 

১. সংবিধানের ব্যাখ্যা :- 
বিভিন্ন আদালতে বিভিন্ন মামলায় সংবিধানের ব্যখ্যা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত থাকে। সেইরকম পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটলে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার গুরুদায়িত্ব বিচারবিভাগকেই পালন করতে হয়। 

২. সংবিধানের রক্ষাকর্তা :- 
অনেকসময় আইনসভা শাসন বিভাগের চাপে বাধ্য হয়ে জনস্বার্থ বিরোধী আইন প্রণয়ন করতে হয়। কিন্তু বিচারবিভাগ এই সকল জনস্বার্থ বিরোধী আইনগুলির প্রতি সচেতন থাকে এবং সেগুলিকে বাতিল করে দেয় বা পরিবর্তন করার পরামর্শ প্রদান করে। সংবিধানের মৌলিক নীতি ও আদর্শ যাতে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় - সেদিকে বিচারবিভাগ সর্বদা নজর রাখে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. গণতন্ত্রের সদা জাগ্রত প্রহরী :- 
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বুনিয়াদ বিচারবিভাগের উপর নির্ভরশীল। নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা সরকারের স্বৈরাচারিতা রোধ করে , ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে , মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করে - বিচারবিভাগ গণতন্ত্রকে রক্ষা করে। 

৪. ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা :- 
বিশ্বের প্রতিটি দেশের প্রতিটি বিচারালয়ে সারা বছর প্রচুর মামলা জমা হয়। বিচারবিভাগ সেই সকল মামলাগুলির নিরপেক্ষ নিস্পত্তি করে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে ও বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখে। রাজনৈতিক ও শাসনবিভাগের চাপের কাছে মাথা নত না করে বিচার বিভাগ সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে।     

৫. বিরোধের মীমাংসা :- 
মামলার বিচার ছাড়াও বিচারবিভাগকে বিভিন্ন ধরণের বিরোধের মীমাংসা করতে হয়। যেমন - কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে এক বা একাধিক রাজ্যের বিরোধ , এক রাজ্যের সঙ্গে অপর এক বা একাধিক রাজ্যের বিরোধ , একাধিক রাজ্যের সঙ্গে একাধিক রাজ্যের বিরোধ , আইনবিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে বিরোধ - ইত্যাদি। 

৬. আইনের প্রয়োগ সংক্রান্ত কাজ :- 
শুধুমাত্র প্রচলিত আইনের সাহায্যে বিচার কার্য সম্পাদন করাই নয় - তার সঙ্গে সঙ্গে আইনভঙ্গকারীকে আইনানুগ শাস্তি প্রদান করাটাও বিচার বিভাগের কাজ। বর্তমানে বিচারবিভাগ ব্যতীত সরকারের অন্য কোনো বিভাগ বা সংস্থা নাগরিকদের শাস্তি প্রদান করতে পারেনা। 

৭. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ :- 
শাসন বিভাগ অনেক সময় স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন হয়ে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও অন্যান্য নাগরিক অধিকারগুলি সংকুচিত করতে চায় , বিরোধী কণ্ঠস্বর ধামাচাপা দিতে চায়। এর সঙ্গে জড়িত থাকে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতা। তাই এইসকল ব্যবস্থার বিরুদ্ধে মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে বিচারবিভাগকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৮. নির্দেশ প্রদান :- 
বিচারবিভাগ যেকোনো ব্যক্তি , সংস্থা , প্রতিষ্ঠান , রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার - সকলকে নিজ নিজ কার্য যথাযথভাবে পালনের জন্য নির্দেশ দান করতে পারে। এমনকী , উর্দ্ধতন আদালত নিম্নতর আদালতকেও এমন নির্দেশ দিতে পারে। আদালতের এই নির্দেশ অমান্য করলে তা আদালত অবমাননার শাস্তিযোগ্য অপরাধে পরিণত হয়। 

৯. পরামর্শ প্রদান :- 
বিচারবিভাগ - আইন ও শাসন বিভাগকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদান করতে পারে। আবার অনেকসময় আইনবিভাগ ও শাসন বিভাগ - বিচারবিভাগের কাছ থেকে পরামর্শ প্রার্থনা করে। তবে , বিচারবিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত পরামর্শ আইন বা শাসন বিভাগ মেনে চলতে বাধ্য নয়। 

১০. লেখ জারির ক্ষমতা :- 
লেখ জারির ক্ষমতা হল মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষার্থে বিচারবিভাগের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা। বিচারবিভাগ যেকোনো আটককারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে পারে আটক হওয়া ব্যক্তিকে বিচারালয়ে উপস্থিত করানোর জন্য। বিচারবিভাগের এই ক্ষমতাটির জন্য মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত হয় ও সরকারের স্বৈরাচার রোধ করা যায়। 

১১. বিচারক প্রণীত আইন :- 
বিচারালয়ে যে সকল মামলাগুলি জমা হয় তার মধ্যে কোনো কোনো এমন থাকে যে , প্রচলিত আইনের সাহায্যে তার নিস্পত্তি করা সম্ভব হয়না। বিচারপতিগণ সেই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আইনের ব্যাখ্যার মাধ্যমে , পূর্বে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায়ের মাধ্যমে সেই মামলাগুলির বিচার করেন। এর ফলে নতুন নতুন আইন সৃষ্টি হয়। এগুলিকে বিচারক প্রণীত আইন বলা হয়। 

১২. নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা :- 
বিচারবিভাগ নিজ কার্যক্ষেত্র পরিচালনার জন্য প্রচুর সংখ্যক কর্মচারী নিয়োগ করে। তাদের নিয়োগ ও পদচ্যুতি সংক্রান্ত সমস্ত ক্ষমতা থাকে বিচারবিভাগের হাতে।     

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভার কার্যাবলী আলোচনা কর।  




আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভার কার্যাবলী আলোচনা কর।  

যেকোনো রাষ্ট্রে আইনসভার প্রধান কাজ হল আইন প্রণয়ন ও আইন সংশোধন। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইনসভা পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা উপভোগ করে। আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট বা দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট উভয়ই হতে পারে এবং উভয় ক্ষেত্রেই আইনসভা আইন প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে আধুনিক রাষ্ট্রে আইন প্রণয়ন ছাড়াও আইনসভাকে আরও বিভিন্ন কাজ করতে হয়। আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভার প্রধান কাজগুলি হল - 

১. আইন প্রণয়ন :- 
আইন প্রণয়ন করা হল আইনসভার প্রধান কাজ। আইন প্রণয়নের সময় জনগণের ইচ্ছা - অনিচ্ছা , আশা - আকাঙ্খা - ইত্যাদি বিষয়গুলির প্রতি আইনসভার সদস্যরা বিশেষ দৃষ্টি রাখেন। এছাড়াও পরিবর্তনশীল জনমত এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখতে হয়। 

২. আইন সংশোধন :- 
পরিবর্তনশীল সমাজ ও গতিশীলতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিভিন্ন আইনকে সময়ে সময়ে সংশোধন করতে হয়। আইন সভায় প্রস্তাব উপস্থাপন , আলোচনা , ভোটাভুটি - ইত্যাদির মাধ্যমে আইনসভা আইন সংশোধন করে। 

৩. জনগণের চাহিদার বাস্তবায়ন :- 
আইনসভার মাধ্যমেই জনগণের ইচ্ছা - অনিচ্ছা , আশা - আকাঙ্খা , ও বিভিন্ন চাহিদার বাস্তবায়ন ঘটে। জনপ্রতিনিধিগণ জনগণের চাহিদার বিষয়গুলি আইনসভায় উপস্থাপন করেন এবং তার ভিত্তিতে আইন প্রণীত হলে জনগণের চাহিদার বাস্তবায়ন ঘটে। 

৪. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ :- 
সংসদীয় শাসন ব্যবস্থায় শাসন বিভাগ নির্বাচিত হয় আইনসভার মধ্যে থেকেই। তাই শাসন বিভাগের অস্তিত্ব ও কার্যকাল নির্ভর করে আইন বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনের উপর। শাসনবিভাগকে সরাসরি আইনবিভাগের প্রতি দায়িত্বশীল থাকতে হয়। শাসন বিভাগের কোনো সিদ্ধান্ত আইন সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন না পেলে তা বাতিল হয়ে যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ :- 
আইনসভা তার সকল সদস্যদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। অনৈতিকতা , দুর্নীতি , শৃঙ্খলাভঙ্গ - ইত্যাদি ঘটনা ঘটলে আইনসভা অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। 

৬. বাজেট সংক্রান্ত কাজ :- 
সরকারি আয় - ব্যয়ের সমস্ত হিসাব , পরবর্তী অর্থবর্ষের জন্য বিভিন্ন ব্যয় - বরাদ্দ - ইত্যাদি বিষয় বা বাজেট আইনসভাতেই উপস্থাপন করা হয় এবং আইনসভার সমর্থনের ভিত্তিতে সেই সকল ব্যয় - বরাদ্দ নিয়ন্ত্রিত হয়। 

৭. কর সংক্রান্ত কাজ :-
যেকোনো ধরণের নতুন কর প্রবর্তন করতে বা প্রচলিত করের পুনর্বিন্যাস করতে আইনসভার অনুমতি প্রয়োজন হয়। আইনসভার অনুমতি ছাড়া কোনো নতুন কর ধার্য্য করা যায়না। 

৮. জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা রূপায়ণ :- 
আইনসভার সদস্যরা রাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে নতুন সরকারি নীতি প্রবর্তিত হয়। তাই জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণের ক্ষেত্রে আইনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

৯. বিচারপতিদের পদচ্যুতি সংক্রান্ত কাজ :- 
সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় গুরুতর অভিযুক্ত বিচারপতিদের পদচ্যুতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আইনসভাকেই পালন করতে হয়। যেমন ভারতে , হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের আইনসভায় উপস্থিত দুই - তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থনে পদচ্যুত করা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১০. বিভিন্ন কমিটি ও কমিশন গঠন :- 
আধুনিক জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রগুলিতে অর্থনৈতিক , সামাজিক , শিক্ষামূলক , সংখ্যালঘু উন্নয়ন , নারী ও শিশু কল্যাণ , দুর্নীতি প্রতিরোধ - ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য আইনসভা বিভিন্ন কমিটি ও কমিশন নিয়োগ করে। এই কমিটি ও কমিশনগুলি সরাসরি আইনসভার প্রতি দায়বদ্ধ থাকে। 

১১. নির্বাচন সংক্রান্ত ক্ষমতা :- 
সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলিতে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করাও হল আইনসভার অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। যেমন ভারতে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনসভার ভূমিকাই প্রধান। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আপদকালীন অবস্থায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে মার্কিন কংগ্রেস। 

১২. রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ :- 
আইনসভাতে যেকোনো খসড়া বিল উপস্থাপনের সময় সদস্যদের মধ্যে সেই খসড়া বিল সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ - আলোচনা , তর্ক - বিতর্ক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। এই তর্ক বিতর্ক সংবাদপত্র , দূরদর্শন - ইত্যাদি গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ ঘটে। 

১৩. শিক্ষামূলক কাজ :- 
বিভিন্ন আইনসভাতে নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্র - ছাত্রী , গবেষক ও অনুসন্ধিৎসু মানুষদের জন্য আইনসভাতে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়। ফলে আইনসভার কার্যপদ্ধতি তাঁরা স্বচক্ষে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন এবং সংসদীয় কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের অভিজ্ঞতার বিকাশ ঘটে। 

১৪. জরুরি অবস্থা সংক্রান্ত ক্ষমতা :- 
রাষ্ট্রের আপদকালীন পরিস্থিতিতে শাসন বিভাগ জরুরি অবস্থা জারি করে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করার সরকারি সিদ্ধান্তকে আইনসভা কর্তৃক অনুমোদিত হতে হয়। তা না হলে জরুরি অবস্থার নির্দেশ বাতিল হয়ে যায়। 

১৫. বিচারালয় সংক্রান্ত্র ক্ষমতা :- 
কোনো নতুন বিচারালয় স্থাপন করা , বিচারালয়ের ক্ষমতার পরিধি সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা , অধঃস্তন আদালতকে উর্ধ্বতন আদালতে পরিণত করা - ইত্যাদি দায়িত্বও আইনসভাকে পালন করতে হয়। 

পরিশেষে বলা যায় , পৃথিবীর সকল রাষ্ট্রের আইনসভার  ক্ষমতা ও কার্যাবলী এক প্রকারের নয়। যেমন ভারতের আইনসভা শাসনবিভাগ ও রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও মার্কিন কংগ্রেস রাষ্ট্রপ্রধানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা ; কেননা মার্কিন রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন।   

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা ও দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পার্থক্য।  



এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা ও দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার পার্থক্য।  



১. গণতান্ত্রিকতার ক্ষেত্রে পার্থক্য :-  
এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা সম্পূর্ণরূপে গণতান্ত্রিক। কেননা , এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় সদস্যরা সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন। 
পক্ষান্তরে দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষের সদস্যদের নির্বাচনের ক্ষেত্রে জনগণের কোনো ভূমিকা থাকেনা। তাই , গণতন্ত্রের প্রেক্ষিতে বিচার করতে হলে এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভাই কাম্য। 

২. দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট হলে - আইন প্রণয়ন , আইন পরিবর্তন , সিদ্ধান্ত গ্রহণ - ইত্যাদি কাজ খুব দ্রুততার সঙ্গে করা যায়। 
অন্যদিকে , দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় নিম্নকক্ষ ও উচ্চকক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরী হলে সিদ্ধান্তগ্রহনের ক্ষেত্রে অযথা বিলম্ব হয়। 

৩. জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে পার্থক্য :-  
আপৎকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজন হয়। এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় যেহেতু দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হয় , তাই জরুরি অবস্থার সময় এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা অনেক বেশি কার্যকর। 
কিন্তু , দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় আলোচনা , তর্ক - বিতর্ক - ইত্যাদির ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হয়। তাই জরুরি অবস্থার ক্ষেত্রে দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা উপযুক্ত নয়।   

৪. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে পার্থক্য :-  
যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় জাতীয় ও প্রাদেশিক স্বার্থ সুরক্ষিত হয় দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা দ্বারা। কিন্তু আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট হলে প্রাদেশিক স্বার্থগুলি উপেক্ষিত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। তাই যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা উপযুক্ত নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. ব্যায়ভারের ক্ষেত্রে পার্থক্য :-  
দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার তুলনায় এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার ব্যায়ভার অনেকটা কম। আইনসভায় দুটি কক্ষ থাকলে বহুসংখ্যক সদস্যদের জন্য আর্থিক ব্যয় প্রচুর হয়। কিন্তু এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় সেই ব্যায়ভার অনেকটা কমিয়ে ফেলা যায় এবং সেই অর্থ জাতীয় উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যে ব্যয় করা যেতে পারে। 

৬. সংখ্যালঘু শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে পার্থক্য :-  
কোনো কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতে , আইনসভা দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট হলে উচ্চ কক্ষ সংখ্যালঘু শ্রেণীর স্বার্থরক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। কেননা , উচ্চকক্ষে সংখ্যালঘু শ্রেণী যথেষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি পাঠাতে পারে। 
কিন্তু এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সংখ্যালঘু প্রতিনিধি না থাকলে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।   

৭. স্বৈরাচারের ক্ষেত্রে পার্থক্য :-  
দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রক রূপে কাজ করে এবং নিম্নকক্ষের স্বৈরাচার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।  
কিন্তু , আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট হলে আইনসভার স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। যেহেতু আইনসভাতে শাসক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে , তাই শাসক দল নিজেদের স্বার্থের অনুকূলে যেকোনো ধরণের আইন প্রণয়ন করতে পারে। সেক্ষেত্রে এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায় থাকে না। 

৮. সুচিন্তিত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পার্থক্য :-  
আইনসভার উচ্চ কক্ষ হল জ্ঞানীগুণী মানুষদের সমাবেশ। তাই যেকোনো ধরণের আইন প্রণয়ন করার সময় উচ্চ কক্ষের বিশেষজ্ঞরা সেই সকল প্রস্তাবিত আইন গুলির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে পারেন ও প্রয়োজনে তার পরিবর্তন  করতে পারেন। 
কিন্তু আইনসভা এককক্ষ হলে তা সম্ভব হয়না। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৯. সদস্যদের যোগ্যতা সংক্রান্ত পার্থক্য :- 
এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার সদস্যরা জনগণ  কর্তৃক সরাসরি নির্বাচিত হন। তাঁরা দক্ষ রাজনীতিবিদ হলেও আইন প্রণয়নের যে সকল যোগ্যতা ও দক্ষতা দরকার হয় , অনেক সময় তা জনপ্রতিনিধিদের থাকেনা। ফলে তাঁদের তৈরী আইন কতটা জনকল্যাণের কাজে আসবে - তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। 
কিন্তু , উচ্চ কক্ষ হল জ্ঞানীগুণী মানুষদের সমাবেশ। তাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে অসামান্য জ্ঞান ও দক্ষতার অধিকারী হয়ে থাকেন। 

১০. রাজনৈতিক শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে পার্থক্য :-  
এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভাতে যেহেতু শুধুমাত্র শাসক দলের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয় , তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তর্ক - বিতর্ক , আলোচনা - ইত্যাদির কোনো অবকাশ থাকেনা। ফলে যেকোনো ধরণের আইন , সিদ্ধান্ত ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ মাধ্যম ও জনসাধারণের কোনো আগ্রহ থাকেনা। ফলে জনসাধারণের মধ্যে রাজনৈতিক শিক্ষার বিস্তার ঘটেনা। 

১১. গঠনগত ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
দ্বি -কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় দুটি কক্ষ থাকে - নিম্নকক্ষ ও উচ্চ কক্ষ। নিম্নকক্ষের প্রতিনিধিরা জনগণ কর্তৃক সরাসরি নির্বাচিত হন এবং উচ্চ কক্ষের প্রতিনিধিরা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক দলগুলি কর্তৃক নির্বাচিত হন। 
কিন্তু এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভায় একটিমাত্র কক্ষ থাকে এবং প্রতিনিধিরা জনগণ কর্তৃক সরাসরি নির্বাচিত হন। 

১২. অস্তিত্ব বিষয়ক পার্থক্য :- 
আধুনিক বৃহৎ রাষ্ট্রগুলি সাধারণতঃ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অনুসরণ করে এবং সেখানে দ্বি - কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। 
অন্যদিকে এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা সাধারণতঃ এককেন্দ্রিক ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলিতে পরিলক্ষিত হয়। তবে এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ব্যাতিক্রম। একটি বৃহৎ রাষ্ট্র ও বিপুল জনসংখ্যা বিশিষ্ট রাষ্ট্র হওয়া স্বত্ত্বেও চীনে এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা লক্ষ্য করা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Newer Posts
Older Posts

Followers

Pages

  • Home
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • CONTACT ME
  • About Me

Contact Form

Name

Email *

Message *

About me

Hallow viewers , myself Nandan Dutta [Subhankar Dutta], reside at Maheshpur,Malda.
I made this website for the students of B.A. courses under Gour Banga University. Here you can get suggestions of different subjects like HISTORY , SOCIOLOGY , POLITICAL SCIENCE & EDUCATION.
In future I will add MCQ sections of those subjects.


Categories

  • 1ST SEMESTER SUGGESTION (1)
  • 2 ND YEAR SUGGESTION (1)
  • 2ND SEMESTER (1)
  • 3RD SEMESTER (8)
  • BENGALI NOTES (21)
  • CU suggestion. (1)
  • EDUCATION NOTES (141)
  • ENGLISH COMPULSORY (16)
  • GBU Suggestion. (7)
  • HISTORY EUROPE & WORLD (46)
  • HISTORY NOTES (68)
  • POL SC NOTES (69)
  • SOCIOLOGY NOTES (72)
  • WBCS 2020 (1)

recent posts

Blog Archive

  • November 2025 (1)
  • August 2025 (4)
  • May 2025 (3)
  • April 2025 (20)
  • March 2025 (12)
  • February 2025 (8)
  • November 2024 (5)
  • October 2024 (2)
  • September 2024 (2)
  • June 2024 (2)
  • March 2024 (6)
  • February 2024 (4)
  • October 2023 (5)
  • May 2023 (5)
  • April 2023 (1)
  • December 2022 (1)
  • November 2022 (13)
  • September 2022 (2)
  • August 2022 (7)
  • July 2022 (29)
  • June 2022 (10)
  • May 2022 (25)
  • April 2022 (24)
  • March 2022 (16)
  • February 2022 (19)
  • January 2022 (21)
  • December 2021 (46)
  • November 2021 (5)
  • October 2021 (6)
  • September 2021 (5)
  • August 2021 (41)
  • July 2021 (43)
  • June 2021 (31)
  • May 2021 (7)
  • April 2021 (1)
  • July 2020 (1)
  • June 2020 (3)
  • April 2020 (1)
  • November 2019 (1)
  • July 2019 (1)
  • June 2019 (1)
  • May 2019 (1)
  • April 2019 (2)
  • January 2019 (1)

Pages

  • Home
  • 2nd SEM ভাষাতত্ত্ব :
  • বাংলা উপভাষা
  • দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব
  • ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলি আলোচনা করো।
  • হর্ষবর্ধনের কৃতিত্ব আলোচনা করো। তাকে কি উত্তর পথনাথ বলা যায় ?
  • ভারতীয় সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
  • উদারনীতিবাদ : সংক্ষিপ্ত ধারণা :-
  • চোল শাসনব্যবস্থা :-
  • গুপ্তযুগ সুবর্ণযুগ সম্পর্কিত আলোচনা।
  • ৬. উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলাভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট আল...
  • 1. Marxism
  • আধুনিক বাংলা ভাষা ও তার বৈশিষ্ট।
  • Discuss the career and achievements of Samudragupta .
  • ভাষাতত্ত্ব

Created with by ThemeXpose | Distributed by Blogger Templates