Pages

Powered by Blogger.
1ST SEMESTER SUGGESTION 2 ND YEAR SUGGESTION 2ND SEMESTER 3RD SEMESTER BENGALI NOTES CU suggestion. EDUCATION NOTES ENGLISH COMPULSORY GBU Suggestion. HISTORY EUROPE & WORLD HISTORY NOTES POL SC NOTES SOCIOLOGY NOTES WBCS 2020

NANDAN DUTTA

A new approach for exam notes .

পঠন কর্মভার কাকে বলে ? পঠন কর্মভারের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা করো। পঠন কর্মভারের সুবিধা ও অসুবিধাগুলি লেখ। 



এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

পঠন কর্মভার বা Reading Assignment এর ধারণা : -  


শিক্ষায় শিক্ষার্থীর কর্মসম্পাদনামূলক দুটি প্রধান উপাদান হল - পঠন ও লিখন। শিক্ষারম্ভের শুরুতেই পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীর জীবনে আসে পঠন ও লিখন। মুখগহ্বর , শ্বাসবায়ু , নাসিকা ও মুখগহ্বরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অংশগুলির সমন্বয়ে শুরু হয় আমাদের কথা বলা। বর্ণমালার সাথে কথা বলাকে যুক্ত করে শুরু হয় বর্ণমালার পাঠ। তারপর ধীরে ধীরে শব্দ এবং শব্দ থেকে বাক্য গঠনে শিক্ষার্থী অভ্যস্থ হয়ে ওঠে। 
সরব পঠন শিক্ষার্থীদের শিখনে মনোযোগী ও আগ্রহী করে তোলে। তাই পঠন কর্মভার হল একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক মনোযোগী প্রক্রিয়া। 

পঠন কর্মভারের বৈশিষ্ট :- 


পঠন কর্মভারের বৈশিষ্টগুলি হল - 
১. শিক্ষার্থীদের মানসিক দক্ষতাকে বাড়িয়ে দেয়। 
২. বিশ্লেষণমূলক পঠন শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে। 
৩. সকল বিষয়ের সঙ্গে এটি যুক্ত এবং সকল বিষয় থেকে জ্ঞান সরবরাহ করে। 
৪. পঠনযোগ্য বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থী স্বাধীনভাবে নির্বাচন করে। কিন্তু এখানে শিক্ষক - শিক্ষিকাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অবশ্য প্রয়োজন। 
৫. পাঠ্যপুস্তক ব্যতিরেকে অন্যান্য পঠনযোগ্য বিষয়বস্তুগুলিকেও এখানে প্রয়োজন হয়। 
৬. এটি সম্পূর্ণ এক শিক্ষামূলক কর্মসূচি। 
৭. প্রত্যেক শিক্ষার্থীরা এখানে যুক্ত হতে পারে। 
৮. শিক্ষক শিক্ষিকা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
৯. ধারণা গঠন ও নীতিসহ জ্ঞান সাধারণীকরণে এই পঠন কর্মভার এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। 
১০. শিক্ষক ও তার শিক্ষণকে সক্রিয় রাখে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


পঠন কর্মভারের সুবিধা :- 

পঠন কর্মভার শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ , কেননা তা শিক্ষার্থীর শ্রবনে ও মননে প্রভাবিত করে। পঠন কর্মভারের প্রধান সুবিধাগুলি হল - 
১. শিক্ষার্থীর বৌদ্ধিক বিকাশকে বৃদ্ধি করে। 
২. শিক্ষার্থীর বুদ্ধির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। 
৩. শিক্ষার্থীর মনের জটিল অংককে সরল করে তোলে। 
৪. পঠন বিষয় নির্বাচন করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
৫. শিক্ষার্থীর নিজের জ্ঞানের ভান্ডার গঠন করে। 
৬. শিক্ষার্থীর নিকট পাঠ্যপুস্তক গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। 
৭. পাঠ্যগ্রন্থের বিশেষ বিশেষ অংশের প্রতি আকর্ষিত হয়ে শিক্ষার্থী নিজস্ব বোধ বিকশিত করতে অনুপ্রাণিত হয়। 
৮. শিক্ষার্থী বিশেষ অংশ থেকে ক্রমে ক্রমে অনুসন্ধানী ও গবেষণাপ্রবণ হয়ে ওঠে। 
৯. শিক্ষার্থীর শব্দভান্ডার ও তথ্য ভান্ডার তৈরী হয়। 
১০. পঠন কর্মভার শিক্ষার্থীদের স্বাধীন শিখনে অনুপ্রাণিত করে। ফলে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র পরিমাপ করা যায়। 

পঠন কর্মভারের অসুবিধা :- 

পঠন কর্মভারের অসুবিধাগুলি হল - 
১. পঠন কর্মভার শিখনের একমুখী পথ ; তাই এই শিখন সীমাবদ্ধ। 
২. পঠন কর্মভার অর্থহীন হয়ে যায় , যখন শিক্ষার্থী হাতে কলমে অভিজ্ঞতা লাভ করে এবং সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করে। 
৩. পঠনে শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান কয়েকটি ভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ। শিক্ষকের ব্যাখ্যা যুক্ত হলে , তবেই তা সম্পূর্ণ হতে পারে , না হলে অর্ধেক জ্ঞান লাভ হয়। 
৪. এখানে কেবল জ্ঞানের বিকাশ হয় , অন্যান্য মাত্রাগত দিকের বিকাশ হয় না। 
৫. আদর্শ পঠনযোগ্য বিষয় না হলে আদর্শ শিখন হবে না। 
৬. অনেক ক্ষেত্রে পঠন কর্মভার শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন এক বোধের সঞ্চার করে যে , এখানে শিক্ষকের শিক্ষন কার্যকরী হয়না। কেননা , তারা অনেক সময় পঠনের সাথে সাথে বোধগম্যতার স্তরে পৌঁছতে পারেনা। 
৭. ঋণাত্মক পঠন কর্মভার শিক্ষার্থীর মধ্যে ঋণাত্মক মূল্যবোধ , অভ্যাস , মনোবৃত্তি ও ব্যক্তিসত্তা গড়ে তোলে।      

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


Share
Tweet
Pin
Share
No comments

বক্তৃতা পদ্ধতি ও প্রতিপাদন পদ্ধতির তুলনামূলক আলোচনা / পার্থক্য :- 



এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বক্তৃতা পদ্ধতি ও প্রতিপাদন পদ্ধতি উভয়ই বহুল প্রচলিত ও ব্যবহৃত। এর মধ্যে বক্তৃতা পদ্ধতি অন্যান্য পদ্ধতিগুলির তুলনায় অধিক প্রচলিত। বর্তমানে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা যত বাড়ছে বক্তৃতা পদ্ধতির ব্যবহার তত বাড়ছে। পাশাপাশি প্রতিপাদন পদ্ধতিও বিদ্যালয় বিশেষে ব্যবহৃত হচ্ছে। একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানের জন্য এই পদ্ধতিটি বেশি ব্যবহার উপযোগী। সহজে এবং দ্রুততায় সাধারণ বিদ্যালয় পরিবেশে এই পদ্ধতিদ্বয় ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু এই পদ্ধতিদ্বয় বাস্তব দিক থেকে পৃথক। এই দুই পদ্ধতির পার্থক্যগত দিকগুলি হল - 

১. প্রতিপাদন পদ্ধতির কোনো কোনো স্তরে বক্তৃতা পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়। কিন্তু বক্তৃতা পদ্ধতিতে প্রতিপাদন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় না।   
  
২. বক্তৃতা পদ্ধতিতে শিক্ষক - শিক্ষিকা সক্রিয় থাকেন। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে শিক্ষক - শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী একত্রে সক্রিয় থাকে। 

২. বক্তৃতা পদ্ধতিতে শিক্ষনের মাধ্যম হল ভাষা। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে শিক্ষনের বহুবিধ মাধ্যম বর্তমান। যেমন - ভাষা , শিক্ষন প্রদীপন , ব্ল্যাকবোর্ড।  প্রশ্নাবলি - ইত্যাদি। 

৩. বক্তৃতা পদ্ধতিতে ভাষা একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সঠিক ও যথার্থ হয় না। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে শিক্ষন প্রদীপন ও ব্ল্যাকবোর্ডের মাধ্যমে বিষয়জ্ঞান শ্রেণীকক্ষে মূর্ত হয়ে ওঠে। ফলে , শিক্ষার্থীরা যথার্থ জ্ঞানলাভ করে। 

৪. বক্তৃতা পদ্ধতিতে অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ যথাযথ হয় না। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে অর্জিত জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ শেখানো হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তা যথাযথ হয়। 

৫. বক্তৃতা পদ্ধতিতে অনেক সময় শিক্ষার্থী অমনোযোগী ও গতানুগতিক হয়ে পড়ে। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা সবসময় পাঠে মনোযোগী থাকে। 

৬. বক্তৃতা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী নিজস্ব কৌতূহল বা জানার ইচ্ছাকে চরিতার্থ করতে পারে না। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে শিক্ষক - শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থী পারস্পরিক আলোচনার ফলে শিক্ষার্থীদের জানার ইচ্ছা পূর্ণ হয় ও তাদের নিজস্ব চিন্তনের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। 

৭. বক্তৃতা পদ্ধতি হল একমুখী প্রক্রিয়া। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। 

৮. বক্তৃতা পদ্ধতিতে পাঠ শেষ করা যায় খুব দ্রুত। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। 

৯. বক্তৃতা পদ্ধতিতে খরচ খুবই কম। কিন্তু প্রতিপাদন পদ্ধতিতে খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি। কেননা , এই পদ্ধতিতে বহুবিধ শিক্ষা উপকরণের প্রয়োজন হয়।   

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।














   
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

বক্তৃতা পদ্ধতি : ধারণা , সুবিধা , অসুবিধা ও গুরুত্ব। 



বক্তৃতা পদ্ধতি ( Lecture Method ) - র ধারণা :- 


সাধারণভাবে শিক্ষক - শিক্ষিকা যখন কেবল ভাষার মাধ্যমে শিক্ষণীয় বিষয়বস্তুকে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করেন তখন তাকে বলা হয় বক্তৃতা পদ্ধতি। মঞ্চে দন্ডায়মান কোনো ব্যক্তি যখন কোনো বিষয়কে শ্রোতাদের জন্য পরিবেশন করেন তখন তাঁর পরিবেশনকে বলা হয় বক্তৃতা। এক্ষেত্রে শ্রোতাগণ বিষয়বস্তুকে গ্রহণ করতেও পারেন বা না'ও পারেন। আবার এসময় শ্রোতা অন্য কাজে লিপ্ত থাকতে পারেন বা স্থান ত্যাগও করতে পারেন। 
কিন্তু শ্রেণিকক্ষে যখন শিখন - শিক্ষনের জন্য এই পদ্ধতিটি শিক্ষক - শিক্ষিকাগন ব্যবহার করেন , তার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা পূর্বের তুলনায় সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যায়। কারণ , এখানে শিক্ষক - শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের যথার্থ শিখনের জন্য এবং নিজের আদর্শ শিক্ষন পদ্ধতি পরিচালনাতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


বক্তৃতা পদ্ধতির সুবিধা ( Merits of Lecture Method ) :- 

১. শ্রেণিকক্ষে সহজেই পাঠদান প্রক্রিয়া পরিচালনা করা যায়। 

২. নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পাঠদান বা বিষয়সূচি শেষ করা যায়। 

৩. শিক্ষক - শিক্ষিকা নিজের মত করে পাঠ - পরিকল্পনা করতে পারেন। 

৪. বিষয়জ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান ও অনুশীলনমূলক জ্ঞানকে একত্রে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করা যায়। 

৫. দিনের পাঠ সম্পর্কে ধারণা থাকলেই শ্রেণিকক্ষে পাঠ পরিবেশন করা যায়। 

৬. একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে এই পদ্ধতিতে পাঠ প্রদান করা যায়। 

৭. এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞানের সহজ পরিমাপ করা সম্ভব হয়। 

৮. পাঠ উপস্থাপন ও ব্যাখ্যাকরণে এই পদ্ধতি খুব সহজেই ব্যবহার করা যায়। 

৯. প্রয়োজনে কিছু চার্ট , ছবি প্রভৃতি ব্যবহারের মাধ্যমে পাঠ দানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


বক্তৃতা পদ্ধতির অসুবিধা ( Demerits of Lecture Method ) :- 

১. এই পদ্ধতিটি কেবল শিক্ষক - শিক্ষিকা কেন্দ্রিক। শিক্ষার্থীদের কোনোরূপ অংশগ্রহণ এখানে থাকে না। অর্থাৎ এটি একটি একমুখী প্রক্রিয়া। 

২. শিক্ষার্থীর বোধগম্যতার স্তর শিক্ষক - শিক্ষিকা কর্তৃক এখানে মূল্যায়িত হয়না। ফলে আদর্শ শিখনের ক্ষেত্র এখানে প্রস্তুত হয়না। 

৩. যেকোনো বিষয়বস্তু এখানে শিক্ষার্থী শ্রবণ করে। কিন্তু সেটি নিয়ে সে বিশেষ ভাবতে পারেনা। 

৪. নির্দিষ্ট ধার্য সময়ে দিনের পাঠ শেষ করার তাগিদে শিক্ষক - শিক্ষিকা এখানে অধিক সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ফলে শিক্ষার্থী এখানে নিজে স্বাধীনভাবে চিন্তার সুযোগ পায়না। 

৫. এখানে কেবল জ্ঞানচর্চা হয়। শিখনের অন্যান্য বৌদ্ধিক , অনুভূতিমূলক ও মনসঞ্চালকমূলক দিকের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়না। 

৬. শ্রেণীকক্ষে একঘেয়েমি পরিবেশ তৈরী হয়ে যায় ; ফলে শিক্ষার্থীরা অমনোযোগী হয়ে পড়ে। 

৭. অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষনের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। 

৮. এই পদ্ধতিতে বিষয় উপযোগী যথার্থ জ্ঞান -বোধ - প্রয়োগ - দক্ষতার বিকাশ সম্ভব হয়না। 

৯. শিক্ষার্থীর মানসিক বিকাশ ব্যাহত হয়। 

১০. শিক্ষক - শিক্ষার্থী সম্পর্ক প্রায় ক্ষেত্রেই নিম্নগামী হয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষক - শিক্ষিকাদের নানারকম শারীরিক , বাচনিক ও প্রায়োগিক বৈশিষ্ট অনুসরণ করে তাঁদের প্রতি ভিন্নভাবে আকৃষ্ট হয় , যা প্রায়শই শিখন - শিক্ষনের উদ্দেশ্যের বিপরীত হয়। 

১১. বিষয়বস্তুর সম্পূর্ণ অংশের পাঠ এই পদ্ধতিতে দেওয়া যায় না। 

১২. প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে এই পদ্ধতি যথার্থভাবে কার্যকর নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


বক্তৃতা পদ্ধতির গুরুত্ব ( Significance / Importance of Lecture Method ) :- 

উপরোক্ত সুবিধা - অসুবিধা আলোচনা করে বলা যায় যে , কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকলেও শ্রেণিশিক্ষনে বক্তৃতা পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো শিক্ষন পদ্ধতি শ্রেণিকক্ষে ব্যবহার করা হোক না কেন , বক্তৃতা পদ্ধতি ছাড়া কোনো পদ্ধতিকেই শ্রেণিকক্ষে প্রয়োগ করা যাবে না। তাই শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সকল পদ্ধতির ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতির যথাযথ ব্যবহার উপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন - 

১. পাঠ অবতারণাতে এবং ব্যাখ্যাকরণে এই পদ্ধতির যথার্থ ব্যবহার অবশ্যই প্রত্যেক শিক্ষক - শিক্ষিকাগণ আয়ত্ত করে শ্রেণিকক্ষে যথার্থভাবে তার প্রয়োগ ঘটাতে পারেন।  

২. শুধুমাত্র বক্তৃতা বা ভাষণ ও সামান্য শিক্ষা উপকরণের ( যেমন ব্ল্যাকবোর্ড ) মাধ্যমেই শ্রেণিকক্ষে এই পদ্ধতি উপস্থাপন করা যায়। 

৩. Feedback এর পর বিষয়কে পুনরায় উপস্থাপনের জন্য এই পদ্ধতি অবশ্য প্রয়োজন। 

৪. আলোচ্য বিষয়কে বাস্তব জীবন উপযোগী করে তুলতে এই পদ্ধতির দ্বারা ব্যাখ্যা করতে হয় ও উপস্থাপন করতে হয়। 

৫. একসঙ্গে একাধিক শিক্ষার্থীকে দ্রুত শিক্ষাদান কাজে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। 

৬. শিক্ষক - শিক্ষার্থীর কোনো নিজস্ব অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে এই পদ্ধতি বিশেষ উপযোগী।

 এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


Share
Tweet
Pin
Share
No comments

1. Concept of Demonstration Method .

2. Features of Demonstration Method .

2. Merits of Demonstration Method .

3. Demerits of Demonstration Method .




প্রতিপাদন পদ্ধতি-র ধারণা :- 

শ্রেণী শিক্ষনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যথার্থ ব্যবহার উপযোগী পদ্ধতি হল প্রতিপাদন পদ্ধতি। যে পদ্ধতিতে শিক্ষক - শিক্ষিকা শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কার্যে স্থিরীকৃত বিষয়বস্তুকে যথার্থ শিক্ষণ প্রদীপনের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞানের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজন উপযোগী পরীক্ষা , উদাহরণ ও বাস্তব অবস্থার আলোচনা অনুসারে উপস্থাপন করেন তাকে বলা হয় প্রতিপাদন পদ্ধতি। 

আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতিতে বক্তৃতা পদ্ধতিকে সরিয়ে এই প্রতিপাদন পদ্ধতিকে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় প্রতিপাদন পদ্ধতির যথার্থ প্রয়োগে শিক্ষার্থী - শিখনকে আদর্শ করে এই পদ্ধতি। তাই বক্তৃতা পদ্ধতি অপেক্ষা শ্রেণিশিক্ষনে প্রতিপাদন পদ্ধতি খুবই যথার্থ এবং ব্যবহার উপযোগী। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


প্রতিপাদন পদ্ধতির মুখ্য বৈশিষ্ট :- 

১. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর যুগপৎ অংশগ্রহণ এখানে থাকে। 

২. শিক্ষার্থী যেমন শিক্ষকের শিক্ষণ কার্য মনোযোগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করে তেমনি শিক্ষক - শিক্ষিকাও শিক্ষার্থীর বোধগম্যতার মাত্রাকে পরিমাপ করেন। 

৩. শিক্ষণ উপকরণ , প্রদীপন , শিক্ষা ও শিক্ষার্থী পৃথকভাবে পাঠ্য বিষয় সাপেক্ষে ব্যবহার করেন। 

৪. শিক্ষণ দ্বারা উপনীত সিদ্ধান্তে / তত্ত্বে যেমন যথার্থ ব্যাখ্যা , উদাহরণ ও যুক্তি শিক্ষক - শিক্ষিকা উপস্থাপন করেন , তেমনি শিক্ষার্থীও যথার্থ যুক্তি , ব্যবহার , উদাহরণ ও বাস্তব ক্ষেত্র অনুযায়ী যথার্থ জ্ঞান লাভ করে। 

৫. শ্রেণীকক্ষে এই পদ্ধতিতে পাঠদানের ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী একসঙ্গে সক্রিয় থাকে। 

৬. সমগ্র শিক্ষাদান কাজে শিক্ষার্থী খুবই আগ্রহী এবং মনোযোগী হয়। সঙ্গে সঙ্গে বাস্তব জীবনে পাঠের উপযোগিতাও নিজেরা বুঝতে পারে। 

৭. পাঠ্য বিষয়কে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শিক্ষক - শিক্ষিকা শ্রেণীকক্ষে উপস্থাপন করতে পারেন। 

৮. শিক্ষার্থীরা সার্বিকভাবে বিষয়জ্ঞান অর্জন করতে পারে। নিজেদের কোনো ভ্রান্ত ধারণাকেও তারা যুক্তি সহকারে বর্জন ও পরিমার্জন করতে পারে। 

৯. একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


প্রতিপাদন পদ্ধতির সুবিধা :- 

১. এই পদ্ধতিটি সহজে ব্যবহার করা যায়। সামান্য শিক্ষা প্রদীপন , ব্ল্যাকবোর্ড ও বিষয় পরিকল্পনা থেকে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। 

২. এই পদ্ধতিতে ব্যয় কম। কিন্তু শিক্ষক - শিক্ষিকাদের বিষয় চিন্তন প্রয়োজন। 

৩. শ্রেণীকক্ষের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায়। 

৪. বক্তৃতা পদ্ধতি , প্রশ্নোত্তর পদ্ধতি , পরীক্ষা পদ্ধতি , সমস্যা সমাধান পদ্ধতি - প্রভৃতি সবগুলির সমন্বয়ে এই পদ্ধতি তৈরী। 

৫. এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শ্রবণ ক্ষমতা ও দর্শন ক্ষমতার মাধ্যমে চিন্তন দক্ষতা , পর্যবেক্ষণ দক্ষতা , বোধগম্যতার দক্ষতা ও সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর দক্ষতার বিকাশ ঘটে। 

৬. শিক্ষক - শিক্ষিকাদের পাঠের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সমানভাবে অংশগ্রহণ ঘটে। ফলে তারা সক্রিয় শিখনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। 

৭. পুস্তকভিত্তিক জ্ঞানকে এখানে বাস্তব পরীক্ষামূলক দিকে প্রয়োগ করতে শেখে। 

৮. বিষয়বস্তুগত যথার্থ ধারণা ও জ্ঞান জন্মায়। 

৯. শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক - শিক্ষার্থী সম্পর্ক মধুর হয়। 

১০. বিভিন্ন মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী সমানভাবে পাঠে অংশগ্রহণ করতে পারে। ফলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরাও এই পদ্ধতিতে খুবই উপকৃত হয়। 

১১. শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ অভিমুখী চিন্তন ও সৃজনী দক্ষতার বিকাশ ঘটে।      

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


প্রতিপাদন পদ্ধতির অসুবিধা :- 

১. শিক্ষক শিক্ষার্থী সম্পর্ক ভালো হলেও শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের শিখন চাহিদা মেটাতে পারে না। 

২. শিক্ষক - শিক্ষিকা দক্ষতার সঙ্গে পাঠ পরিচালনা করলেও শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত চাহিদা ও অসুবিধার দিকে যথাযথ দৃষ্টি দিতে পারেন না। 

৩. বিষয় অংশের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ কম থাকায় , সকল শিক্ষার্থী বিশেষত যারা শিক্ষার অগ্রগতিতে মাঝারি মানের বা পশ্চাৎপদ তাদের পক্ষে শ্রেণী শিখনে যথাযথ অংশগ্রহণ করা অসুবিধা হয়ে যায়। 

৪. আবার শিক্ষক - শিক্ষিকা যদি পশ্চাৎপদ শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ পরিকল্পনা করেন তবে শিক্ষায় অগ্রসর শিক্ষার্থীরা শ্রেণিতে অমনোযোগী হয়ে পড়বে। 

৫. বিভিন্ন স্তরের ক্রমিক পর্যায়ে যদি শিক্ষক - শিক্ষিকা এই পদ্ধতি প্রয়োগে ব্যর্থ হন বা দক্ষতা দেখাতে না পারেন , তবে শ্রেণীতে শৃঙ্খলার অভাব দেখা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।



Share
Tweet
Pin
Share
No comments



প্রাথমিক গোষ্ঠী ও গৌণ গোষ্ঠীর পার্থক্য :- 


১. ধারণার ভিত্তিতে : - 
প্রাথমিক গোষ্ঠী বলতে মুখোমুখি , প্রত্যক্ষ ও গভীর সম্পর্ক এবং সাহচর্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠীকে বোঝায়। 
অন্যদিকে গৌণ গোষ্ঠী হল প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে ওঠা পরোক্ষ , বাহ্যিক , চুক্তিনির্ভর ব্যাপ্তিহীন সম্পর্কযুক্ত গোষ্ঠীকে বোঝায়। 

২. উদাহরণ :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর উদাহরণ হল - পরিবার , অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী , খেলার দল - ইত্যাদি। 
অন্যদিকে গৌণ গোষ্ঠীর উদাহরণ হল - রাজনৈতিক দল , রাষ্ট্র - ইত্যাদি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


৩. উৎপত্তি :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠী স্বতঃপ্রণোদিত বা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে তৈরী হয়। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরী হয়। 

৪. আকার :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠী আকারে ছোট হয়। গোষ্ঠীর আকার যত ছোট হয় , পারস্পরিক সম্পর্ক তত দৃঢ় হয়। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠী আকারে খুব বড় হয়। এমনও গোষ্ঠী আছে যারা সারা পৃথিবীজুড়ে থাকতে পারে। 

৫. সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে প্রাথমিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। এই প্রাথমিক সম্পর্ক হল মুখোমুখি , অন্তরঙ্গ , ব্যক্তিগত , একাত্মতাপূর্ণ। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীতে গৌণ সম্পর্কের প্রাধান্য দেখা যায়। এ জাতীয় সম্পর্ক পরোক্ষ , বাহ্যিক , চুক্তিনির্ভর হয়ে থাকে। 

৬. স্থায়িত্ব :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত দীর্ঘস্থায়ী। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীগুলি সাধারণতঃ স্বল্পস্থায়ী বা অস্থায়ী। এজাতীয় গোষ্ঠীর স্থায়িত্ব মূলত উদ্দেশ্যের প্রকৃতি ও ব্যাপকতার ওপর নির্ভরশীল। 

৭. দৈহিক নৈকট্য :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়। দৈহিক নৈকট্য না থাকলে মুখোমুখি সম্পর্ক তৈরী হয়না। 
অন্যদিকে , দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি গৌণ গোষ্ঠীতে প্রয়োজনীয় হলেও অপরিহার্য নয়। তাছাড়া , বৃহদায়তন গৌণ গোষ্ঠীতে দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি সবসময় সম্ভবও নয়। 

৮. ভৌগোলিক ব্যাপ্তি :-  
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যগণ নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ক্ষেত্রের বাসিন্দা হয়ে থাকেন। 
কিন্তু , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যগণ অপেক্ষাকৃত বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের বাসিন্দা হয়ে থাকেন। 

৯. সহযোগিতার প্রকৃতি :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে যে সহযোগিতা দেখা যায় , তা মূলত প্রত্যক্ষ প্রকৃতির। যেমন , সন্তানের প্রতি মায়ের সহযোগিতা। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যেকার সহযোগিতা মূলত পরোক্ষ প্রকৃতির। যেমন - দূরে থাকা কোনো সদস্যের শুধুমাত্র বাৎসরিক চাঁদা প্রদান করে যে সহযোগিতা করা হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


১০. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি মূলত অবিধিবদ্ধ। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে মূল্যবোধ , লোকাচার , লোকনীতি , নৈতিক অনুশাসন , জনমত - প্রভৃতিকে ব্যবহার করা হয়। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি বিধিবদ্ধ। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নিয়মকানুন আইন আকারে লিখিত থাকে। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে তাই আইন , পুলিশ , বলপ্রয়োগ প্রভৃতি হয়ে থাকে। 

১১. সদস্যপদ :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ মোটামুটি বাধ্যতামূলক। যেমন , প্রতিটি ব্যক্তি নিজের অজান্তেই জন্মসূত্রে তার পরিবারের সদস্যপদ লাভ করে থাকে। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যপদ ব্যক্তির ইচ্ছানির্ভর। সাধারণত , ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কোনো গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যপদ গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায়না। তবে , ব্যতিক্রম হিসেবে বলা যায় , রাষ্ট্র একটি গৌণ গোষ্ঠী হওয়া স্বত্তেও তার সদস্যপদ গ্রহণ ব্যক্তির পক্ষে বাধ্যতামূলক। 

১২. গোষ্ঠীস্বার্থ :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর গোষ্ঠীস্বার্থ সাধারণ বা Common  । মোটামুটি জীবনের বেশিরভাগ প্রয়োজনগুলি প্রাথমিক গোষ্ঠীর মাধ্যমেই মিটে যায়। 
অন্যদিকে , কোনো বিশেষ স্বার্থকে কেন্দ্র করে গৌণ গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তাই একে বিশেষ স্বার্থ গোষ্ঠী বা , Special Interest Group বলা হয়। 

১৩. সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যরা দৈহিকভাবে কাছাকাছি থাকার ফলে তাদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি সরাসরি বা মুখোমুখি ( Face to face ) হয়ে থাকে। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার জন্য এদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ডাক , রেডিও , দূরদর্শন , সংবাদপত্র , টেলিফোন , সংবাদমাধ্যম - ইত্যাদি গণমাধ্যমগুলি। 

১৪. গোষ্ঠীর কাঠামো :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীর তেমন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই। তাই এটি অসংগঠিত ও অবিধিবদ্ধ গোষ্ঠী। 
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত সংগঠিত ও বিধিবদ্ধ। 

১৫. ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব :- 
ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রাথমিক গোষ্ঠীর ভুমিকা অনস্বীকার্য ও অপরিহার্য। 
কিন্তু গৌণ গোষ্ঠীর প্রভাব ব্যক্তিত্বের ওপর ততটা ক্রিয়াশীল নয়। 

১৬. সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা :- 
ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বা সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 
কিন্তু সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গৌণ গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা অত্যন্ত নগন্য। 

১৭. প্রাধান্য ও গুরুত্ব :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীসমূহের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি সরল , গ্রামীণ , কৃষিভিত্তিক সমাজে। 
অন্যদিকে , গৌণগোষ্ঠী সমূহের প্রাধান্য খুব বেশি জটিল , নগরকেন্দ্রিক , শিল্পভিত্তিক আধুনিক সমাজে। 

১৮. সংখ্যা :- 
প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলি সংখ্যায় বেশ কম। 
কিন্তু গৌণ গোষ্ঠীগুলি সংখ্যায় অগণিত ও বহুবিধ। 

১৯. বিভিন্ন নাম :- 
জিসবার্ট প্রাথমিক গোষ্ঠীকে মুখোমুখি গোষ্ঠী বা Face to face group বলেছেন। 
অন্যদিকে C.H. Cooley গৌণ গোষ্ঠীগুলিকে '' অন্যান্য গোষ্ঠী '' বলেছেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

 
      

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

1. Concept of Secondary Group .

2. Features of Secondary Group .

3. Importance of Secondary Group. 




গৌণ গোষ্ঠীর ধারণা / সংজ্ঞা :- 


আধুনিক সমাজের অন্যতম উপাদান হল গৌণ গোষ্ঠীসমূহ। প্রকৃতিগত বিচারে প্রাথমিক গোষ্ঠীর বিপরীত বৈশিষ্ট্যগুলি বহন করে গৌণ গোষ্ঠি। এজাতীয় গোষ্ঠীগুলি মূলত বিশেষ বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তৈরি হয়ে থাকে। মূলত আধুনিক জীবনে নানাবিধ ও বিচিত্র স্বার্থ পূরণের জন্য তৈরি হয়। অনেক সময় এগুলিকে বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী বা , Special Interest Group বলা হয়। এই গোষ্ঠীর সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক সাধারণত আন্তরিকতা বর্জিত বা ঘনিষ্ঠতা মুক্ত হয়। সদস্যদের মধ্যে মুখোমুখি সম্পর্ক থাকে না বললেই চলে। শুধুমাত্র বিশেষ স্বার্থ পূরণের উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিবর্গের মধ্যে পরোক্ষ সম্পর্ক তৈরি হয় , কিন্তু তা প্রাথমিক গোষ্ঠীর মতো গভীর হয় না। তাছাড়া এই গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে মাত্র কয়েক জনের সাথে ব্যক্তিগত চেনা পরিচয় থাকে - যা প্রাথমিক গোষ্ঠীর মতো ব্যাপক নয়। 

জনসংখ্যাগত কাঠামোর মানদন্ডে এই সকল গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যবৃন্দ একই ধরনের মানসিক বন্ধনে আবদ্ধ নয় এবং এদের মধ্যে মূল থেকে বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি ক্রিয়াশীল। এই গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে যে সহযোগিতা দেখা যায় তা পরোক্ষ প্রকৃতির।  শিল্প সংস্থার গোষ্ঠী , ব্যাংক , রাজনৈতিক দল প্রভৃতি অসংখ্য গৌণ গোষ্ঠি সমাজে বর্তমান। 

আমরা গৌণ গোষ্ঠী সম্পর্কে বলতে পারি , বিশেষ উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি , সদস্যদের মধ্যে হৃদ্যতাবিহীন যে গোষ্ঠী , তাই হল গৌণ গোষ্ঠী।  একে আধুনিক সমাজের ফসল বলা হয়। বৈশিষ্ট্যগুলির  দিক থেকে দেখলে দেখা যায় , প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলির বিপরীত বৈশিষ্ট্যগুলি বহন করে গৌণগোষ্ঠীগুলি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


গৌণগোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য সমূহ :- 


১. কৃত্রিমতা :-  গৌণ গোষ্ঠী একটি কৃত্রিম সংগঠন। এটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে তৈরি হয় না। মানুষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একে তৈরি করে। 

২. বৃহদাকৃতি :-  গৌণগোষ্ঠীগুলি সাধারণত বৃহদাকৃতির হয়। এর সদস্য সংখ্যা সীমিত নয়। একটি জাতি , রোটারি ক্লাব , বিশ্ব হিন্দু পরিষদ প্রভৃতি গৌণ গোষ্ঠীর বৃহদাকৃতির উদাহরণ। 

৩. গৌণ সম্পর্কের প্রাধান্য :- গৌণ সম্পর্ক বলতে সদস্যদের পরোক্ষ , বাহ্যিক , চুক্তিনির্ভর , ব্যাপ্তিহীন সম্পর্ক কে বোঝায়। এজাতীয় সম্পর্কে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা বা একাত্মতা থাকেনা। শুধুমাত্র প্রয়োজনকে  সামনে রেখে এজাতীয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই জাতীয় গৌণ সম্পর্কের উদাহরণ হল - কর্মচারী - ক্রেতা , বক্তা - শ্রোতা প্রভৃতির মধ্যে যে সম্পর্ক। 

ম্যাকাইভার ও পেজ  গৌণগোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে সম্পর্কের প্রকৃতি সম্পর্কে বলেন যে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে যে বিভাজন দেখা যায় - তা হল শ্রেণীগত বিভাজন। 

৪. বিশেষ উদ্দেশ্য :- গৌণ গোষ্ঠী সাধারণত বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য কে কেন্দ্র করে গঠিত হয়ে থাকে। এখানে মূখ্য বিষয় হলো উদ্দেশ্য ; ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়টি গৌণ। উদ্দেশ্যের বিশিষ্টতা বা প্রাধান্যের পরিপ্রেক্ষিতে গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যদের ভূমিকা হল সীমিত। স্বার্থ বা উদ্দেশ্য ছাড়া এজাতীয় গোষ্ঠী গড়ে ওঠে না বললেই চলে। তাই একে বিশেষ স্বার্থগোষ্ঠী বা , Special Interest Group বলা হয়ে থাকে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


৫. সদস্যপদ :- বেশিরভাগ প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যপদের বিষয়টি যেমন ব্যক্তির ইচ্ছাধীন নয় , গৌণ গোষ্ঠীর বেলায় এরূপ হয়না। গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যপদ গ্রহণ বা বর্জন বিষয়টি মোটামুটি ভাবে ব্যক্তির ইচ্ছা নির্ভর। সে তার প্রয়োজনমতো ও ইচ্ছামতো যেকোনো গৌণগোষ্ঠীতে যোগ দিতে পারে ; আবার প্রয়োজন মিটে গেলে বা ভালো না লাগলে তার সদস্যপদ ত্যাগ করতে পারে। অবশ্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই সদস্যপদ বর্জনের বিষয়টি ব্যক্তির ইচ্ছা নির্ভর নাও হতে পারে। যাইহোক , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যপদের বিষয়টি বাধ্যতামূলক নয় , অনেকখানি ব্যক্তির নিজস্ব ইচ্ছা-অনিচ্ছা নির্ভর। ব্যতিক্রম হিসেবে বলা যায় , রাষ্ট্র। এই গৌণ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই কথাটি ঠিক খাটেনা। 

৬. সাংগঠনিক কাঠামো :- প্রত্যেক গৌণ গোষ্ঠীরই একটি করে বিধিবদ্ধ সাংগঠনিক কাঠামো থাকে , যার দ্বারা এর কাজকর্ম নিয়ন্ত্রিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা বেশি ও আকার বৃহৎ হওয়ার কারণে এর একটি সাংগঠনিক দিক অপরিহার্য এবং তা বিধিবদ্ধ হওয়া বাঞ্ছনীয়। 

৭. স্থায়িত্ব :- গৌণ গোষ্ঠীগুলি অপেক্ষাকৃত অস্থায়ী প্রকৃতির। সাধারণত এর উদ্দেশ্যগুলি পূরণ হয়ে গেলেই  এটি বিলুপ্ত হয়। উদ্দেশ্যের প্রকৃতির ওপর এর স্থায়িত্ব নির্ভর করে। যদি দেখা যায় কোনো গৌণ গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য নানাবিধ এবং তা পূরণ বেশ সময়সাপেক্ষ , সেক্ষেত্রে এগুলি একটু বেশি সময় স্থায়িত্ব লাভ করে। 

৮. দৈহিক নৈকট্যের প্রয়োজনহীনতা :- গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যদের ক্ষেত্রে দৈহিক নৈকট্যের প্রয়োজন নেই।  এটি বাদ দিয়েও গোষ্ঠীর অস্তিত্ব টিকে থাকা সম্ভব। অর্থাৎ এক্ষেত্রে সামাজিক সম্পর্কের বিষয়ে সংস্পর্শে ভূমিকা অতি নগন্য। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় , আন্তর্জাতিক রেডক্রস সোসাইটি নামক গৌণ গোষ্ঠীর কথা। এর সদস্যরা সারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকে। 

৯. নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি :- গৌণগোষ্ঠী প্রধানত সদস্যদের আচার আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে বিধিবদ্ধ কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে। সাধারণত সুনির্দিষ্ট সুবিন্যাস্ত উল্লিখিত শর্ত ও চুক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় গৌণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত পারস্পরিক সম্পর্ক। এই গৌণ গোষ্ঠীসমূহের ক্রিয়া-কলাপ যান্ত্রিক বা কৃত্রিম প্রকৃতির। এখানে আইন , পুলিশ , কোর্ট - প্রভৃতির মাধ্যমে সে তার নিয়ন্ত্রণ বহাল রাখে।  নৈতিক নিয়ন্ত্রণ অবিধিবদ্ধ  মাধ্যমগুলি এক্ষেত্রে গৌণ , কারণ এগুলি সদস্যদের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুব বেশি কার্যকর হয় না। 

১০. পরোক্ষ যোগাযোগ :- গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ প্রায় থাকে না বা এর খুব বেশি প্রয়োজনীয়তাও নেই। যেহেতু এই জাতীয় গোষ্ঠীর উৎপত্তি মুখোমুখি প্রত্যক্ষ পরিচয় অর্থাৎ প্রাথমিক সম্পর্কের ভিত্তিতে হয় না , তাই এই সদস্যদের পারস্পরিক যোগাযোগও আন্তরিক বা অন্তরঙ্গ হয়না। প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত পরিচয়ের জন্য বা সান্নিধ্যলাভের জন্য সদস্যরা গৌণ গোষ্ঠিতে সমবেত হন না। তাদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে - ডাক , টেলিফোন , টিভি , সংবাদপত্র প্রভৃতির মত গণমাধ্যমগুলির। 

১১. ব্যক্তিত্বের উপর খুব বেশি ক্রিয়াশীল নয় :- প্রাথমিক গোষ্ঠীকে ব্যক্তিত্বের মুখ্য রূপকার বলা হয় , গৌণ গোষ্ঠীকে তা বলা যায়না। বলা হয়ে থাকে , ব্যক্তিত্বের ওপর গৌণ গোষ্ঠীর বিশেষ কোনো প্রভাব নেই। 

১২. পরোক্ষ সহযোগিতা :-  এই জাতীয় গোষ্ঠীতে সদস্যগণের সহযোগিতার প্রকৃতি পরোক্ষ। এই সকল গোষ্ঠীতে মানুষ স্বাধীন ও স্বতন্ত্রভাবে ভিন্ন ভিন্ন কাজ কর্ম সম্পাদনে আত্মনিয়োগ করে। পারস্পরিক পরোক্ষ নির্ভরশীলতার মাধ্যমে কাজকর্ম সম্পাদিত হয়। এই পরোক্ষ সহযোগিতা শ্রমবিভাজন রূপটি প্রকট করে তোলে। 

১৩. ব্যক্তির মর্যাদা ভূমিকা নির্ভর :- এই সকল গোষ্ঠীর সদস্যদের মর্যাদা তাদের জন্মগত বৈশিষ্ট্য বা ব্যক্তিগত গুণাবলীর ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের সামাজিক মর্যাদা নির্ভর করে তারা কোথায় কীরূপ  ভূমিকা পালন করে থাকেন , তার প্রকৃতির ওপর। অর্থাৎ এই গোষ্ঠীতে ব্যক্তির মর্যাদা ভূমিকা নির্ভর। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


গৌণ গোষ্ঠীর গুরুত্ব :- 


১. গৌণ গোষ্ঠীগুলি আকারে বৃহৎ হয় ও অনেক সময় এর সদস্যগণ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তি উক্ত গৌণ গোষ্ঠীর সদস্য হয়ে তাঁর পরিচিতি বৃত্তটি প্রসারিত করতে পারেন।  এছাড়া ব্যক্তি তার দৃষ্টিভঙ্গি , মনোভাব প্রভৃতির প্রসার ঘটিয়ে কুপমন্ডুকতা দূর করে থাকেন। তার জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। তার চিন্তা-ভাবনা , উদ্যম - উদ্দীপনা প্রভৃতি নতুন মাত্রা লাভ করতে পারে। ব্যক্তি তার ক্ষুদ্র ক্ষেত্র ছাড়িয়ে বিশাল এক মানব ক্ষেত্রে গিয়ে উপস্থিত হন। সংকীর্ণ মনোভাব গুলি এই বিশাল ক্ষেত্রে এসে পরিমার্জিত হয়। তার মনে উদারতা বৃদ্ধি পায়। বিশাল এই ক্ষেত্রে এসে তার মানসিকতা নানাজনের সংস্পর্শে বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়। তার জড়তার জায়গাগুলি মুক্ত হয়ে যায়। অতএব বলা যায় , গৌণ গোষ্ঠী ব্যক্তি মানুষকে তার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে। 

২. নির্দিষ্ট কিছু দশক বা শতক পূর্বে ব্যক্তির রুজি-রোজগার ও আয়ের ক্ষেত্রটি ছিল সীমাবদ্ধ। এইসময় প্রধান জীবিকা ছিল কৃষিকার্য।  কিন্তু শিল্প-বাণিজ্য , নগর  প্রভৃতির ব্যাপক প্রসারের সাথে সাথে গৌণ গোষ্ঠীগুলি মানুষের সামনে নানা প্রকার সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রটিকে প্রসারিত করেছে। মানুষ এইগুলির মাধ্যমে তার চিন্তা-ভাবনা ও কাজকর্মের প্রতিভাকে নানা জায়গায় ঠিকমত কাজে লাগানোর সুযোগ পায়।  সে তার পছন্দ ও যোগ্যতামত কাজ করে যেতে পারে। সমাজপ্রদত্ত বৃত্তি বিভাগের নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে মানুষ বহুমুখী ও কর্মপ্রবণ হয়ে উঠেছে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


৩. গৌণ গোষ্ঠীগুলি তার সদস্যদের আচার-আচরণ মূলত বিধিবদ্ধ মাধ্যমগুলির মধ্যে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করে। বিধিবদ্ধ মাধ্যমগুলি এব্যাপারে অপেক্ষাকৃত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে থাকে ও বহু ক্ষেত্রে সে অনুযায়ী কাজ না করলে শাস্তি পেতে হয়। তাই ব্যক্তি এগুলিকে মেনে চলে বা মেনে চলতে বাধ্য থাকে। এভাবে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিকে নিয়মানুবর্তী করে তোলার ব্যাপারে গৌণ গোষ্ঠিগুলি বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। 

৪. বিভিন্ন গৌণ গোষ্ঠী বিভিন্ন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তৈরি হয়। ব্যক্তি একই সাথে বিভিন্ন গৌণ গোষ্ঠীর সদস্য হয়। বিভিন্ন গৌণ গোষ্ঠীতে সে ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে পারে। এইভাবে ব্যক্তির সংস্কৃতির দিকটি বিশেষ ভাবে বিকশিত হয়ে থাকে। 

৫. আধুনিক সমাজে গৌণ গোষ্ঠীগুলি তাদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।  অনেক ক্ষেত্রে তারা আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যার জ্ঞানকে কাজে লাগায়। শ্রমবিভাজনের মত বিশেষীকৃত  উপাদান ব্যবস্থাও  এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। যাইহোক , গৌণগোষ্ঠীগুলি এগুলির দ্বারা ব্যক্তিমানুষের কর্মপদ্ধতি , নিপুণতা ও মানসিক উৎকর্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

৬. আধুনিক সমাজের অস্থির জীবনযাত্রায় ব্যক্তি অনেক সময় তার দৈহিক ও মানসিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে থাকে। এক্ষেত্রে ব্যক্তি একই সাথে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে একদিকে যেমন তার নানাবিধ প্রয়োজন মিটিয়ে ফেলতে পারে , তেমনই বিভিন্ন গৌণ গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত হয়ে সে অধিকতর নিরাপত্তা ভোগ করে থাকে। 

৭. গৌণ গোষ্ঠিগুলিতে একটি সাংগঠনিক দিক থাকে। এই সাংগঠনিক দিকটি গোষ্ঠীর কার্যপদ্ধতি , নিয়ম-কানুন ঠিকমত চলছে কি'না তা লক্ষ্য রাখে। এই সাংগঠনিক দিকটির কার্যকারিতার জন্যই  গোষ্ঠীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে না।  গৌণগোষ্ঠীগুলি এভাবে তার সদস্যদের মধ্যে সংহতির বিষয়টি রক্ষা করে। 

৮. গৌণ গোষ্ঠী একদিকে যেমন ব্যক্তির নানাপ্রকার উদ্দেশ্য পূরণ করে থাকে , তেমনি গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবে ব্যক্তির সামনে নানারূপ দায়িত্ব ও কর্তব্য স্থির করে দেয়। ব্যক্তি এই সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করে থাকে। এইভাবে গৌণ গোষ্ঠিতে প্রবেশ করে একজন ব্যক্তি দায়িত্বশীল ও কর্তব্য পরায়ন হয়ে ওঠে। 

৯. সামাজিকীকরণ ও ব্যক্তিত্বের গঠনে প্রাথমিক গোষ্ঠীর মত অনেকখানি কার্যকরী ভূমিকা গৌণ গোষ্ঠীর না থাকলেও , অনেকটাই আছে। এমন কিছু কিছু অভিজ্ঞতা ব্যক্তি গৌণগোষ্ঠী থেকে লাভ করে , যা তার ব্যক্তিত্বের অনেকখানি নির্ণায়ক হয়ে ওঠে। আবার সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে , কোনো ব্যক্তি খুব ছোটবেলায় প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলির খুব বেশি সামাজিক না হলেও পরবর্তীকালে গৌণ গোষ্ঠীর প্রভাবে অনেকটাই সামাজিক হয়ে ওঠে। 

পরিশেষে বলা যায় , আজকের আধুনিক যুগে মানব সমাজের সভ্যতা-সংস্কৃতির বাস্তবায়নে গৌণ গোষ্ঠীর ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এই জাতীয় গোষ্ঠী ব্যক্তির সমাজকেন্দ্রিক নানাবিধ চাহিদা চরিতার্থের ক্ষেত্রে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন সমাজের সঙ্গে অত্যন্ত মানানসই। তাই এর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমবর্ধমান। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

প্রাথমিক গোষ্ঠীর ধারণা :- 

প্রাথমিক গোষ্ঠীর ধারণাটি মার্কিন সমাজতত্ত্ববিদ চার্লস হর্টন কুলির চিন্তাভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসাবে দেখা যায়। প্রত্যেক সমাজেই প্রাথমিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব দেখা যায়।  প্রাথমিক গোষ্ঠীকে সমস্ত সংগঠনের নিউক্লিয়াস হিসাবে কল্পনা করা হয়ে থাকে। অধ্যাপক কুলি সামাজিক গোষ্ঠীর শ্রেণীবিভাগের ক্ষেত্রে এই প্রাথমিক গোষ্ঠী কথাটি ব্যবহার করেন।  তিনি তাঁর Social Organisation গ্রন্থে এটি ব্যবহার করেছিলেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

প্রাথমিক গোষ্ঠী হল এমন একটি গোষ্ঠী যা তার সদস্যদের মুখোমুখি সম্পর্ক , পারস্পরিক সহযোগিতা ও সাহচর্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই ধরনের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যে মিশে থাকে ঘনিষ্ঠতা - অন্তরঙ্গতা।  এই অন্তরঙ্গতা তার সদস্যদের মধ্যে গভীর '' আমরা বোধ ''  সঞ্চারিত করে। এই আমরা বোধ - ই  হলো প্রাথমিক গোষ্ঠীর এক ও অখন্ড বৈশিষ্ট্যের পরিচয়বাহী। 

অর্থাৎ, প্রাথমিক গোষ্ঠী হল মুখোমুখি পরিচয়যুক্ত সদস্যদের সমষ্টি। সদস্যদের এই মুখোমুখি সম্পর্ক ( Face to face relation ) থাকে বলেই একে মুখোমুখি গোষ্ঠী ( Face to face group ) বলে .সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আন্তরিক , ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ। 

কুলি প্রাথমিক গোষ্ঠীর প্রাথমিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে তিনটি মুখ্য বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।  এগুলি হল - 
১. সদস্যদের মুখোমুখি সম্পর্ক , 
২. সহযোগিতার সম্পর্ক ও 
৩. আমরা বোধ। 
এছাড়াও তিনি আনুগত্যের আবেগ , পরিচয় নির্ধারণ , বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক - প্রভৃতির কথাও  বলেছেন। 

প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য , বটোমরের '' মুখ্য গোষ্টি '' কথাটি প্রাথমিক গোষ্ঠীরই সমার্থক। প্রাথমিক বা মুখোমুখি গোষ্ঠী হল সরাসরি ব্যক্তিগত সম্পর্কের উপর প্রতিষ্ঠিত , যার মধ্যে সদস্যরা একে অন্যের সাথে প্রত্যক্ষ আচার ব্যবহার করে থাকে। তিনি আরো বলেছেন , প্রাথমিক বা মুখোমুখি গোষ্ঠী , তা স্বল্পস্থায়ী বা স্থায়ী হোক , সামাজিকীকরণের সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের মৌল উপাদান হলো প্রাথমিক গোষ্ঠী। পরিবার , খেলার সঙ্গী , খেলার গোষ্ঠী , অন্তরঙ্গ গোষ্ঠী - এই জাতীয় গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


প্রাথমিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য :- 


১. প্রাথমিক সম্পর্ক :-  প্রাথমিক গোষ্ঠীর অপরিহার্য বিষয়ই হলো তার সদস্যদের প্রত্যক্ষ বা মুখোমুখি সম্পর্ক। প্রত্যক্ষ যোগাযোগই প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে প্রাথমিক সম্পর্ক স্থাপন করে থাকে। এই সম্পর্ক সাধারণত এক ও অভিন্ন। 

২. উদ্দেশ্যের অভিন্নতা :- প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের উদ্দেশ্য ও মনোভাব কমবেশি অভিন্ন ও সমজাতীয় হয়ে থাকে। সদস্যরা তাদের এই অভিন্ন উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সমবেতভাবে সচেষ্ট হয়। অধ্যাপক কিংসলে ডেভিস - এর মতে , প্রাথমিক গোষ্ঠীর অন্তর্গত সদস্যদের উদ্দেশ্যগত অভিন্নতা গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তিত্বের এক মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য সৃষ্টি করে। 

৩. সম্পর্কের স্বকীয়তা :- প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনরূপ স্বার্থচিন্তা থাকেনা। এই সম্পর্ক কোনরূপ আর্থিক লাভ-ক্ষতির উপরে নির্ভর করে গড়ে ওঠেনা।   ব্যক্তিগত স্বার্থচিন্তা বা শুধুমাত্র নিজের লক্ষ্য পূরণের চিন্তা এই জাতীয় সম্পর্কের মধ্যে থাকে না। স্বামী স্ত্রীর প্রকৃত ভালোবাসার সম্পর্ক এই প্রাথমিক সম্পর্কের অন্যতম উদাহরণ। 

৪. ব্যক্তিগত সম্পর্ক :- প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যগনের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রকৃতির। কোনো বিধিবদ্ধতার বেড়াজালে এই সম্পর্ক আবদ্ধ নয়। এই সম্পর্কের মধ্যে আন্ত মানবিক কোমল হৃদয়বৃত্তির উন্মোচিত হওয়ার প্রয়োজনীয় উপাদান বর্তমান থাকে। 

৫. সম্পর্কের গভীরতা :-  প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের সম্পর্ক যথেষ্ট গভীর। যেহেতু এই সম্পর্ক অত্যন্ত গভীরতা প্রাপ্ত হয় , সদস্যদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মিশে থাকে প্রেম - ভালোবাসা , শ্রদ্ধা - সহানুভূতি , সহযোগিতা - পরার্থচিন্তা প্রভৃতি মানবিক বিষয়াদি। 

৬. স্বতস্ফূর্ততা :- প্রাথমিক সম্পর্ক হল সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। ব্যক্তি স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়েই এই সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। অন্যের নির্দেশ বা কোনো চুক্তি অনুযায়ী ব্যক্তি এই সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ হয় না। অন্যের নির্দেশ বা কোনো চুক্তি অনুযায়ী ব্যক্তি অন্যের সাথে প্রাথমিক সম্পর্ক তৈরি করে না। তাছাড়া এই সম্পর্ক পরিকল্পনামাফিকও হয়না। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


৭. আয়তনে ক্ষুদ্রতা :- প্রাথমিক গোষ্ঠী মূলত ক্ষুদ্র আকৃতির হয়। গোষ্ঠীর আয়তন যত ক্ষুদ্র হয় প্রাথমিক সম্পর্কও তত গভীর হয়ে থাকে। আসলে , যেহেতু প্রাথমিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি জরুরি , এই দৈহিক নৈকট্য তখনই সম্ভব হয় যখন সদস্যরা অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র অঞ্চলের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। 

৮. দৈহিক নৈকট্য :- প্রাথমিক গোষ্ঠীকে Face to face group বা মুখোমুখি গোষ্ঠীও বলা হয়।  ''মুখোমুখি'' বলতে বোঝায় দুই বা ততোধিক ব্যক্তিদের দৈহিকভাবে কাছাকাছি অবস্থানকে। প্রাথমিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্টটি অবধারিতভাবে বর্তমান। 

৯. স্থায়িত্ব :- প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলি মোটামুটিভাবে স্থায়ী হয়। প্রাথমিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার জন্য বেশ খানিকটা সময় প্রয়োজন হয়। এই অনেকটা সময় গোষ্ঠী স্থায়িত্ব প্রমাণে যথেষ্ট। 

১০. সদস্যদের অভিন্নতা :- প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে নানা বিষয়ে মিল দেখা যায়।  এদের সামাজিক পটভূমি বা ব্যাকগ্রাউন্ড কমবেশি একই প্রকার হয়ে থাকে। তাদের সংস্কৃতি , বুদ্ধিবৃত্তি ,  চিন্তা-চেতনা , সামাজিক মান - মর্যাদা , মানসিকতা , জীবনযাত্রা প্রভৃতি একই জাতীয় হওয়ার জন্য তাদের মধ্যে সহজে ঐক্যবোধ , আন্তরিকতা , একাত্মতা , সহযোগিতা প্রভৃতি সহজেই গড়ে উঠতে পারে। 

১১. ব্যক্তিস্বার্থের সীমাবদ্ধতা :- প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলিতে সদস্যদের ব্যক্তিস্বার্থ গোষ্ঠীর স্বার্থের  তুলনায় কম গুরুত্ব পায়। এখানে ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কের খাতিরে অনেক সময় নিজের স্বার্থ ত্যাগ করে থাকে। পারষ্পরিক আন্তরিকতা , আনুগত্যের জন্য গোষ্ঠীভুক্ত সদস্যগণ নিজেকে গোষ্ঠীর সাধারণ স্বার্থের অংশীদার বলে মনে করে থাকে , তাই তারা নিজ নিজ স্বার্থ চিন্তার  ঊর্ধ্বে উঠে গোষ্ঠীর সাধারণ স্বার্থ পূরণে একযোগে সমর্থন ও সহযোগিতার হস্ত প্রসারিত করে। 

১২.  বিশেষ উদ্দেশ্যহীনতা :- প্রাথমিক গোষ্ঠী কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে গঠিত হয় না। বরং বলা যায় এর উদ্দেশ্য হলো সাধারণ ( Common ) । ব্যক্তি ও সমাজজীবনের প্রায় বেশিরভাগ প্রয়োজনগুলি এই জাতীয় গোষ্ঠী পূরণ করে থাকে। 

১৩. প্রত্যক্ষ সহযোগিতা :- প্রত্যক্ষ সহযোগিতা বলতে বোঝায় ব্যক্তি যে সকল সহযোগিতা অন্যকে সরাসরি প্রদান করে থাকে। প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে যে সহযোগিতার  প্রবণতা দেখা যায় তা মূলত প্রত্যক্ষ প্রকৃতির। 

১৪. সম্মিলিত স্বার্থের প্রাধান্য :-  একই গোষ্ঠীর সদস্য হওয়ার কারণে প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থ পূরণের জন্য একযোগে সচেষ্ট হয়। তারা এ ব্যাপারে পরস্পর পরস্পরের সাথে সহযোগিতামূলক আচরণ করে থাকে। এক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ স্বার্থ গৌণ প্রকৃতির হয়। 

১৫. যোগাযোগ :- যে কোনো সম্পর্ক মূলতঃ দুইভাবে তৈরি হয় - সংস্পর্শ ও যোগাযোগ। দৈহিক নৈকট্য - র মত এই গোষ্ঠীর সদস্যদের যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।  পরস্পরের মুখোমুখি সম্পর্ক , পরস্পরের মধ্যে একাত্মতা হৃদ্যতা গড়ে ওঠে যোগাযোগের মাধ্যমেই। 

১৬. বিশ্বজনীনতা :- প্রায় প্রত্যেকটি মানবসমাজে প্রাথমিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব চোখে পড়ে। এটি একটি বিশ্বজনীনরূপ। কুলি তাঁর Social Organisation গ্রন্থে বলেছেন , ক্রমবর্ধিষ্ণু যোগাযোগের ফলে মানুষ ক্রমান্বয়ে পরস্পর সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত হচ্ছে। সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মানব জাতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রাথমিক গোষ্ঠী বিষয়ক আবেগ ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে , কিন্তু আজকের এই বাস্তব সমাজের নিরিখে কুলির এইরূপ আশাবাদিতাকে অতিকথন বা Myth বলে মনে করা হয় .

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


প্রাথমিক গোষ্ঠীর গুরুত্ব :- 


১. প্রাথমিক গোষ্ঠী হল সামাজিকীকরণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মানুষের সামাজিক প্রকৃতির উন্মেষ ঘটায় প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলিই। প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলির তত্ত্বাবধানে ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মানুষ সামাজিক জীব হয়ে ওঠে। ম্যাকাইভারের ভাষায় , " Primary groups are the nursery of human nature .'' 

২. মানুষের ব্যক্তিত্বের বিকাশ সাধনে প্রাথমিক গোষ্ঠীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কুলির মতানুসারে , প্রাথমিক গোষ্ঠী হল ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের মুখ্য রূপকার। তার বক্তব্য অনুযায়ী ,  মানুষের সামাজিক প্রকৃতি ও আদর্শের নিরূপণে প্রাথমিক গোষ্ঠীর মৌলিক ভূমিকা বর্তমান।  বস্তুতঃ ব্যক্তিমানুষের প্রেম-প্রীতি , ন্যায়-নীতি , মূল্যবোধ প্রভৃতি ব্যক্তিত্বের উপাদানগুলি প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলির মাধ্যমেই উন্মোচিত ও বিকশিত হয়। এটিকে অনেকে ব্যক্তিত্ব বিকাশের মুক্তাঙ্গণ হিসাবে চিহ্নিত করে থাকেন। 

৩. আমাদের মানসিক চাহিদাগুলির পরিতৃপ্তি ঘটায় প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলিই। প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্য হিসাবেই ব্যক্তি তার আনন্দ , নিরাপত্তা , সাহচর্য প্রভৃতি মানসিক অনুভূতি গুলি পেয়ে থাকে। তাছাড়া আবেগ , দুঃখ , যন্ত্রণা , মনের ভাব ইত্যাদি সে তার সদস্যদের কাছে প্রকাশ করার সুযোগ পায়। এ বিষয়ে তার স্বতঃস্ফূর্ততা প্রকাশ পায় প্রাথমিক গোষ্ঠীর মধ্যেই। এর দ্বারাই মানুষের স্নেহ , প্রেম , শ্রদ্ধা , ভালোবাসা , সহানুভূতি , সহমর্মিতা প্রভৃতি সুকুমারবৃত্তি গুলি উন্মোচিত - চর্চিত ও পরিশীলিত হয়ে থাকে। 

৪. প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যরা গভীরভাবে '' আমরা বোধ ''- এ উদ্বুদ্ধ। এই আমরা বোধই তাকে অন্যের ভালো-মন্দ বুঝতে ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রণোদিত করে।  এইভাবে প্রাথমিক গোষ্ঠীর সাহায্যেই ব্যক্তির আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা থাকলে তা সংশোধিত হয়। 

৫. প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যরা যৌথভাবে বহুবিধ ও উদ্দেশ্য পূরণে সচেষ্ট হয়। এই যূথবদ্ধতা ব্যক্তিকে গোষ্ঠীর স্বার্থ পূরণের ব্যাপারে প্রেরণা , উৎসাহ - উদ্দীপনা প্রদান করে থাকে। 

৬. প্রাথমিক গোষ্ঠী তার সদস্যদের মধ্যে দলীয় মনোভাব জাগ্রত করে। 

৭. প্রাথমিক গোষ্ঠীর মাধ্যমেই ব্যক্তিমানুষের হৃদয়ের কোমল প্রবৃত্তির উন্মেষ ও বিকাশ ঘটে।

 এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


৮. প্রাথমিক গোষ্ঠীর মাধ্যমেই মানুষের নানাবিধ শারীরিক , সামাজিক ও মানসিক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়। ব্যক্তিমানুষের নানাবিধ সমস্যা সে খোলামনে ওই গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের কাছে বলতে পারে। যেহেতু সদস্যরা একে অপরের সম্পর্কে গভীরভাবে সহানুভূতিশীল ও সহযোগি , তাই এসব সমস্যা সমাধানে অন্যান্যরাও সহযোগিতা করে থাকে।  এইভাবে ব্যক্তির নানাবিধ সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক গোষ্ঠীর ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

৯. প্রাথমিক সদস্য হিসাবে ব্যক্তির মনে এই ধারণা জন্মায় যে , সে সমাজে একা বা  অন্যের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সে অনুভব করে সে তার বিপদে , দুঃখে অন্যের সহযোগিতা পাবে।  প্রাথমিক গোষ্ঠী এভাবেই তার কোনো সদস্যকে সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে। 

১০. প্রাথমিক গোষ্ঠীর বেশ কিছু নিয়মকানুন থাকে। এগুলো তার সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেমন মেনে চলে , তেমনি কোনো না কোনো নিয়ম তার সদস্যদের মেনে চলতে বাধ্য করা হয়। এই নিয়ম বিধি দ্বারা প্রাথমিক গোষ্ঠী একদিকে যেমন সামাজিক নিয়ন্ত্রণের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ কে নিয়ন্ত্রণ করে ; তেমনি অন্যদিকে ব্যক্তি মানুষকে নিয়মানুবর্তী হতে শেখায়। 

১১. প্রাথমিক গোষ্ঠীর অভ্যন্তরে ব্যক্তির সামাজিক রীতি নীতি গুলিকে মেনে চলার প্রবণতা অনুভূত হয়। সংঘবদ্ধ জীবনধারার শরিক হিসেবে ব্যক্তি সামাজিকীকরণ ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রভাবে এই সকল বিষয়ের চর্চা বা অনুশীলন করে থাকে। এভাবে প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলি সামাজিক প্রথা , লোকাচার , লোকনীতির অন্যতম বাহক হয়ে ওঠে। 

১২. সামাজিক জীব হিসাবে ব্যক্তিমানুষকে তার পরিচয় প্রদান করে থাকে প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলিই।  উদাহরণ হিসেবে বলা যায় , পরিবার একটি প্রাথমিক গোষ্ঠী , আমরা কোনো না কোনো পরিবারের সদস্য। সমাজজীবনে আমাদের পরিচয় নির্ধারিত হয় পরিবারের সূত্র ধরেই। 

১৩. প্রাথমিক গোষ্ঠী সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার ব্যাপারে অন্যতম ভূমিকা পালন করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Newer Posts
Older Posts

Followers

Pages

  • Home
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • CONTACT ME
  • About Me

Contact Form

Name

Email *

Message *

About me

Hallow viewers , myself Nandan Dutta [Subhankar Dutta], reside at Maheshpur,Malda.
I made this website for the students of B.A. courses under Gour Banga University. Here you can get suggestions of different subjects like HISTORY , SOCIOLOGY , POLITICAL SCIENCE & EDUCATION.
In future I will add MCQ sections of those subjects.


Categories

  • 1ST SEMESTER SUGGESTION (1)
  • 2 ND YEAR SUGGESTION (1)
  • 2ND SEMESTER (1)
  • 3RD SEMESTER (8)
  • BENGALI NOTES (21)
  • CU suggestion. (1)
  • EDUCATION NOTES (141)
  • ENGLISH COMPULSORY (16)
  • GBU Suggestion. (7)
  • HISTORY EUROPE & WORLD (46)
  • HISTORY NOTES (68)
  • POL SC NOTES (69)
  • SOCIOLOGY NOTES (72)
  • WBCS 2020 (1)

recent posts

Blog Archive

  • November 2025 (1)
  • August 2025 (4)
  • May 2025 (3)
  • April 2025 (20)
  • March 2025 (12)
  • February 2025 (8)
  • November 2024 (5)
  • October 2024 (2)
  • September 2024 (2)
  • June 2024 (2)
  • March 2024 (6)
  • February 2024 (4)
  • October 2023 (5)
  • May 2023 (5)
  • April 2023 (1)
  • December 2022 (1)
  • November 2022 (13)
  • September 2022 (2)
  • August 2022 (7)
  • July 2022 (29)
  • June 2022 (10)
  • May 2022 (25)
  • April 2022 (24)
  • March 2022 (16)
  • February 2022 (19)
  • January 2022 (21)
  • December 2021 (46)
  • November 2021 (5)
  • October 2021 (6)
  • September 2021 (5)
  • August 2021 (41)
  • July 2021 (43)
  • June 2021 (31)
  • May 2021 (7)
  • April 2021 (1)
  • July 2020 (1)
  • June 2020 (3)
  • April 2020 (1)
  • November 2019 (1)
  • July 2019 (1)
  • June 2019 (1)
  • May 2019 (1)
  • April 2019 (2)
  • January 2019 (1)

Pages

  • Home
  • 2nd SEM ভাষাতত্ত্ব :
  • বাংলা উপভাষা
  • দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব
  • ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলি আলোচনা করো।
  • হর্ষবর্ধনের কৃতিত্ব আলোচনা করো। তাকে কি উত্তর পথনাথ বলা যায় ?
  • ভারতীয় সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
  • উদারনীতিবাদ : সংক্ষিপ্ত ধারণা :-
  • চোল শাসনব্যবস্থা :-
  • গুপ্তযুগ সুবর্ণযুগ সম্পর্কিত আলোচনা।
  • ৬. উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলাভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট আল...
  • 1. Marxism
  • আধুনিক বাংলা ভাষা ও তার বৈশিষ্ট।
  • Discuss the career and achievements of Samudragupta .
  • ভাষাতত্ত্ব

Created with by ThemeXpose | Distributed by Blogger Templates