Difference between primary and secondary social group .
১. ধারণার ভিত্তিতে : -
প্রাথমিক গোষ্ঠী বলতে মুখোমুখি , প্রত্যক্ষ ও গভীর সম্পর্ক এবং সাহচর্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠীকে বোঝায়।
অন্যদিকে গৌণ গোষ্ঠী হল প্রয়োজনের তাগিদে গড়ে ওঠা পরোক্ষ , বাহ্যিক , চুক্তিনির্ভর ব্যাপ্তিহীন সম্পর্কযুক্ত গোষ্ঠীকে বোঝায়।
২. উদাহরণ :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর উদাহরণ হল - পরিবার , অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠী , খেলার দল - ইত্যাদি।
অন্যদিকে গৌণ গোষ্ঠীর উদাহরণ হল - রাজনৈতিক দল , রাষ্ট্র - ইত্যাদি।
৩. উৎপত্তি :-
প্রাথমিক গোষ্ঠী স্বতঃপ্রণোদিত বা স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে তৈরী হয়।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরী হয়।
৪. আকার :-
প্রাথমিক গোষ্ঠী আকারে ছোট হয়। গোষ্ঠীর আকার যত ছোট হয় , পারস্পরিক সম্পর্ক তত দৃঢ় হয়।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠী আকারে খুব বড় হয়। এমনও গোষ্ঠী আছে যারা সারা পৃথিবীজুড়ে থাকতে পারে।
৫. সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক :-
প্রাথমিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে প্রাথমিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। এই প্রাথমিক সম্পর্ক হল মুখোমুখি , অন্তরঙ্গ , ব্যক্তিগত , একাত্মতাপূর্ণ।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীতে গৌণ সম্পর্কের প্রাধান্য দেখা যায়। এ জাতীয় সম্পর্ক পরোক্ষ , বাহ্যিক , চুক্তিনির্ভর হয়ে থাকে।
৬. স্থায়িত্ব :-
প্রাথমিক গোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত দীর্ঘস্থায়ী।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীগুলি সাধারণতঃ স্বল্পস্থায়ী বা অস্থায়ী। এজাতীয় গোষ্ঠীর স্থায়িত্ব মূলত উদ্দেশ্যের প্রকৃতি ও ব্যাপকতার ওপর নির্ভরশীল।
৭. দৈহিক নৈকট্য :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়। দৈহিক নৈকট্য না থাকলে মুখোমুখি সম্পর্ক তৈরী হয়না।
অন্যদিকে , দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি গৌণ গোষ্ঠীতে প্রয়োজনীয় হলেও অপরিহার্য নয়। তাছাড়া , বৃহদায়তন গৌণ গোষ্ঠীতে দৈহিক নৈকট্যের বিষয়টি সবসময় সম্ভবও নয়।
৮. ভৌগোলিক ব্যাপ্তি :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যগণ নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ক্ষেত্রের বাসিন্দা হয়ে থাকেন।
কিন্তু , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যগণ অপেক্ষাকৃত বৃহৎ ভৌগোলিক অঞ্চলের বাসিন্দা হয়ে থাকেন।
৯. সহযোগিতার প্রকৃতি :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে যে সহযোগিতা দেখা যায় , তা মূলত প্রত্যক্ষ প্রকৃতির। যেমন , সন্তানের প্রতি মায়ের সহযোগিতা।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যেকার সহযোগিতা মূলত পরোক্ষ প্রকৃতির। যেমন - দূরে থাকা কোনো সদস্যের শুধুমাত্র বাৎসরিক চাঁদা প্রদান করে যে সহযোগিতা করা হয়।
১০. সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি মূলত অবিধিবদ্ধ। সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে মূল্যবোধ , লোকাচার , লোকনীতি , নৈতিক অনুশাসন , জনমত - প্রভৃতিকে ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রকৃতি বিধিবদ্ধ। এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ নিয়মকানুন আইন আকারে লিখিত থাকে। নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসাবে তাই আইন , পুলিশ , বলপ্রয়োগ প্রভৃতি হয়ে থাকে।
১১. সদস্যপদ :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যপদ মোটামুটি বাধ্যতামূলক। যেমন , প্রতিটি ব্যক্তি নিজের অজান্তেই জন্মসূত্রে তার পরিবারের সদস্যপদ লাভ করে থাকে।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যপদ ব্যক্তির ইচ্ছানির্ভর। সাধারণত , ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কোনো গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যপদ গ্রহণ করতে বাধ্য করা যায়না। তবে , ব্যতিক্রম হিসেবে বলা যায় , রাষ্ট্র একটি গৌণ গোষ্ঠী হওয়া স্বত্তেও তার সদস্যপদ গ্রহণ ব্যক্তির পক্ষে বাধ্যতামূলক।
১২. গোষ্ঠীস্বার্থ :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর গোষ্ঠীস্বার্থ সাধারণ বা Common । মোটামুটি জীবনের বেশিরভাগ প্রয়োজনগুলি প্রাথমিক গোষ্ঠীর মাধ্যমেই মিটে যায়।
অন্যদিকে , কোনো বিশেষ স্বার্থকে কেন্দ্র করে গৌণ গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তাই একে বিশেষ স্বার্থ গোষ্ঠী বা , Special Interest Group বলা হয়।
১৩. সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর সদস্যরা দৈহিকভাবে কাছাকাছি থাকার ফলে তাদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি সরাসরি বা মুখোমুখি ( Face to face ) হয়ে থাকে।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠীর সদস্যরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকার জন্য এদের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ডাক , রেডিও , দূরদর্শন , সংবাদপত্র , টেলিফোন , সংবাদমাধ্যম - ইত্যাদি গণমাধ্যমগুলি।
১৪. গোষ্ঠীর কাঠামো :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীর তেমন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো নেই। তাই এটি অসংগঠিত ও অবিধিবদ্ধ গোষ্ঠী।
অন্যদিকে , গৌণ গোষ্ঠী অপেক্ষাকৃত সংগঠিত ও বিধিবদ্ধ।
১৫. ব্যক্তিত্বের ওপর প্রভাব :-
ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রাথমিক গোষ্ঠীর ভুমিকা অনস্বীকার্য ও অপরিহার্য।
কিন্তু গৌণ গোষ্ঠীর প্রভাব ব্যক্তিত্বের ওপর ততটা ক্রিয়াশীল নয়।
১৬. সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে ভূমিকা :-
ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া বা সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
কিন্তু সামাজিকীকরণের ক্ষেত্রে গৌণ গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা অত্যন্ত নগন্য।
১৭. প্রাধান্য ও গুরুত্ব :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীসমূহের প্রাধান্য সবচেয়ে বেশি সরল , গ্রামীণ , কৃষিভিত্তিক সমাজে।
অন্যদিকে , গৌণগোষ্ঠী সমূহের প্রাধান্য খুব বেশি জটিল , নগরকেন্দ্রিক , শিল্পভিত্তিক আধুনিক সমাজে।
১৮. সংখ্যা :-
প্রাথমিক গোষ্ঠীগুলি সংখ্যায় বেশ কম।
কিন্তু গৌণ গোষ্ঠীগুলি সংখ্যায় অগণিত ও বহুবিধ।
১৯. বিভিন্ন নাম :-
জিসবার্ট প্রাথমিক গোষ্ঠীকে মুখোমুখি গোষ্ঠী বা Face to face group বলেছেন।
অন্যদিকে C.H. Cooley গৌণ গোষ্ঠীগুলিকে '' অন্যান্য গোষ্ঠী '' বলেছেন।
0 comments