Pages

Powered by Blogger.
1ST SEMESTER SUGGESTION 2 ND YEAR SUGGESTION 2ND SEMESTER 3RD SEMESTER BENGALI NOTES CU suggestion. EDUCATION NOTES ENGLISH COMPULSORY GBU Suggestion. HISTORY EUROPE & WORLD HISTORY NOTES POL SC NOTES SOCIOLOGY NOTES WBCS 2020

NANDAN DUTTA

A new approach for exam notes .

সামাজিক গোষ্ঠীর সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট আলোচনা কর। 


সামাজিক গোষ্ঠীর সংজ্ঞা : - 


সামাজিক গোষ্ঠীর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে অধ্যাপক বটোমর বলেছেন - 
'' সামাজিক গোষ্ঠী এমন কিছু ব্যক্তির সমষ্টি - ১. যাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট পারস্পরিক সম্পর্ক থাকে এবং ২. যারা প্রত্যেকে গোষ্ঠীজীবন ও তার প্রতীকী রূপগুলি সম্পর্কে সচেতন। 

ম্যাকাইভার ও পেজ - এর মতে , 
গোষ্ঠী বলতে আমরা বুঝি পারস্পরিক নির্দিষ্ট সামাজিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত ব্যক্তির সমষ্টিকে। এখানে গোষ্ঠী হল ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক সম্বন্ধ। 

জিসবার্ট - এর মতে , 
সামাজিক গোষ্ঠী হল পরস্পরের সঙ্গে ক্রিয়া - প্রতিক্রিয়াশীল ও একটি স্বীকৃত সংগঠন সম্বলিত মনুষ্য সমষ্টি। 

বোগারদাসের মতে , 
যখন একাধিক ব্যক্তি একই প্রকার উদ্দেশ্যযুক্ত হয় ও একে অন্যের ওপর প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে সাধারণ একটি দায়বদ্ধতা থেকে একই প্রকার কাজকর্ম করে থাকে , তাকে সামাজিক গোষ্ঠী বলে।  

অর্থাৎ , সামাজিক গোষ্ঠী হতে হলে - ১. একের অধিক জনসংখ্যা থাকতে হবে , ২. জনসংখ্যার মধ্যে একটি লক্ষ্যের ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকতে হবে। 
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে , পরস্পরের প্রতি পরস্পর প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতিতে ক্রিয়াশীল দুই বা ততোধিক মানুষ সংঘবদ্ধ হলে তাকে গোষ্ঠী বা দল বলে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


সামাজিক গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট :- 


১. ব্যক্তি সমষ্টি বা জনসমষ্টি :- সামাজিক গোষ্ঠী হল ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি। ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে গোষ্ঠী তৈরী হতে পারে না। ব্যক্তি গোষ্ঠীর একক। গোষ্ঠী গঠনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ , ব্যক্তি সমষ্টিগতভাবে পারস্পরিক ক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হলে তাকেই গোষ্ঠী হিসাবে গণ্য করা হয়। 

২. ব্যক্তিবর্গের পারস্পরিক সম্পর্ক :- শুধুমাত্র যে কোনো ব্যক্তি সমষ্টিকে গোষ্ঠী বলা হয় না। গোষ্ঠীর সদস্যগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক গোষ্ঠী সৃষ্টির অপরিহার্য বিষয়। এটি গোষ্ঠীর ভিত্তি স্বরূপ। সমাজতাত্ত্বিকগণের মতে , এই সম্পর্ক সবসময় দৈহিক হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই , তা মানসিকও হতে পারে। 

৩. পারস্পরিক বোঝাপড়া :- গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে একটি পারস্পরিক সহযোগিতা , সহচর্য ও ভাবের আদান প্রদান লক্ষ্য করা যায়। 

৪. গোষ্ঠী চেতনা :- গোষ্ঠীর সদস্যদের মনে একপ্রকার চেতনা জাগ্রত হয় , যার দ্বারা সে তার গোষ্ঠীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে খুঁজে পায়। সে উপলব্ধি করে যে , সে বিচ্ছিন্ন নয় ; সে এক বৃহৎ সমগ্রতার অংশ। এই গোষ্ঠীচেতনা ব্যক্তিকে অন্যের প্রতি সহযোগী ও সহানুভূতিশীল হতে সাহায্য করে। এই গোষ্ঠী চেতনা ব্যক্তির সদস্যদের মধ্যে দলীয় মনোভাব বা Team Spirit জাগ্রত করে এবং এই মনোভাব ব্যক্তি স্বার্থের তুলনায় গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়। 

৫. আমরা - বোধ :- গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে আমরা একই গোষ্ঠীর বা একই সাধারণ জীবনের অংশীদার -  এরকম এই বোধ কাজ করে। এই বোধ গোষ্ঠীর সদস্যদের অন্য গোষ্ঠীর সদস্যদের থেকে আলাদা করে রাখে। স্বভাবতই আমরা বোধ বা We feeling  থেকেই গোষ্ঠীর নিজস্বতা বা স্বতন্ত্রতা তৈরি হয়। আমরা সকলে মিলে একটি একক , আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য - গোষ্ঠীবদ্ধ সদস্যদের এরূপ মানসিকতা গোষ্ঠী গঠনে ও সংরক্ষণে অত্যন্ত সহায়ক। এরূপ মনোভাব থাকলে অনেক সময় দৈহিক সান্নিধ্যের বিষয়টিও গৌণ হয়ে পড়ে। 

৬. ঐক্য ও সংহতি :-  গোষ্ঠীর সদস্যরা একটি ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ।  এই ঐক্য থেকেই জন্ম হয় গোষ্ঠী সংহতি বা group solidarity - র।  এই একাত্মতা বা ঐক্যবোধ সদস্যদের পরস্পরের আবেদনে সাড়া দিতে শেখায় ও অনুপ্রাণিত করে। গোষ্ঠীর মধ্যেকার এই ঐক্য ও সংহতি সদস্যদের একই বন্ধনে বেঁধে রাখে। 

৭. সাধারণ উদ্দেশ্য :- গোষ্ঠীর সদস্যদের স্বার্থ ও আদর্শ সমজাতীয় হয়। মানুষ তখনই কোন গোষ্ঠীভুক্ত হয় , যেখানে তার স্বার্থ সেই গোষ্ঠীর অন্যান্যদের সাথে সমগোত্রীয় বা অভিন্ন হয়ে থাকে। এইভাবে গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে একটি সাধারণ সাধারণ উদ্দেশ্য দেখা যায়। 

৮.অভিন্ন আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রা :- গোষ্ঠীর সদস্যদের স্বার্থ বা প্রয়োজন অভিন্ন ও তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকায় তারা সেই প্রয়োজন মেটানোর জন্য যৌথভাবে সচেষ্ট হয়। এইভাবে দেখা যায় , তাদের আচার-আচরণও অভিন্ন হয়ে থাকে। এই আচরণগত অভিন্নতা থেকেই তারা অভিন্ন জীবনযাত্রার অংশীদার হয়ে পড়ে। 

৯. নিয়মকানুন :- প্রত্যেক গোষ্ঠীরই কোনো না কোনো নিয়ম-কানুন থাকে। গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত এগুলিকে মেনে চলে বা কোনো কোনো সময় মেনে চলতে বাধ্য থাকে। গোষ্ঠীর তার সদস্যদের এগুলোকে মান্য করার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করে থাকে। ব্যক্তি তা স্বত্তেও এগুলি না মানলে তাকে গোষ্ঠী থেকে খারিজ করা হয়। 

১০. গোষ্ঠীর আকার :- ক্ষুদ্রাকৃতি ও বৃহদাকৃতির উভয়ই হতে পারে। মাত্র দুইজন ব্যক্তিকে নিয়েও গোষ্ঠী তৈরি হতে পারে , আবার লাখ লাখ লোক জন নিয়েও একটিমাত্র গোষ্ঠী তৈরি হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় ,  স্বামী-স্ত্রী এই দুজন কে নিয়ে একটি গোষ্ঠী তৈরি হয় যার নাম পরিবার।  আবার কোনো রাজনৈতিক দলও একটি গোষ্ঠী যাতে লাখ লাখ সদস্য থাকতে পারে। 

১১. গোষ্ঠী গতিশীল :- গোষ্ঠী স্থিতিশীল নয়। এর আকার , আকৃতি , সদস্যসংখ্যা , উদ্দেশ্য , কার্যাবলী প্রভৃতির পরিবর্তন হয়। গোষ্ঠীর সদস্যদের একদিকে যেমন মৃত্যু হয় , আবার অন্যদিকে নতুন সদস্য জন্মায়। আবার বাইরের কোনো শক্তির প্রভাবে এর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। 

১২. স্থায়িত্ব :-  গোষ্ঠী মোটামুটি একটি স্থায়ী সংগঠন। তবে কিছু কিছু গোষ্ঠী আছে যাদের উদ্দেশ্য সীমিত , সেগুলি অল্প সময়ের মধ্যে উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেলেই বিলুপ্ত হয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে বলা হয় , সমষ্টিগত জীবনধারণের জন্য কিছুটা দীর্ঘসময়ের স্থায়িত্ব বা অবিচ্ছিন্নতার প্রয়োজন হয়। তা না হলে গোষ্ঠী গড়ে ওঠে না। 

১৩.  সম্পত্তি :-  প্রত্যেক গোষ্ঠীরই কোনো না কোনো সম্পত্তি থাকে। তবে সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র বস্তুগত বিষয়াদিকে বোঝায় না।  এগুলি ভাবমূলক এবং আধ্যাত্মিক প্রভৃতিও হতে পারে। অট্টালিকা ,অর্থ,  পতাকা ,  বিশেষ ভাবাদর্শ প্রভৃতি গোষ্ঠীর সম্পত্তি বলে বিবেচিত হয়। 

১৪. ব্যক্তিত্বের প্রভাবক :- গোষ্ঠীর মধ্যেই ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের উন্মেষ ও বিকাশ ঘটে।  অর্থাৎ গোষ্ঠীই  ব্যক্তির ব্যক্তিত্বকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে প্রভাবিত করে থাকে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।



সামাজিক গোষ্ঠীর গুরুত্ব :- 


মানবসমাজধারার অন্যতম ভিত্তি হলো গোষ্ঠী জীবন। সমাজের অবস্থান , কাঠামো , ধারাবাহিকতা ,  পরিবর্তন এসব কিছুই গোষ্ঠীগুলির ক্রিয়াশীলতার ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তি জন্ম থেকে মৃত্যু অর্থাৎ তার সামগ্রিক জীবনধারা প্রবাহিত হয় গোষ্ঠীর মধ্যে দিয়ে। এখানেই সে খুঁজে পায় ''সামাজিক জীব'' হিসেবে পরিচিতি ও পরিব্যাপ্তি। গোষ্ঠীজীবনে অন্তর্ভুক্তি ছাড়া ব্যক্তি দৈনন্দিন প্রয়োজনাদি মিটিয়ে নিতে পারে না ,  আবার সামাজিকতা থেকেও সরে থাকতে পারেনা। তাই তাকে পরিবার থেকে শুরু করে ক্লাব , সংগঠন,  বন্ধুগোষ্ঠী , পেশাগত সংস্থা প্রভৃতি একাধিক গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে থাকতে হয়। এগুলির হাত ধরেই ব্যক্তি খুঁজে পায় তার সামাজিক সম্পূর্ণতা। যাইহোক , সামাজিক গোষ্ঠীর গুরুত্বসমূহকে  নিন্মলিখিতভাবে পর্যালোচনা করা যেতে পারে। 

১. গোষ্ঠী ব্যতীত মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব না হলেও অত্যন্ত কষ্টকর। কারণ , মানুষ তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার , নানারকম স্বার্থ চরিতার্থ করার এবং উদ্দেশ্য পূরণের সুযোগ লাভ করে গোষ্ঠীর মাধ্যমেই। 

২. সামাজিক পরিবেশ বাদ দিয়ে মানুষ একটি প্রাণী থেকে সামাজিক জীব হয়ে উঠতে পারে না। সে সামাজিক হয়ে ওঠে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে এবং এই সামাজিকীকরণ হয়ে থাকে বিভিন্ন গোষ্ঠীর সহায়তায়। অর্থাৎ গোষ্ঠীগুলিই ব্যক্তিকে ''মানুষে'' পরিণত করে এবং তার সামাজিক চরিত্রের বিকাশ ঘটায়।  তাই বলা হয় Man only becomes man among men  । 

৩. গোষ্ঠীজীবন হলো সমাজ জীবনের অংশবিশেষ। এটি সমাজজীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকে , আবার এই পারস্পরিক সম্পর্কের জটাজালই হল সমাজ। তাই শুধুমাত্র ব্যক্তির অস্তিত্বের প্রয়োজনেই নয় , সমাজের অস্তিত্বও গোষ্ঠীর উপর নির্ভরশীল। 

৪. গোষ্ঠী তার সদস্যদের মধ্যে এক প্রকার গোষ্ঠী চেতনার উন্মেষ ঘটায় , যার দ্বারা ব্যক্তির মধ্যে এই উপলব্ধি কাজ করে যে , সে পৃথিবীতে একা নয় , সে সমগ্রতার অংশবিশেষ। এইভাবে গোষ্ঠী ব্যক্তির  মনে তার অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা প্রদান করে। 

৫. গোষ্ঠীর নিয়মকানুন বর্তমান। গোষ্ঠীর সদস্যরা সাধারণত এগুলো মেনে চলে। ব্যক্তি স্বতঃস্ফূর্তভাবে না মানতে চাইলে গোষ্ঠী তার সদস্যদের এগুলি মানতে বাধ্য বাধ্য করে। এভাবে গোষ্ঠী জীবনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে ব্যক্তি নিয়মানুবর্তী হতে শেখে। 

৬. গোষ্ঠীর সদস্যদের মধ্যে একটি গোষ্ঠীগত মনোভাব কাজ করে। এই মনোভাব ব্যক্তির মধ্যে শ্রদ্ধা , সহানুভূতি , প্রেম-ভালোবাসা , দয়া-মায়া , মমতা প্রভৃতি জাগ্রত করে। অন্যভাবে বলা যায় , এই জাতীয় মানব গুণাবলী ও আবেগ অনুভূতির প্রকাশ গোষ্ঠী জীবনেরই ফসল। 

৭. গোষ্ঠী তার উদ্দেশ্যসমূহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলির দ্বারা পূরণ করে। এই প্রতিষ্ঠানগুলি নানা প্রকারের হয়ে থাকে। তাই বলা হয় , সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কাঠামো গোষ্ঠীই তৈরি করে থাকে। 

৮. ব্যক্তিত্ব গঠনে গোষ্ঠী সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। ব্যক্তিত্ব বলতে বোঝায় কোনো ব্যক্তির দৈহিক ও মানসিক বৈশিষ্ট্যগুলির এক সমন্বিত রূপকে। গোষ্ঠীর মধ্যেই কোনো ব্যক্তির এই বৈশিষ্ট্য সম্বলিত ব্যক্তিত্ব গঠিত ও বিকশিত হয়। 

৯. গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যক্তি তার সাংস্কৃতিক উপাদানগুলিকে অধিগত করে ও প্রয়োগ করে। আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হল আমাদের গোষ্ঠী। 

১০. পরিশেষে বলা যায় , ব্যক্তির সামগ্রিক পরিচয় বহন করে তার গোষ্ঠী। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

   














        
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

শিক্ষা ও সমাজতত্ত্বের সম্পর্ক :-  


সমাজ বিজ্ঞানের বিভিন্ন তত্ত্ব ও তথ্য শিক্ষা বিজ্ঞানের বিভিন্ন উপাদানের উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছে এবং আধুনিক শিক্ষাপ্রণালী ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এক উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।বস্তুত সমাজ জীবনের পরিবর্তন , পরিবর্ধন রূপান্তরের সাথে সার্থক অভিযোজন প্রক্রিয়ায় শিক্ষা ছাড়া ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের প্রগতিই অসম্ভব। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


শিক্ষায় ব্যক্তি , সমাজ ও সমাজবিজ্ঞান :- 
ব্যক্তির সার্থক অভিযোজন দক্ষতা জীববিদ্যার ফল হলেও সামাজিক সম্পর্কের নীতিগুলোর অবমাননার মাধ্যমে সেই অভিযোজন দক্ষতাকে সমাজ উপযোগী করা যায় না। তাই শিক্ষায় সামাজিক সম্পর্কের অনুশীলনকারী বিজ্ঞান হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতিগুলি মূল্যবান প্রভাবকে কখনোই অবহেলা করা সঙ্গত নয়। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সাধারণ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া এবং পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করায় শিক্ষার সাথে এর এক নিবিড় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। 
শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক পটভূমিকায় শিক্ষার্থীর পরিপূর্ণ বিকাশ সাধনকে চরম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীর সাথে শিক্ষার বিভিন্ন উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ককে অর্থপূর্ণ ও মূল্যবান হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 

শিক্ষার সমন্বিত রূপ এবং সমাজবিজ্ঞান :-
আধুনিক শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষার যুগে শিক্ষাক্ষেত্রে সকল রকম পরস্পরবিরোধী চিন্তাধারার সমন্বয়সাধনকে বাস্তবে মূর্ত করে তোলা হয়েছে। এই বিংশ শতাব্দীর সমন্বয়ধর্মী শিক্ষা ব্যবস্থায় মনোবিদ্যা , জীববিদ্যা প্রভৃতি বিজ্ঞানের মত সমাজবিজ্ঞানের অবদানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন যুগধর্মের প্রভাবে মানুষের চিন্তার রাজ্যে পরিবর্তন এলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিরও যে পরিবর্তন ঘটে তা অনস্বীকার্য এবং এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন শিক্ষার সীমানায় সমানভাবে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। 
অনুরূপে বিংশ শতাব্দীর পরস্পরবিরোধী চিন্তার সংঘাত শিক্ষাক্ষেত্রে যে সংঘাতএনেছে তারই পরিণতিতে এসেছে সমন্বয়ধর্মী শিক্ষার রূপ এবং এই শিক্ষার রূপে অন্যান্য সমাজ সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানের মতো সামাজিক সম্পর্কের অনুশীলনকারী সমাজ বিজ্ঞানের অবদানও কম নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


শিক্ষার অর্থ , তাৎপর্য এবং সমাজ :- 
শিক্ষার বিভিন্ন দিকে সমাজবিজ্ঞানের প্রভাবকে আরো স্পষ্টভাবে নির্ণয় করতে পারলে শিক্ষার সঙ্গে সমাজবিজ্ঞানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে উদঘাটন করা সম্ভব হবে। আমরা বর্তমানে শিক্ষা বলতে বয়স্ক ব্যক্তির ইচ্ছা অনুযায়ী শিক্ষার্থীর উপর জ্ঞানের বোঝা চাপিয়ে দেওয়াকে বুঝি না। আধুনিক অর্থে মানুষ জীবনব্যাপী প্রক্রিয়ায় মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যে নানা ধরনের অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে তাই হলো শিক্ষা। 
এই অভিজ্ঞতা লাভের আধুনিক শিক্ষায় মানুষ কখনোই পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের রীতিনীতিকে অবহেলা করতে পারে না। আর এখানেই শিক্ষা হচ্ছে এক সামাজিক প্রক্রিয়া এবং সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক যুক্ত এক বিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞানের সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতেই শিক্ষা সমাজ সংরক্ষণের কাজ করে , সমাজের সাংস্কৃতিক পরিবেশের যুগান্তরে পরিবাহনের কাজ করে এবং সমাজ প্রগতির উল্লেখযোগ্য উপায় হিসেবে নিজেকে নিযুক্ত রাখে। সুতরাং আধুনিক শিক্ষার অর্থ ও তাৎপর্য সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্বের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত। 

শিক্ষার লক্ষ্য ও সমাজবিজ্ঞান :- 
শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণেও সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাব সুস্পষ্ট। খুব সংক্ষেপে আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য হচ্ছে , শিক্ষাকে ব্যক্তিত্বমন্ডিত এবং শিক্ষার্থীকে সমাজমন্ডিত করে তোলা। আধুনিক শিক্ষার এই লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের চাহিদাই সমান গুরুত্বপূর্ণ। এক কথায় আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য ব্যক্তিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক শিক্ষার লক্ষ্যের এক সুসংহত ও সমন্বিত রূপ। 
যে সমাজ ব্যবস্থায় শিক্ষার এই সমন্বয় সম্ভব শিক্ষাবিদ ডিউই এর ভাষায় তাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। এই সমাজ ব্যবস্থায় যে বিশেষ ধরনের শিক্ষা প্রবর্তিত হয় তা প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে সকল সমাজ সম্পর্ক ও সমাজ নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব আগ্রহবোধ বিকাশে সহায়তা করে এবং প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে সামাজিক ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে অনুপ্রেরণা প্রদান করে। মুদালিয়র কমিশনে শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন স্পষ্ট। 

পাঠক্রম রচনার ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞান :- 
কেবল শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য নয় , আধুনিক শিক্ষার পাঠক্রম রচনাতেও সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাব সমানভাবে সুস্পষ্ট।  এই পাঠক্রম রচনার নীতি গুলিতে সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন এত প্রকট যে , আধুনিক শিক্ষার পাঠক্রম রচনায় পাঠক্রমকে কেবল বিষয়ের সমষ্টি হিসাবে দেখা হয় না -  দেখা হয় বিদ্যালয় প্রদত্ত সকল রকম অভিজ্ঞতার সমষ্টি হিসেবে। এখানে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত চাহিদা ও তার বিভিন্ন সামাজিক চাহিদার সমন্বিত রূপকে লক্ষ্য করা যায় ,
বর্তমান পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠক্রমকে এমন ভাবে রচনা করা হচ্ছে যাতে তার পশ্চাতে দুটি উপাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে - একটি উপাদান হলো শিশুর স্বভাব বা স্বাভাবিক আগ্রহ এবং অপর উপাদানটি হল সামাজিক প্রয়োজনীয়তা। আর পাঠক্রম রচনার কাজে সামাজিক চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার মূলে রয়েছে সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাব। সুতরাং আধুনিক শিক্ষার পাঠক্রম পরিকল্পনা সমাজবিজ্ঞানের নীতি ও তত্ত্বের উপর নির্ভরশীল। 

শিক্ষণপদ্ধতি ও সমাজবিজ্ঞান :- 
পাঠক্রম পরিকল্পনায় সমাজবিজ্ঞানের প্রভাব যেমন গুরুত্বপূর্ণ ; আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির সামাজবিজ্ঞানের প্রভাব তেমনি উপেক্ষা করা যায় না। বর্তমানে শিক্ষাপদ্ধতির মূল কথা হচ্ছে শিক্ষার্থী আত্মসক্রিয়তা বৃদ্ধির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা গ্রহণে সহায়তা করা। এই আত্মসক্রিয়তার নীতির পরিপূরক হিসাবেই বর্তমানে শিক্ষায় কর্মকেন্দ্রিক শিক্ষার নীতি কে গ্রহণ করা হয়েছে। এমন শিক্ষাপদ্ধতিকে বর্তমানে বিজ্ঞানসম্মত ও গতিশীল বলা হচ্ছে যে কাজের মাধ্যমে শিক্ষাদান করতে সক্ষম। 
এই সকল কর্মকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতির পশ্চাতে যে তত্ত্ব ও নীতি সুস্পষ্ট তা মানুষকে যৌথ কাজের প্রেরণা দেয় , তার সহযোগিতার মানসিকতা বৃদ্ধি করে এবং সামাজিক দক্ষতা , যোগ্যতা এবং অন্যান্য পারস্পরিক সম্পর্কের গুণরাজি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। সুতরাং আধুনিক কর্মকেন্দ্রিক শিক্ষা পদ্ধতির নীতি সমাজবিজ্ঞানের তত্ত্ব ও নীতিগুলির উপর প্রতিষ্ঠিত। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।


বিদ্যালয় সংগঠন , পরিচালনা ও সমাজবিজ্ঞান :- 
আধুনিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যালয় সংগঠন ব্যবস্থায় সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাব খুবই স্পষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ।  বিদ্যালয় সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত এবং শিক্ষাবিদ ডিউই এর মতে , এটা হচ্ছে প্রকৃত সরলীকৃত এবং সুসামঞ্জস্যপূর্ণ সমাজ। 
কেবল সংগঠনের দিক থেকে নয় , সামাজিক দায়িত্ব পালনেও বিদ্যালয়ের কাজ তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুতঃ শিক্ষার্থীর সামাজিকীকরণের কাজে বিদ্যালয়ের অবদান সমাজবিজ্ঞানের প্রভাবকে মূর্ত করে তোলে।  সমাজ সংরক্ষণ ,  সমাজ-সংস্কৃতির পরিবাহন এবং সমাজ প্রগতির উন্মেষনে বিদ্যালয়ের সামাজিক দায়িত্ব খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। 
তাছাড়া বিদ্যালয় ভিন্ন অন্যান্য বিভিন্ন অন্যান্য সামাজিক সংস্থাও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে কাজ করে থাকে এবং বিদ্যালয়কে এদের সাথে পারস্পরিক সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে নিজের দায়িত্ব পালনে ব্রতী হতে হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আধুনিক শিক্ষায় বিদ্যালয় সংগঠনে ,  বিদ্যালয়ের কর্তব্য নির্ধারণে  এবং বিদ্যালয়ের সাথে অন্যান্য সামাজিক শিক্ষা সংস্থার সম্পর্ক নিরূপণে সমাজবিজ্ঞানের প্রভাব বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। 

আধুনিক শিক্ষকের কর্তব্য , দায়িত্ব এবং সমাজ বিজ্ঞান :- 
আধুনিক শিক্ষকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে যে পরিবর্তন সাধন করা হয়েছে তাও কমবেশি সমাজবিজ্ঞানের নীতি ও তত্ত্বকেন্দ্রিক। আধুনিক শিক্ষায় একজন শিক্ষক হচ্ছেন শিক্ষার্থীর বন্ধু , দার্শনিক ও নির্দেশক। এই কাজে শিক্ষককে সুষ্ঠভাবে ব্রতী হতে হলে পারস্পরিক সুসম্পর্কের নীতি গুলিকে বিজ্ঞানসম্মত পথে অনুধাবন করতে হয়। 

ব্রাউন বলেছেন যে , শিক্ষক নিজে শিক্ষার্থীদের কৃষ্টিগত উত্তরাধিকার সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করবেন এবং তাদের সামাজিক সম্পর্কের প্রক্রিয়াজনিত ব্যবহারে পরিচালকের ভূমিকা গ্রহণ করবেন। শিক্ষকের এই পরিবর্তিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতনতায় সমাজবিজ্ঞানের প্রভাব সুস্পষ্ট। 

শিক্ষায় মানবীয় সম্পর্ক ও সমাজবিজ্ঞান :- 
পরিশেষে , আধুনিক শিক্ষায় মানবীয় সম্পর্কের বিকাশ ও বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষাপ্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী - শিক্ষক ,  শিক্ষার্থী - শিক্ষার্থী ,  শিক্ষক - শিক্ষক , প্রধান শিক্ষক - শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষক - অভিভাবক প্রভৃতির সামাজিক পারস্পরিক সম্পর্কেকে খুবই মূল্যবান মনে করা হয়েছে। এখানেও সমাজ বিজ্ঞানের প্রভাব বিদ্যমান। শিক্ষাক্ষেত্রে সামাজিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে উপরোক্ত মানবীয় সম্পর্ক নির্ধারণ ব্যবস্থা সমাজবিজ্ঞানের প্রভাবকেই মূর্ত করে তুলেছে। 

উপসংহারে বলা যায় যে , সমাজ বিজ্ঞানের বিভিন্ন নীতি ও তত্ত্ব শিক্ষার বিভিন্ন উপাদানের উপর বিশেষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে। তাই সামাজিক বিজ্ঞানের নীতি ও তত্ত্বের বিবেচনা ব্যতিরেকে আধুনিক শিক্ষা প্রকৃতির বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ অসম্ভব এবং এরকম কোন প্রচেষ্টা অলীক প্রচেষ্টার  নামান্তর। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো।

Share
Tweet
Pin
Share
1 comments

সামাজিক পরিবর্তনের উপাদান সমূহ :- 

Factors of Social Change ( In Bengali ). 



সামাজিক পরিবর্তন একটি জটিল সামাজিক প্রক্রিয়া। সমাজে এই পরিবর্তন ঘটে বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে দিয়ে। তাই সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কোন একটি নির্দিষ্ট কারণ বা  উপাদান দায়ী নয়। বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন ধরনের উপাদান এ ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়। আবার দেশ-কালের পরিপ্রেক্ষিতে উপাদানের পরিবর্তন ঘটতে পারে ; ফলে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নানাবিধ বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। সুতরাং কোন কোন উপাদানের মধ্যে দিয়ে সামাজিক পরিবর্তন বাস্তবায়িত হবে তা এককথায় বলা না গেলেও সমাজতাত্ত্বিকগণ  কতগুলি নির্দিষ্ট উপাদান অন্বেষণে নিয়োজিত হয়েছেন। তাই সমাজবিজ্ঞানীদের পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কয়েকটি নির্দিষ্ট উপাদান চিহ্নিত করতে পারি যেমন :- 
১. জৈব উপাদান 
২. প্রযুক্তিগত উপাদান 
৩. সাংস্কৃতিক উপাদান 
৪. মনস্তাত্ত্বিক উপাদান 
৫. অর্থনৈতিক উপাদান 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো


১. জৈব উপাদান :- 
সামাজিক পরিবর্তনের একটি অন্যতম উপাদান হিসাবে জৈব উপাদানের গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জৈব উপাদান বলতে কতগুলি বিষয়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলি হল জন্ম-মৃত্যুর ফলে জনসংখ্যার হ্রাস - বৃদ্ধি এবং তার সামাজিক ফলাফল , জন্ম-মৃত্যুর ফলে জনসংখ্যার হ্রাস - বৃদ্ধির জৈব সামাজিক কারণসমূহের কার্যপ্রক্রিয়া এবং যৌন নির্বাচনের রীতিনীতি প্রভৃতি। 

সমাজতাত্ত্বিকদের বিচারে জনসংখ্যার হ্রাস - বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে সামাজিক পরিবর্তনের পর্যালোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। জনসংখ্যার আয়তনের পরিবর্তন সামাজিক পরিবর্তনের ওপর নানাবিধ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিশেষ করে প্রচলিত অর্থব্যবস্থা ,  সামাজিক আচার আচরণ , মূল্যবোধ , প্রথা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এই প্রভাব স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয়। তবে সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জনসংখ্যার হ্রাস - বৃদ্ধি শেষ কথা নয়। 

জনসংখ্যার হ্রাস - বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে সকল সামাজিক বিষয় সমূহ প্রভাব বিস্তার করে তার মধ্যে বহুবিবাহ , বাল্যবিবাহ , বিধবা বিবাহ প্রভৃতি সামাজিক প্রথা এবং জরা , ব্যাধি ,  মহামারী প্রভৃতি নিরাময় সংক্রান্ত সামাজিক কার্যকলাপ।  

আধুনিক সমাজের মূল লক্ষ্য হলো জন্ম এবং মৃত্যু হার নিয়ন্ত্রণ। ফলে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে , সেই সঙ্গে জন্মহার নিয়ন্ত্রণেরও নানাবিধ সচেতনতামূলক কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। 

২. প্রযুক্তিগত উপাদান :- 
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত উপাদানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। সমাজতাত্ত্বিক অধ্যাপক কিংসলে ডেভিস ( K. Devis ) বলেছেন , বিজ্ঞান বলতে মানুষের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের অংশবিশেষকে বোঝায়। এর দ্বারা প্রকৃতি সম্পর্কে সুসংবদ্ধ জ্ঞানের বিকাশ ঘটে এবং প্রযুক্তি হল এই বিকশিত জ্ঞানের প্রায়োগিক দিক। সমাজতত্ত্বে প্রযুক্তিবিদ্যার ধারণাকে ব্যাপক অর্থে গৃহীত হয়েছে। এখানে সমাজ জীবনে প্রযুক্তিবিদ্যার প্রত্যাশিত সাফল্যের সাথে সহায়ক ও পরিবর্তিত মানসিক গঠন বিন্যাস ও সামাজিক কাঠামোর উপর আলোকপাত করা হয়েছে। সমাজতাত্ত্বিক ফস্টার বলেন , প্রযুক্তিবিদ্যার উন্নতি বলতে  কেবলমাত্র পার্থিব ও প্রযুক্তিমূলক উন্নয়নকে বোঝায় না - এ হলো এক বিশেষ ধরনের সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও মনস্তাত্ত্বিক পদ্ধতি। 

প্রযুক্তিবিদ্যার ফলে সামাজিক পরিবর্তন কিভাবে ঘটে সে সম্পর্কে বিধিবদ্ধ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে - 
(ক ) প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাবে উৎপাদন ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঘটে। উৎপাদনের গুণগত এবং পরিমাণগত মানেরও  শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। 
(খ ) শিল্পক্ষেত্রের পাশাপাশি কৃষিজ উৎপাদনও প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাবে প্রভাবিত হয়। যে দেশে কৃষি এবং শিল্পের সমান্তরাল অগ্রগতি ঘটে সে দেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রেও যে পরিবর্তন ঘটবে - সে কথা নিশ্চিত। 
(গ ) প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাবে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী সহজলভ্য হয়। প্রাত্যহিক জীবনে নানাবিধ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে মানুষের কায়িক শ্রম হ্রাস পায় , সুখ- স্বাচ্ছন্দ বৃদ্ধি পায়। 
(ঘ ) বহুমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার বৃদ্ধি ঘটলে মানুষ তাতে জড়িয়ে পড়ে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাভবান হয়। 
(ঙ ) প্রযুক্তি বিদ্যার প্রসার নারী পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্যেও পরিবর্তন আনে।  সাম্প্রতিক কালে নারী শিক্ষার প্রসার , নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা প্রদান ইত্যাদির পাশাপাশি বৈবাহিক সম্পর্কেও নানাবিধ শিক্ষার প্রসার ও পরিবর্তন ঘটেছে। 
(চ ) প্রযুক্তিবিদ্যার প্রসার মানুষের মানসিকতার মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। এর দ্বারা মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠেছে এবং পেশাভিত্তিক মানসিকতা গড়ে তুলেছে। 
(ছ ) প্রযুক্তিবিদ্যা সামাজিক কাঠামোরও পরিবর্তন ঘটায় এবং এর ফলে সমাজজীবন প্রায় কুসংস্কারমুক্ত হয়ে উঠেছে।  শ্রেণি কাঠামোতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।
( জ )  প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাব রাষ্ট্রের কার্যাবলীকেও  প্রভাবিত করছে। এর দ্বারা রাষ্ট্রের কার্যাবলী শুধু পরিবর্তন হয়েছে তা নয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

৩. সাংস্কৃতিক উপাদান :- 
মানব সমাজের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে সংস্কৃতি মানুষেরই তাত্ত্বিক সৃষ্টি। মানব সমাজের সামগ্রিক পরিচিতির ধারক হল সংস্কৃতি। এই সংস্কৃতিকে সামাজিক পরিবর্তনের অপর একটি অন্যতম অন্তর্নিহিত উপাদান বলে মনে করা হয়। প্রকৃতঅর্থে সংস্কৃতি স্থিতিশীল বিষয় নয় ,  তবে এটির পরিবর্তন ধীরগতিসম্পন্ন। মানুষের চিন্তা , চেতনা , ন্যায়-নীতি বোধ , আদর্শ  মূল্যবোধের মধ্যে দিয়ে সংস্কৃতি বাস্তবায়িত হয়। এগুলির পরিবর্তন ঘটলে সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন ঘটে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যার প্রভাবে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ধারা দ্রুততর হয়।  আবার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রভাবে প্রযুক্তিবিদ্যার পরিবর্তনেও প্রভাব পড়ে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৪.  মনস্তাত্ত্বিক উপাদান :- 
মানব সমাজকে একটি নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন হিসেবেও ধার্য করা হয়। মানব সমাজে যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ঘটে তার অভ্যন্তরে মানুষের মনস্তত্ত্ব গভীরভাবে কাজ করে। প্রকৃত অর্থে কোন পরিবর্তনই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না , যতক্ষণ না মানুষ মনোজাগতিক দিক দিয়ে সেই পরিবর্তনকে গ্রহণ করে।  তাই সামাজিক পরিবর্তনের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য উপাদান হিসেবে মনস্তাত্ত্বিক উপাদান কে চিহ্নিত করা হয়। মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলি সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ভাবে কাজ করে থাকে যেমন :- 
(ক ) প্রকৃত অর্থে মানুষ আত্মকেন্দ্রিক , এর ফলে সমাজে দ্বন্দ্ব , বৈষম্য ইত্যাদি গড়ে ওঠে।  সাম্প্রতিক একক পরিবারের গঠন মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের উল্লেখযোগ্য দিক। 
(খ ) পারস্পরিক অনুকরণপ্রিয়তা সমাজের মধ্যে বিশেষ ধরনের মনোজাগতিক পরিবর্তন আনতে পারে। 
(গ ) সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচি বোধের পরিবর্তন ঘটে। এর ফলে সামাজিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়। 
(ঘ ) সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবর্গের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তাদের দেশভক্তি , আদর্শ , চিন্তাধারা প্রভৃতি সাধারণ মানুষের মনোজগতের যে প্রভাব বিস্তার করে তার ফলে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হয়। 

৫. অর্থনৈতিক উপাদান :- 
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক উপাদানের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয়।  অর্থব্যবস্থা হলো সমাজ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় সংগঠন। তাকে বাদ দিয়ে সমাজব্যবস্থার অবস্থান ভাবা হয় না। মানুষের আচার-আচরণ , রীতিনীতি প্রভৃতি প্রচলিত অর্থ ব্যবস্থার উপর বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে। সাংস্কৃতিক জীবনের ক্ষেত্রে এই উপাদানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বিশিষ্ট সমাজ বিজ্ঞানী V. Pareto বলেছেন , অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও মন্দা সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ক্রিয়াশীল উপাদান বিশেষ ভূমিকা পালন করে। আবার অর্থনৈতিক উপাদান সমাজে অবস্থিত অন্যান্য ক্রিয়াশীল উপাদানের উপরেও অনেকখানি নির্ভর করে। 

সুতরাং বলা যায় যে ,  সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন একটি সর্বজনীন ঘটনা। সমাজের কোন বিষয়ের পরিবর্তন ঘটবে , আর কোন কোন বিষয়ের পরিবর্তন ঘটবে না - এভাবে কিছু বলা যায় না। অর্থাৎ সমাজের সার্বিক বিষয়ই পরিবর্তনের অধীন। তবে কোনটি দ্রুত পরিবর্তিত হয় আর কোনটি ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। সমাজের নানাবিধ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলি পরস্পর সম্পর্কিত। সমাজের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একাধিক উপাদান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। এই উপাদানগুলিও পরস্পর সম্পর্কিত। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments


সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসাবে শিক্ষার ভূমিকা :- 


শিক্ষার প্রসার ব্যতীত দেশের আপামর জনসাধারণকে শিক্ষিত করার কোনো বিকল্প প্রক্রিয়া যেমন নেই ; তেমনই শিক্ষিত জনসাধারণ ব্যতীত গণতান্ত্রিক আদর্শের রূপায়ণ সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক আদর্শ লাভের উদ্দেশ্যে প্রতিটি যথার্থ পদক্ষেপ সমাজব্যবস্থা এবং সমাজজীবনে পরিবর্তন ও প্রগতি নিশ্চিত করে থাকে।

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

সমাজ ও মানবজীবন সদা গতিশীল ও পরিবর্তনশীল। বিবর্তনের ধারায় মানবজীবন প্রতিটি মুহূর্তে পরিবর্তনশীল। সেই ধারা অনুসরণ করে শিক্ষাও সর্বদা পরিবর্তনশীল , কেননা শিক্ষা , সমাজ ও মানবজীবন -প্রতিটি উপাদানই পরস্পর সম্পর্কিত। আমাদের অতীতের শিক্ষা ও সংস্কৃতির মধ্যে বর্তমানের বীজ লুকিয়ে থাকে , এবং বর্তমানের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে ভবিষ্যতের পরিকাঠামো। এই ক্ষেত্রে শিক্ষা অতীতের ভিতের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতের সমাজ কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করে। সমাজের পরিবর্তন নিঃসন্দেহে একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার পরিণতি এবং শিক্ষা হল তার অন্যতম একটি মাধ্যম। 

বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিকতা প্রায় প্রতিটি রাষ্ট্রের আদর্শ এবং এই আদর্শের অন্যতম লক্ষ্য গুলি হল শ্রেণিবৈষম্যহীন , শোষণমুক্ত , আদর্শ গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন। এই ধরণের সমাজব্যবস্থায় শিক্ষা ব্যক্তিকে উচ্চশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে ব্যক্তিকে মানবিক গুণগুলি অর্জন করতে সহায়তা করে।   

জন ডিউই ও কোঠারি কমিশনের অভিমত : -  প্রতিটি ব্যক্তির সমাজ নির্দেশিত পথে বিকাশ - বৃদ্ধির প্রক্রিয়া হিসাবে শিক্ষাকে বিবেচনা করেছেন জন  ডিউই। তিনি মনে করেন , শিক্ষা হল প্রত্যেক ব্যক্তির Socially directed growth  ।  আমরা জানি , দেশের প্রতিটি ব্যক্তিকে সম্পদ হিসেবে বিকশিত করে তুলতে শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বস্তুতঃ দেশের ও জাতির উন্নতিকে সুদৃঢ় করে তুলতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি , শিল্প , যানবাহন , বাজার ও লেনদেনের পরিবেশকে সুস্থ ও সমৃদ্ধ করা খুবই জরুরি। এই প্রেক্ষিতে দেশের সকল প্রাকৃতিক সম্পদকে যোগ্যভাবে ব্যবহার করতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিদ্যাকে যেমন কাজে লাগাতে হবে ঠিক তেমনভাবেই শিক্ষা পরিকাঠামোকে উপযুক্তভাবে উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। এই প্রসঙ্গে কোঠারি কমিশনের বক্তব্য হল - Changes in the knowledge , skill , interests and values of the people as a whole . 

সমাজ পরিবর্তনের সাথে সাথে শিক্ষার পরিবর্তন ও পরিশীলন যে অবশ্যই প্রয়োজন তা অনস্বীকার্য। বর্তমান প্রজন্মের কাছে আগামীদিনের সমাজ পরিবর্তনের চিত্রটুকু শিক্ষার মধ্যে দিয়ে যদি তুলে ধরা যায় তাহলে তাদের অধুনা গৃহীত শিক্ষা অবশ্যই আগামীদিনের পরিবর্তনে অনেকখানি ভূমিকা নিতে পারে। সমাজকে ভবিষ্যৎ জীবনের উপযোগী করে তোলার জন্য তার পরিবর্তন ও পরিমার্জন প্রয়োজন , এবং এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে শিক্ষা। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

শিক্ষা যেভাবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে :- 
(ক ) নিরক্ষর মানুষদের সাক্ষর করে তোলার মধ্যে দিয়ে। 
(খ ) শিল্পায়ন ও নগরায়নের যথার্থ বোধের প্রসার ঘটানো।
(গ ) জনসংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় ও সে সম্পর্কিত সমস্যাদি যথার্থভাবে তুলে ধরে। 
(ঘ ) জনংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশ উপযোগী নীতির ধারণা প্রদান। 
(ঙ ) রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মালিকানার পরিমিতি নির্ধারণ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে। 
(চ ) বিশ্বায়ন , অর্থনৈতিক উদারীকরণ , আধুনিকীকরণ - ইত্যাদি বিষয়গুলিকে যথাযথভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে। 
(ছ ) সামাজিক বোধ , উপলব্ধি ও চেতনার বিকাশে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। 

ফলত , শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিকাঠামোগত ও অন্যান্য বিষয়গত নির্দেশ দিয়ে সমাজ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলিকে শিক্ষাকেই তুলে ধরতে হয়। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষাই মূর্ত প্রচেষ্টা করে থাকে। সাম্য , ন্যায়নীতি , গণতান্ত্রিকতাবোধ , সার্বজনীন শিক্ষা , কৃষি - শিল্পের প্রসারের জন্য শিক্ষা , অর্থনৈতিক উন্নয়ন উপযোগী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের শিক্ষা , বিজ্ঞান ও কারিগরি দক্ষতার বিকাশের জন্য গবেষণামুখী শিক্ষা , সমাজ পরিবর্তনের সাথে সংগতি বিধানের ও অভিযোজনের শিক্ষা - এই সকল বিষয়গুলি প্রসারের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করে। 

পরিশেষে বলা যায় যে , শিক্ষা সমাজ পরিবর্তনের এক মূল্যবান হাতিয়ার হিসাবে - 
(১) সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ আত্মস্থ করে এবং এভাবেই সংস্কৃতিকে সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করে এবং সমাজকে স্থায়িত্ব দানে উদ্যোগ গ্রহণ করে। 
(২) নতুন সমাজের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে। 
(৩) সামাজিক রীতিনীতি , বিধিনিষেধ ও অন্যান্য অনুশাসনের পরিবর্তনকে সুস্পষ্ট করে। 
(৪) আগামীদিনের ধর্মীয় বোধ ও উপলব্ধি অনুভূতিকে জনসমাজে সঞ্চারণ ও সঞ্চালন করে। (৫) ভবিষ্যৎ সমাজের আর্থ - সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ধারাকে মূর্ত করে সমাজ পরিবর্তনের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। 

আবার , জনগণের উপযুক্ত জ্ঞান , দক্ষতা , আগ্রহ এবং মূল্যবোধকে পরিবর্তন করতে হলে শিক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত ও সুযোগ্য মানব সম্পদ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তাকে কেউই অস্বীকার করতে পারেন না। এজন্য কোঠারি কমিশনের সুপারিশে যথার্থই বলা হয়েছে যে , সমাজের যথার্থ ও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনে '' The development of human resources through a properly organised programme of education '' -  খুবই প্রয়োজন। 

Education and social change have a two way traffic . 
- Kothari Commission .

" Education is expected to change the attitude and values among people and create in them a desire for progress .'' 
- Kothari Commission .

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
            
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সামাজিক পরিবর্তন  [ Concept of Social Change & features ] 




সামাজিক পরিবর্তনের ধারণা : - 


পরিবর্তন শব্দটি বহুমাত্রিক। পরিবর্তন বলতে বোঝায় লক্ষ্য , দক্ষতা , দর্শন , বিশ্বাস এবং আচরণের পরিবর্তন। আবার পরিবর্তন বলতে বোঝায় '' নতুনের প্রবর্তন ''। সামাজিক পরিবর্তন বলতে বোঝায়  মানবসমাজের পরিকাঠামো এবং কার্যাবলীতে পরিবর্তন। সামাজিক পরিবর্তন বলতে কিছু পরিবর্তিত ক্রিয়াকলাপকে বোঝায় যেগুলি সামগ্রিকভাবে সমাজের রূপ ও পরিকাঠামোর মধ্যে পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তন পৃথক পৃথকভাবে পরিলক্ষিত হয়। সামাজিক পরিবর্তন শব্দটি সামাজিক প্রক্রিয়া , সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং সামাজিক সংগঠনের যে কোন দিকের বৈচিত্র ও পরিবর্তন কে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো


ম্যাকাইভার ও পেজ বলেন , সমাজ হল জীবন প্রবাহের একটি কালক্রম।  সমাজের ধারণা গতিশীল , স্থিতিশীল নয়। সমাজ একটি প্রক্রিয়া বিশেষ , কোনো ফলশ্রুতি নয়। মানব সমাজ পরিবর্তনশীল বলেই  আদিম সমাজ থেকে ক্রমবিকাশের ধারায় বর্তমানে আধুনিক সমাজ গড়ে উঠেছে।  সামাজিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার ও পেজ তিনটি শর্তের কথা বলেছেন , যে শর্ত গুলির উপর ভিত্তি করে সমাজ পরিবর্তিত হয়।  যেমন , - 
(i) মানুষের দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশের পরিবর্তন। 
(ii) মানুষের ভাবনা চিন্তা ও বিশ্বাসের পরিবর্তন এবং
(iii)  দৈহিক ও ভৌতিক পরিবর্তন। 

এই তিনটি শর্তের উপর নির্ভর করে যথাক্রমে প্রযুক্তির পরিবর্তন , সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং জৈব - ভৌতিক পরিবর্তন ঘটে। সমাজ কোন বস্তু নয় , সমাজ হলো মানুষে মানুষে পারস্পরিক সম্পর্কের এক আন্তর্জাল। মানুষের আন্তঃমানবিক সম্পর্কের মধ্যে যে গতিশীলতা পরিলক্ষিত হয় , তাই সামাজিক পরিবর্তন আনে। সমাজ একটি নিরপেক্ষ , প্রভাববাহী , চলমান ধারা। সমাজের প্রভাব প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পরম্পরায় সঞ্চালিত হয়।  শ্রীঅরবিন্দের মতে , সময় এবং সমাজের নিরবচ্ছিন্ন স্রোতে , প্রতি রাতের শেষে , প্রতিটি নতুন ঊষায় , প্রতিটি বিগত দিনের মৃত্যু ও নবাগত দিনের জন্ম হয়। 

বর্তমান সমাজ হাজার হাজার বছর আগের সমাজব্যবস্থার পরিবর্তিত রূপ। কালের গতিতে ও বিবর্তনের ধারায় সমাজের বহিরঙ্গ এবং অভ্যন্তরীণ প্রকৃতিতে প্রভূত পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে।  

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো


সামাজিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য :- 


সামাজিক পরিবর্তনের যে প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যগুলি পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে যেগুলি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তা হল :- 

(i) সামাজিক পরিবর্তন সামাজিক প্রকৃতির :- 
সামাজিক পরিবর্তনের অর্থ হলো সামাজিক সম্পর্কের ধারার পরিবর্তন। সামাজিক সম্পর্ক সামাজিক ক্রিয়াকলাপ , সামাজিক মিথস্ক্রিয়া এবং সামাজিক সংগঠনের নিরিখে সংজ্ঞায়িত হয়। এই তিনটি পরিবর্তনের পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন সভ্যতা আসে , যার মধ্যে পুরাতনের মূল সত্তা রয়েই যায়। অর্থাৎ সামাজিক পরিবর্তন ব্যক্তিগত পরিবর্তনের থেকে স্বতন্ত্র। এর কারণ এবং ফলাফল উভয়ই সামাজিক প্রকৃতির হয়। 

(ii) সামাজিক পরিবর্তন সর্বজনীন :-
সামাজিক পরিবর্তন সকল প্রকার সমাজে সকল সময়ে বর্তমান। কোন সমাজই সম্পূর্ণ গতিহীন নয়।  সমাজ প্রাচীন হোক বা নতুন , শহর হোক বা গ্রামের , সরল হোক বা জটিল , কৃষিনির্ভর হোক বা শিল্পনির্ভর - তা সবক্ষেত্রে সর্বদাই পরিবর্তনশীল।  এই পরিবর্তন দ্রুত বা ধীর গতিসম্পন্ন হতে পারে ; কিন্তু বাস্তবে গতিহীন কোন সমাজ নেই। 

(iii) সমাজ পরিবর্তনের ধারা নিরবচ্ছিন্ন :- 
সামাজিক পরিবর্তন সবিরাম নয় , নিরবচ্ছিন্ন। পরিবর্তনের ধারা কখনো থামে না আর সমাজকেও পরিবর্তনের থেকে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এটি বিরামহীন চলমান পদ্ধতি।  পরিবর্তনের উৎস , অভিমুখ , হার এবং  প্রকৃতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয় মাত্র , কিন্তু থামেনা। 

(iv) সামাজিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী :- 
সামাজিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। নতুন চাহিদা ,পরিবর্তন আনার চেষ্টা এগুলি মানুষের স্বকীয় প্রবৃত্তি। মানুষের চাহিদাগুলি সীমাহীন এবং সেগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে থাকে। সেই সকল চাহিদার পূর্তির জন্যই নিয়ত সামাজিক পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। 

(v) সামাজিক পরিবর্তন সাময়িক : - 
কোন নির্দিষ্ট সামাজিক পরিবর্তন সাময়িক। যে কোন বস্তু বা ঘটনায় পরিবর্তন আসা সময়সাপেক্ষ। কোন ক্ষেত্রে কোনো সামাজিক পরিবর্তনের ফলাফল দ্রুত প্রতিভাত হয় , আবার অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোন নির্দিষ্ট সামাজিক পরিবর্তন থেকে অভিপ্রেত ফল পেতে বহুযুগ লেগে যায়। একইভাবে কিছু সামাজিক পরিবর্তন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে , আবার কিছু দ্রুত স্মৃতির অতলে হারিয়ে যায়।  বিপ্লব , শৈলী , রীতি , কৃষ্টি এই সকল কিছুর ক্ষেত্রেই এই ঘটনা সত্য। 

(vi) সামাজিক পরিবর্তন সমগতিসম্পন্ন নয় : - 
যদিও সামাজিক পরিবর্তন সকল সময়ব্যাপী চলে , তবুও এর হার বা গতি সবসময় একই থাকে না। এক সমাজ থেকে আর এক সমাজে এমনকি একই সমাজের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন সময়ে এর হার বিভিন্ন হয়।  কখনো এই হার খুব দ্রুত , কখনো ধীর। এই গতি নির্ভর করে সমাজের প্রকৃতির উপর। যেমন - উন্মুক্ত ও বদ্ধ প্রকৃতির সমাজে একই প্রকার পরিবর্তনের হার ভিন্ন ভিন্ন হয়। আবার শহরের ও গ্রামের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরিবর্তনের হারের তারতম্য দেখা যায়। এই পার্থক্য আধুনিক বা পুরাতনপন্থী সমাজের মধ্যেও  বর্তমান। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো


(vii) সামাজিক পরিবর্তন পরিকল্পনামাফিক বা অপরিকল্পিত উভয়ই হতে পারে :- 
কোনো ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তন পরিকল্পনামাফিক হয় , কোনো ক্ষেত্রে আবার পরিকল্পনা ব্যতিরেকেও হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে যে পরিবর্তন সমাজে আসে তা প্রকৃতপক্ষে পরিকল্পনাবিহীন।  এই পরিকল্পনাবিহীন পরিবর্তনগুলি সহজাত , আকস্মিক বা কোনো তৎপর সিদ্ধান্তের ফল। সাধারণত বন্যা , খরা , দুর্ভিক্ষ , অগ্নুৎপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যে পরিবর্তন গুলি আসে সেগুলি অপরিকল্পিত। এই সকল অপরিকল্পিত সামাজিক পরিবর্তনের হার ও অভিমুখের ওপর মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। 
মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিই হলো পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করা। তাই অনেকক্ষেত্রে মানুষের দ্বারা কোনো পরিকল্পনা , কার্যক্রম বা কর্মকান্ড গৃহীত হয় সমাজে কাঙ্খিত পরিবর্তন আনার উদ্দেশ্যে। এগুলি  পরিকল্পিত পরিবর্তন। যেহেতু এগুলি সচেতন ও ইচ্ছাকৃত , তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ধরনের পরিবর্তনের অভিমুখ ও গতির ওপর মানুষেরই নিয়ন্ত্রণ থাকে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে আমাদের দেশের সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার কথা। 

(viii) সামাজিক পরিবর্তন বহু - নৈমিত্তিক :-
একটি নির্দিষ্ট উপাদানের প্রভাবে সামাজিক পরিবর্তন আসতেই পারে , তবে বাস্তবে তা আরও অনেকগুলি সমপ্রকৃতির উপাদানের সঙ্গে সম্পর্কিত থাকে। গঠনগত , জৈবিক , জনতাত্ত্বিক , সাংস্কৃতিক , প্রযুক্তিগত প্রভৃতি আরো অনেক উপাদান পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তনের জন্ম দেয়। সামাজিক ঘটনাবলীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতাই এর কারণ। 

(ix) ক্রমান্বয়ী প্রতিক্রিয়ার উৎস :- 
যেহেতু সমাজের বিভিন্ন অংশগুলি একে অপরের সঙ্গে নিবিড় ভাবে সম্পর্কিত , তাই যেকোন প্রকার সামাজিক পরিবর্তন একক প্রতিক্রিয়ায় জন্ম না দিয়ে ক্রমান্বয়ে পরস্পর সম্পর্কিত প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিতে থাকে।  উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে , সমাজে মহিলাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা কেবলমাত্র তাদের অবস্থানগত দিক দিয়ে পরিবর্তন আনে না ; একইসঙ্গে গৃহ , পরিবেশ , পারিবারিক সম্পর্ক , বৈবাহিক সম্পর্ক - এই সকল ক্ষেত্রেও বহু পরিবর্তন নিয়ে আসে। 

(x) সামাজিক পরিবর্তনের পূর্বাভাস অনিশ্চিত :- 
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পূর্বাভাষের একটি বিশেষ গুরুত্ব আছে। কিন্তু এই বিষয়সংক্রান্ত যেটুকু পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয় , তা অনিশ্চয়তায় পরিপূর্ণ থাকে। এর মূলত তিনটি কারণ বর্তমান। 
(ক ) সামাজিক পরিবর্তন কোন নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে না। 
(খ ) সামাজিক পরিবর্তনের কারণগুলি অনন্তকাল ধরে একই অবস্থায় স্থায়ী হয় না। এবং 
(গ ) সামাজিক পরিবর্তনের ধারা সর্বক্ষেত্রে একরূপ নয়। 

উপরোক্ত বিষয়গুলি ছাড়াও বলা যেতে পারে যে সামাজিক পরিবর্তনের প্রকৃতি কখনো গুণগত বা পরিমাণগত হয়ে থাকে। যেহেতু এটি ভাল বা মন্দ , অভিপ্রেত বা অনভিপ্রেত কোনো বোধেরই জন্ম দেয় না , তাই এটি একটি নির্দিষ্ট মূল্যবিহীন বিষয়। এটি বিবর্তন , উন্নতি ও উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এই ধারণা গুলি থেকে স্বতন্ত্র। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো


Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Educational Sociology



 

১.  শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের ধারণা : - 


শিক্ষা বিজ্ঞান হলো সমাজ পরিবেশের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে একজন শিক্ষার্থীর সুস্থ ও সঠিকভাবে মানিয়ে চলার প্রক্রিয়া। এই সামাজিক পরিবেশেরই একটি প্রধান উপাদান হলো মানুষ। সমাজের মধ্যে প্রত্যেকটি মানুষ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে উপলব্ধি করতে শেখে এবং সেই উপলব্ধির মধ্যে দিয়ে তার বোধের বিকাশ হয়।  সমাজ এবং ব্যক্তির পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি নির্দিষ্ট বিষয়সূচি এবং বিষয়জ্ঞান ,  যাকে বলা হয় শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব ( Educational Sociology ) ।

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

শিক্ষাবিজ্ঞান এবং সমাজতত্ত্ব দুটি পৃথক বিষয়। তবে আধুনিক সমাজতাত্ত্বিকদের সকলেই যে শিক্ষার সমাজতত্ত্ব আর শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের পার্থক্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন তা নয়। যারা দুটি বিষয়কে পৃথক বলে মনে করেন , তারা পার্থক্য নির্দেশ করেছেন শুধুমাত্র গুরুত্বের ভিত্তিতে। 

শিক্ষা ও সমাজতত্ত্ব মিলিতভাবে যে বিদ্যা চর্চার সূচনা করেছিল উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে তার তিনটি ভিন্ন অভিমুখ দেখা যায় তিনটি ভিন্ন নামে ,  - 
(i) শিক্ষার সমাজতাত্ত্বিক ভিত্তি ( Sociological Foundation of Education ), 
(ii) শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব ( Educational Sociology ) এবং
(iii) শিক্ষা সমাজতত্ত্ব ( Sociology of Education ) । 

শিক্ষাশ্রয়ী সমাজ তত্ত্বের সংজ্ঞা হিসাবে বিভিন্ন সমাজতাত্ত্বিকদের বক্তব্য , শিক্ষার প্রশাসন ও প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সমাজতত্ত্বের সাধারণ নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহের প্রয়োগ। এই অভিমুখ অনুযায়ী শিক্ষাকে একটি স্বতন্ত্র সামাজিক একক হিসাবে গণ্য করে সমাজতাত্ত্বিক নীতির প্রয়োগ করা হয়। 

অধ্যাপক টেলর ( W Taylor ) মনে করেন এই দুই অভিমুখের মধ্যে প্রথমটি তে শিক্ষা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রাধান্য দিয়ে তার সমাজতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে সমাজতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া গুলি কিভাবে শিক্ষার ক্ষেত্রে কাজ করে তার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথমটির ক্ষেত্রে শিক্ষা , সমাজতত্ত্ব তার পটভূমি আর শিক্ষার   সমাজতত্ত্বে সমাজতত্বই প্রধান চর্চার বিষয় ; শিক্ষা তার গবেষণার। একই ধরনের পার্থক্যের  কথা বলেছেন R J Stalcup এবং J E Jensen  । 

অধ্যাপক Brown বলেছেন শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব ব্যক্তি ও সমাজের মধ্যে যে অবিচ্ছেদ্য   সম্পর্ক রয়েছে তা বুঝতে সাহায্য করে। 

Cook & Cook এর মতে , পার্থিব বিষয়বস্তু এবং মানবিক সম্পর্কের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য সমাজবৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও কৌশলের প্রয়োজনই হল শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব। 

সুতরাং শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব সম্পূর্ণ সমাজতত্ত্বের একটি বিশেষ দিক যা সামাজিক পটভূমিকায় শিক্ষা প্রক্রিয়ার গঠনগত ও গতিশীল বিষয়গুলি আলোচনা করে।  

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

২. শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি :- 


শিক্ষাবিজ্ঞানে ও সমাজতত্ত্ব পরস্পর মিলিত ভাবে তৈরি হয়েছে শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব। এই শিক্ষাশ্রয়ী সমাজ তত্ত্বের স্বরূপ বা প্রকৃতি নির্ণয় আমরা দেখতে পাই শিক্ষা বিজ্ঞান ও সমাজতত্ত্ব একে অপরের দ্বারা পরিপূর্ণ ও পরিপুষ্ট হয়ে গড়ে ওঠে। 
Science of the behaviour of the individual in society is framed in its institution  ।  এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষামূলক সমাজতত্ত্বের প্রকৃতি নির্ণীত হয়। 

Young বলেছিলেন , মানুষের পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষামূলক সমাজতত্ত্ব। তাই শিক্ষাবিজ্ঞান সমাজতত্ত্বের প্রয়োগগত শাখারূপে তৈরি করেছে শিক্ষামূলক সমাজতত্ত্ব। 

শিক্ষাশ্রয়ী সমাজ তত্ত্বের প্রকৃতিগত দিক হলো সামাজিক মিথস্ক্রিয়া। অর্থাৎ সমাজজীবনে সামাজিক গোষ্ঠী , সামাজিক প্রতিষ্ঠান , সামাজিক সম্পর্ক এবং সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সাপেক্ষে যথার্থ সামাজিকীকরণে উন্নত করে তোলা। এই জন্য সমাজতত্ত্ব দিয়েছে তত্ত্ব এবং তথ্য ও শিক্ষাবিজ্ঞান দিয়েছে নীতি ও কৌশল। এই দুয়ের মিলিত প্রবাহে তৈরি হয়েছে শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব। 

 তার ফলে সমাজ , শ্রেণি , মানুষ , গৃহ থেকে বিদ্যালয় বিদ্যালয় , বিদ্যালয় থেকে মহাবিদ্যালয় এবং মানুষের কর্মক্ষেত্রে সবই সুষম বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে এবং সমাজে  প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ন্যায়বিচার ও ন্যায়বোধ , বিচার ব্যবস্থা , সমান অধিকার , সকল ক্ষেত্রেই  সম সুযোগ এবং পারস্পরিক মেলবন্ধন। 

তাই শিক্ষা ও সমাজ তত্ত্বের আদর্শে তৈরি হয়েছে নানা রকম সামাজিক প্রতিষ্ঠান তথা বিদ্যালয় এবং সামাজিক সম্পর্ক , সামাজিক পরিবর্তনশীলতা , সামাজিক অগ্রগতি ,  সামাজিক প্রক্রিয়া এবং সামাজিক সংগঠনে প্রযুক্ত হয়েছে বিজ্ঞান চেতনার সুষম প্রগতি।

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের পরিধি : - 


শিক্ষা বিজ্ঞান ও সমাজতত্ত্ব পরস্পর যুক্ত হয়ে ব্যক্তি ও সমাজের মঙ্গল সাধনে অগ্রসর হয়েছে এবং সমাজ ও ব্যক্তির মধ্যে সুস্থ ও সঙ্গতিপূর্ণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করেছে। শিক্ষাবিজ্ঞানে কতগুলি নির্দিষ্ট পরিধি আছে আবার সমাজতত্ত্বেরও নির্দিষ্ট পরিধি আছে। উভয় শাখা পরস্পরের সমন্বয়ে তৈরি করেছে শিক্ষাশ্রয়ী সমাজ সমাজতত্ত্বের পরিধি। যেমন :-

A. সমাজ গঠনে প্রাথমিক উপকরণ যেগুলি শিক্ষা ও সমাজকে পারস্পরিক বন্ধনে আবদ্ধ করে। যেমন - জনসমষ্টি , ভৌগোলিক অবস্থান , যোগাযোগব্যবস্থা , মানব প্রকৃতি ইত্যাদি। 

(a) জনসমষ্টি দেশের অন্যতম সম্পদ যার দ্বারা একদিকে যেমন সুস্থ সমাজ তৈরি হয় ও   অন্যদিকে তৈরি হয় যথার্থ শিক্ষাব্যবস্থা। তাই শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের পরিধির অন্যতম উপকরণ হলো জনসমষ্টি ও তার প্রকৃতিগত উন্নয়ন সংস্থা এবং প্রকৃতিগত উন্নয়ন হল সমস্যা এবং প্রগতিগত উন্নয়ন হল  অভিমুখী শিক্ষাভাবনা। 

(b) যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি উন্নয়নশীল দেশের তৃতীয় প্রধান উপকরণ। শিক্ষাশ্রয়ী সমাজ তত্ত্বের আলোচনাক্ষেত্রে তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার যথার্থতা এবং উন্নয়নের আলোচনা করে এই শাখাটি। 

(c) ভৌগলিক অবস্থান হল একটি দেশের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যার সাপেক্ষে আলোচনা ,  ভাবনা ও  অনুকূল পরিবেশের সন্ধান দেয় শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞান। 

(d) সকল ব্যবস্থাপনার মূলে যে সম্পদ সেটি হল মানবসম্পদ। সুতরাং মানবসম্পদের প্রকৃতিগত দিক বিশ্লেষণ এই শাখার চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ পরিধিযুক্ত বিষয়। 

B.  শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের অপর একটি পরিধিভুক্ত বিষয় হলো সামাজিক মিথস্ক্রিয়া। যার দ্বারা মানুষ দল গঠন করে এবং পারস্পরিক সংগতি বিধান করে। তাই মিথস্ক্রিয়ার প্রকৃতি প্রক্রিয়ার প্রকার সম্পর্কে আলোচনা করে এই বিষয়। 

C. শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের পরিধি হল সামাজিক গঠন। সমাজ গঠনের প্রকৃতি , নিয়ম ,  রীতিনীতি , গোষ্ঠীচেতনা প্রভৃতি সম্পর্কে আলোচনা করে এই বিষয়টি। 

D. সামাজিক দল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সর্বোপরি গোষ্ঠীজীবনের বৈশিষ্ট্য , প্রকৃতি এবং তাৎপর্য আলোচনা করে শিক্ষাবিজ্ঞানের সাপেক্ষে। 

E. সমাজ জীবনে গণতান্ত্রিক ভাবধারার বিন্যাস এবং প্রবাহকে পরিচালিত করার মূলনীতি আলোচনা করে শিক্ষাবিজ্ঞানের এই শাখাটি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৪. শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের কার্যাবলী : - 


(i) শিক্ষার্থীকে আদর্শ নাগরিক জীবনের শিক্ষা দেওয়া , যাতে তারা তাদের সামাজিক জীবন যাপনের উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারে। 
(ii) জাতি , ধর্ম , বর্ণ , লিঙ্গ ও বয়স নির্বিশেষে সকল মানুষকে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাতে বা নিয়মবহির্ভুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা। 
(iii) শিক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামাজিক মূলমন্ত্রগুলি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিষ্ঠা করা। যেমন - সমাজতন্ত্র , গণতন্ত্র , যৌথ জীবনবোধ , মানব শৃঙ্খল - ইত্যাদি। 
(iv) সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। যেমন - সহযোগিতা ও সহানুভূতিমূলক মানসিকতা , সহমর্মিতাবোধ , সৌভাতৃত্ববোধ , জাতীয়তাবোধ - ইত্যাদি। 
(v) শিক্ষার্থীদের মধ্যে কুসংস্কার দূর করে সুস্থ বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা।  
(vi) প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ ও আত্মসচেতনতাবোধ গড়ে তোলা। 
(vii) উপার্জনশীল দক্ষ নাগরিক তৈরী করা , যাতে শিক্ষার্থী কর্ম ও কর্মকুশলতা লাভ করতে পারে। 
(viii) সাক্ষর ও নিরক্ষর উভয় শ্রেণীর মানুষের আত্মসচেতনতা বোধ বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন ধারাবাহিক শিক্ষামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা। যেমন - সেমিনার , বক্তব্য উপস্থাপন , আলোচনা সভা , বিতর্ক সভা - ইত্যাদি। 
(ix) সমাজের সকল সদস্যদের দায়দায়িত্ব , কর্তব্যবোধ ও অধিকারবোধের ক্ষমতা জাগ্রত করা। 
(x) সমাজতত্ত্ব শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক তথ্য দ্বারা যেমন সমৃদ্ধ করে , তেমনি ভৌগোলিক তথ্য দ্বারা সময়ের উপযোগী করে তোলে। 
(xi) পরিবেশ শিক্ষার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সুঅভ্যাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে তোলা। 
(xii) শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ গঠন করা। 
(xiii) শিক্ষামূলক বিনোদনের ব্যবস্থা করা। 
(xiv) ব্যক্তি - গোষ্ঠী , সমাজ ও দেশের স্বার্থে জনহিতকর কাজে শিক্ষার্থীকে নিয়োজিত করা। 
(xv) সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া। যেমন , সৌজন্যবোধ , ভদ্রতা , নীতিবোধ - ইত্যাদি। 
(xvi) শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগ্রত করা। 
(xvii) শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানবতার শিক্ষা দেওয়া। 
(xviii) শিক্ষার্থীদের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করে তোলা। 
(xix) স্থান - কাল - পাত্র সম্পর্ক দ্বারা দেশ ও বিশ্বের রহস্য সন্ধান করতে আগ্রহী করে তোলা। (xx) অন্ধকার শিক্ষাহীন জীবন থেকে শিক্ষার আলোর পথের সন্ধান দেওয়া। 
(xxi) মানুষের মধ্যে শ্রেণীভেদ রোধ করে জাতি , ধর্ম , বর্ণ , লিঙ্গ ও ধনতন্ত্রের বেড়াজাল মুক্ত মানুষ তৈরী করা।    

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো


৫. শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের গুরুত্ব :- 


ব্যক্তিমানুষের শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সমাজ শিক্ষা। দর্শন ও মনোবিজ্ঞান ব্যক্তিমানুষের অন্তর্নিহিত সম্পদের যে পরিপূর্ণতা দেয় , তাকে যথার্থভাবে পূর্ণতা দেয় সমাজবিজ্ঞান। কারণ , মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। অন্তর্নিহিত সম্পদের যোগ্যতামান নির্ধারণ করে সমাজ এবং তার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সমাজবদ্ধ মানুষ। তাই গণশিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে সামাজিকীকরণের শিক্ষা দিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শিক্ষাশ্রয়ী সমাজবিজ্ঞান। শিক্ষার্থীর জীবনে এই শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি হল - 

(i) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গোষ্ঠীর নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। 

(ii) এই বিষয়টি ব্যক্তি শিক্ষার্থীকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া , সহানুভূতি ও সহমর্মিতাবোধ এবং মমত্ববোধ গঠনে সহায়তা করে। 

(iii) সমাজতত্ত্বের অভ্যন্তরে নিহিত সামাজিক মূল্যবোধগুলির গুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিহিত করে শিক্ষাবিজ্ঞান। এখানে তাই উভয় বিষয়ের সমন্বয়সাধন দ্বারা আমরা বলতে পারি শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব শিক্ষার্থীর মানবিক গুণের সঙ্গে সামাজিক গুণের বিকাশ ঘটায়। 

(iv) শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে , যার দ্বারা শিক্ষার্থীরা সমাজের প্রচলিত সংস্কার ও কুসংস্কারের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে। সামাজিক পদ্ধতিতে প্রতিবন্ধকতাকে দূরে সরিয়ে দিতে পারবে এবং সমাজকে ক্রমোন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। 

(v) শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্ব প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর মধ্যে - 
a. সামাজিক কর্তব্য গঠনে সহায়তা করে। 
b. সামাজিক অধিকারগুলি অর্জন করতে সহায়তা করে। 
c. সামাজিক চেতনাবোধ গঠনে সাহায্য করে। 
d. শিক্ষার্থীর মধ্যে স্বাধীন , মননশীল দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়তা করে। 
e. সমাজ কল্যাণকামী মানসিকতা তৈরী করে। 
f. সমাজ অগ্রগতিতে সাহায্য করে। 

(vi) শিক্ষাশ্রয়ী সমাজতত্ত্বের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হল , শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব বিকাশে নৈতিক , রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিকের সচেতন সমন্বয় করা , যাতে শিক্ষার্থী আদর্শ সমাজ সচেতন ও দায়িত্বপূর্ণ সুনাগরিক হতে পারে।      


এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
 
Share
Tweet
Pin
Share
2 comments

3RD SEMESTER ENGLISH SYLLABUS AND NOTES 

GOUR BANGA UNIVERSITY 3RD SEMESTER ENGLISH SYLLABUS AND NOTES 


3RD SEMESTER COMPULSORY ENGLISH 


SEMESTER: III (Credits-6, Total Marks-50)
Language Core (LC 2) English

English 1:
Paper Title: General Writing Skills

Sl. No. Contents Marks
1. Essay Writing (on a cultural topic: one out of five in about 300 words) 10x1 = 10

2. Notice Writing (one out of two) 10x1 = 10

3. Formal and informal letter writing (one out of two) 10x1 = 10

4. Story Writing (Developing from an initial situation) (One out of two) 10x1 = 10

5. Internal Assessment (Writing Assignment/Pair Work/Group Work etc.- 6 +Attendance 4 ) 10

অন্যান্য বিষয়ের সাজেশন পেতে এখানে CLICK কর।

NOTES 

Just click on the following topic whichever you want .

1.ESSAY 

1. Students and Social Service . CLICK HERE


2. NOTICE  

1. Your college is going to host the Inter College Music Competition . Suppose you are the secretary of the cultural committee of your college . Write a notice calling students to participate in the competition. Mention the time , date and venue of the competition . Your notice should be countersigned by the Head of your institution . 
Or, Write a notice on the Inter College Music Competition . CLICK HERE

2. The annual sports of your college will be held very soon. As the Secretary of the sports committee, write a notice inviting the students to participate in the sports as well as the different competitions . Mention date, time and venue of the occasion. Your notice should be countersigned by the Head of your institution. 
Or , Write a notice on the Annual Sports of your college . CLICK HERE


3. FORMAL LETTERS 

1. Lodge an FIR with the local police station on eve - teasing. CLICK HERE  

অন্যান্য বিষয়ের সাজেশন পেতে এখানে CLICK কর।


Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Newer Posts
Older Posts

Followers

Pages

  • Home
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • CONTACT ME
  • About Me

Contact Form

Name

Email *

Message *

About me

Hallow viewers , myself Nandan Dutta [Subhankar Dutta], reside at Maheshpur,Malda.
I made this website for the students of B.A. courses under Gour Banga University. Here you can get suggestions of different subjects like HISTORY , SOCIOLOGY , POLITICAL SCIENCE & EDUCATION.
In future I will add MCQ sections of those subjects.


Categories

  • 1ST SEMESTER SUGGESTION (1)
  • 2 ND YEAR SUGGESTION (1)
  • 2ND SEMESTER (1)
  • 3RD SEMESTER (8)
  • BENGALI NOTES (21)
  • CU suggestion. (1)
  • EDUCATION NOTES (141)
  • ENGLISH COMPULSORY (16)
  • GBU Suggestion. (7)
  • HISTORY EUROPE & WORLD (46)
  • HISTORY NOTES (68)
  • POL SC NOTES (69)
  • SOCIOLOGY NOTES (72)
  • WBCS 2020 (1)

recent posts

Blog Archive

  • November 2025 (1)
  • August 2025 (4)
  • May 2025 (3)
  • April 2025 (20)
  • March 2025 (12)
  • February 2025 (8)
  • November 2024 (5)
  • October 2024 (2)
  • September 2024 (2)
  • June 2024 (2)
  • March 2024 (6)
  • February 2024 (4)
  • October 2023 (5)
  • May 2023 (5)
  • April 2023 (1)
  • December 2022 (1)
  • November 2022 (13)
  • September 2022 (2)
  • August 2022 (7)
  • July 2022 (29)
  • June 2022 (10)
  • May 2022 (25)
  • April 2022 (24)
  • March 2022 (16)
  • February 2022 (19)
  • January 2022 (21)
  • December 2021 (46)
  • November 2021 (5)
  • October 2021 (6)
  • September 2021 (5)
  • August 2021 (41)
  • July 2021 (43)
  • June 2021 (31)
  • May 2021 (7)
  • April 2021 (1)
  • July 2020 (1)
  • June 2020 (3)
  • April 2020 (1)
  • November 2019 (1)
  • July 2019 (1)
  • June 2019 (1)
  • May 2019 (1)
  • April 2019 (2)
  • January 2019 (1)

Pages

  • Home
  • 2nd SEM ভাষাতত্ত্ব :
  • বাংলা উপভাষা
  • দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব
  • ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলি আলোচনা করো।
  • হর্ষবর্ধনের কৃতিত্ব আলোচনা করো। তাকে কি উত্তর পথনাথ বলা যায় ?
  • ভারতীয় সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
  • উদারনীতিবাদ : সংক্ষিপ্ত ধারণা :-
  • চোল শাসনব্যবস্থা :-
  • গুপ্তযুগ সুবর্ণযুগ সম্পর্কিত আলোচনা।
  • ৬. উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলাভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট আল...
  • 1. Marxism
  • আধুনিক বাংলা ভাষা ও তার বৈশিষ্ট।
  • Discuss the career and achievements of Samudragupta .
  • ভাষাতত্ত্ব

Created with by ThemeXpose | Distributed by Blogger Templates