Pages

Powered by Blogger.
1ST SEMESTER SUGGESTION 2 ND YEAR SUGGESTION 2ND SEMESTER 3RD SEMESTER BENGALI NOTES CU suggestion. EDUCATION NOTES ENGLISH COMPULSORY GBU Suggestion. HISTORY EUROPE & WORLD HISTORY NOTES POL SC NOTES SOCIOLOGY NOTES WBCS 2020

NANDAN DUTTA

A new approach for exam notes .

বিবাহের সংজ্ঞা দাও। বিবাহের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

বিবাহের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট।   

Definition and features of marriage. ( In Bengali ). 



বিবাহের সংজ্ঞা :- 


বিবাহ হল একটি প্রাথমিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বিবাহের মাধ্যমে নর - নারীর সম্পর্ক বৈধতা লাভ করে ও সামাজিক স্বীকৃতি পায়। পৃথিবীর প্রতিটি সমাজে বিবাহের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। বিবাহের মাধ্যমেই পিতৃত্ব বৈধতা লাভ করে। পরিবার ও বিবাহ হল একে অপরের পরিপূরক। বর্তমান যুগে বিবাহ ব্যবস্থায় বহু পরিবর্তন সাধিত হলেও তার মৌলিক চরিত্র ও বৈশিষ্ট এক থেকে গেছে। 

বিবাহের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে ওয়েস্টার মার্ক বলেছেন - বিবাহ হল নিয়ন্ত্রিত যৌন আচরণ অপেক্ষা অধিক কিছু। 

হর্টন ও হান্ট বলেছেন - বিবাহ হল এমন একটি সমাজ স্বীকৃত ব্যবস্থা যা দুই বা ততোধিক ব্যাক্তির বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে পরিবার গড়ে তোলে। 

ম্যালিনোস্কি বলেছেন - বিবাহ হল নর - নারীর মধ্যে এমন এক ধরণের সম্পর্ক যার মধ্যে দিয়ে যৌন সংসর্গ স্থাপনের উর্দ্ধেও পিতৃত্ব বা মাতৃত্ব লাভের সুযোগ হয়। 

উইল ডুরান্ট বলেছেন - বিবাহ শুধুমাত্র যৌন সম্ভোগের ছাড়পত্র নয় ; বিবাহ হল পিতা - মাতা ও সন্তানের সম্পর্ক যা পরিবার গঠন করে সমাজ গঠনের প্রাথমিক এককের ভূমিকা পালন করে। 

 সুতরাং , বিবাহ হল এক বা একাধিক পুরুষের সঙ্গে এক বা একাধিক নারীর মিলন , যা সমাজ দ্বারা স্বীকৃত। বিবাহের মাধ্যমেই নর - নারীর সম্পর্ক বৈধতা প্রাপ্ত হয় এবং সন্তান প্রজনন ও প্রতিপালনের অধিকার লাভ করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

বিবাহের বৈশিষ্ট :- 


১. বিবাহ একটি বিশ্বজনীন ব্যবস্থা :- বিশ্বের প্রতিটি সমাজেই বিবাহের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। ভিন্ন ভিন্ন সমাজে ও ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিবাহের বৈশিষ্টের পার্থক্য থাকলেও তার মৌলিক কাঠামো সর্বত্র ও সর্বদা এক থাকে। বিবাহবিহীন সমাজের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায়না। যেহেতু বিবাহ পরিবার তৈরী করে এবং পরিবার হল সমাজ গঠনের মূল একক - তাই বিবাওকেও প্রতিটি সমাজ গঠনের অন্যতম উপাদান বলা যেতে পারে। 

২. নর - নারীর সম্পর্কের বৈধতা :- বিবাহ নর নারীর যৌনতার সম্পর্কের বৈধতা প্রদান করে। বিবাহের মাধ্যমে নর নারীর যৌন সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত ও সুব্যবস্থিত উপায়ে পরিচালিত হয়। বিবাহ নামক সুব্যবস্থিত কাঠামোটি সমাজে না থাকলে নর - নারীর সম্পর্ক ব্যাভিচারে ভরে উঠত। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. পরিবর্তনশীলতা :- যেহেতু বিবাহ একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান , তাই সমাজ বিবর্তনের প্রতিটি স্তরে বিবাহেরও পরিবর্তন ঘটে চলেছে। আদিম মানব সমাজ , প্রাচীন ও মধ্যযুগের সমাজের বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। উত্তর আধুনিক সময়ে বিবাহ ব্যবস্থার মধ্যে চরম পরিবর্তনশীলতা লক্ষ্য করা যায়। 

৪. সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতি :- বিবাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। ভিন্ন ভিন্ন সমাজে বিবাহের সঙ্গে জড়িত প্রথাগুলিও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সামাজিক প্রথা ও রীতিনীতিগুলি বিবাহের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সামাজিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জন্ম দেয়। 

৫. ধর্মীয় প্রভাব : - ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষদের মধ্যে বিবাহের ক্ষেত্রে তাদের নিজ নিজ ধর্মের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। যেমন হিন্দু ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিবাহের ক্ষেত্রে বিস্তর পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এমনকি , সংবিধানেও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষদের জন্য বিবাহের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন আইন ও ব্যবস্থা সংযোজিত রয়েছে। 

৬. স্থায়ী প্রতিষ্ঠান :- বিবাহ সাধারণতঃ একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে বহু ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটলেও তা শতকরা হিসাবে নগন্য। আদিম সমাজ থেকে বিবাহ ব্যবস্থার বিবর্তন হতে হতে উত্তর আধুনিক যুগেও বিভাগের অস্তিত্ব বর্তমান। আগামী দিনেও বিবাহ ব্যবস্থার বিলুপ্তির সেরকম কোনো আশঙ্কা পরিলক্ষিত হয়না। তাই বিবাহ হল একটি স্থায়ী সামাজিক প্রতিষ্ঠান। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. দায়বদ্ধতা :- বিবাহের মাধ্যমে নর নারীর মধ্যে দাম্পত্য জীবনের সূত্রপাত ঘটে। ফলে বিবাহিত জীবনের শুরু থেকেই স্বামী - স্ত্রী - র মধ্যে বেশ কিছু দায় - দায়িত্ব ও কর্তব্যের সূচনা হয়। এই দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলিকে সুচারুরূপে পালন করতে পারলেই বৈবাহিক জীবন সুখের হয় ও পারিবারিক জীবনে সমৃদ্ধি আসে। 

৮. পরিবার গঠনের প্রধান মাধ্যম :- পরিবার গঠনের প্রধান মাধ্যম হল বিবাহ। নর নারীর বিবাহের ভিত্তিতে পরিবার তৈরী হয়। এই ব্যবস্থা বিশ্বের সর্বত্র এক ও অভিন্ন। পরিবার গঠন ছাড়াও বিবাহ অন্যান্য বিভিন্ন আত্মীয়তার সম্পর্কের জন্ম দেয়। যেমন - ভাসুর , ননদ , দেবর , শ্যালক - শ্যালিকা - ইত্যাদি। 

৯. বংশবৃদ্ধি :- বিবাহের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হল সন্তানের জন্ম দেওয়া ও তার প্রতিপালন করা। এইভাবে বিবাহ বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তির বন্টন ঘটানোর সুবন্দোবস্ত করে। 

১০. বিবাহের প্রকারভেদ :- বর্তমান সমাজে বিভিন্ন ধরণের বিবাহ ব্যবস্থার অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন - একগামিতা , গোষ্ঠীবিবাহ , বহুপতিত্ব , বহুপত্নীত্ব। এছাড়াও বিবাহের ধরণ হিসাবেও আয়োজিত বিবাহ , রোমান্টিক বিবাহ - ইত্যাদি ধরণের বিবাহ লক্ষ্য করা যায়।    

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো              

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

পরিবারের কার্যাবলিগুলি আলোচনা কর। 

পরিবারের অপরিহার্য কার্যাবলীগুলি কী কী ? 

Duties of Family . ( In Bengali ) . 




পরিবারের কার্যাবলি :- 


পরিবারের কার্যাবলিগুলিকে দুইভাগে ভাগ করা যায় ; যথা - অপরিহার্য কার্যাবলি ও অপরিহার্য নয় - এমন কার্যাবলি। 

পরিবারের অপরিহার্য কার্যাবলি :- 


১. যৌন চাহিদার পরিতৃপ্তি :- পরিবারের মধ্যে নর - নারী তথা স্বামী - স্ত্রী -র যৌন চাহিদার বৈধ পরিতৃপ্তি সাধন ঘটে। প্রতিটি সমাজেই প্রায় প্রতিটি নর - নারীর যৌন চাহিদার পরিতৃপ্তি সাধনের ক্ষেত্রে এই সামাজিক নিয়ম প্রচলিত। এই সামাজিক নিয়ম নর নারীর সম্পর্ককে বৈধতা প্রদান করে এবং সমাজে ব্যাভিচার , যৌন সম্পর্কের বিশৃঙ্খলা - ইত্যাদি দূর করে সমাজকে সুশৃঙ্খল পথে পরিচালিত করতে সাহায্য করে। 

২. সন্তান প্রজনন ও প্রতিপালন :- পরিবারের একটি অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল - সন্তান প্রজনন ও সন্তান প্রতিপালন। পরিবার জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে বৈধতা প্রদান করে। তার সঙ্গে সঙ্গে মাতা ও পিতার বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এর সঙ্গে সঙ্গে সন্তান প্রতিপালন করা পরিবারের অন্যতম কর্তব্য। জন্ম থেকে স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি শিশুকে প্রতিপালন করে পরিবার তাকে ভবিষ্যৎ সমাজ জীবনের উপযুক্ত করে তোলে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. সামাজিকীকরণ :- পরিবারের একটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল সামাজিকীকরণ সংগঠন। মানব শিশুর সামাজিকীকরণের প্রধান ক্ষেত্র হল পরিবার। ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শিশু সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার অনুশীলনে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে পরিবারের মধ্যেই। পরিবার প্রতিটি শিশুর সামাজিকীকরণ ঘটিয়ে তাকে সমাজের নিয়ম - বিধি , আচার আচরণগুলির সঙ্গে পরিচিত করে তোলে। তাই সামাজিকীকরণের একটি প্রধান মাধ্যম হল পরিবার। 

৪. অর্থনৈতিক দায়ভার প্রতিপালন :-  প্রতিটি পরিবারের সকল সদস্যদের ভরণ পোষণের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। পরিবারের উপার্জনকারী সদস্যগণ পরিবারের সকল সদস্যদের অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বিধান করেন। বর্তমানে পরিবারের অর্থনৈতিক ভূমিকার পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিপূর্বে শুধুমাত্র পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যুক্ত থাকতেন ; কিন্তু বর্তমানে পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে নারীরাও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন। 

৫. দৈহিক ও মানসিক নিরাপত্তা প্রদান :- পরিবার তার প্রতিটি সদস্যের দৈহিক ও মানসিক নিরাপত্তা বিধানের কাজ করে। তাই পরিবারের সদস্যগণ পরিবারের অভ্যন্তরে স্বাচ্ছন্দ্য উপলব্ধি করে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যগণ মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে সে পরিবারের মধ্যে নিরাপদ। এই নিরাপত্তার আশ্বাস পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক বিকাশে সহায়তা করে। 

৬. সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা :- প্রতিটি ব্যক্তির প্রাথমিক পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদা নির্ধারিত হয় তার পরিবারের সামাজিক অবস্থান ও ভূমিকাকে কেন্দ্র করে। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠন , শিক্ষালাভ , অর্থনৈতিক কর্মকান্ড - প্রতিটি ক্ষেত্রেই পরিবার ব্যক্তির উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। পরিবারের মধ্যেই প্রতিটি ব্যক্তির সামাজিক স্তরবিন্যাসের মর্যাদা সিঁড়ি নির্ধারিত হয়। 

৭. অন্যান্য অপরিহার্য ভূমিকা :- পরিবারের অন্যান্য অপরিহার্য কার্যাবলিগুলি হল - নির্দিষ্ট বাসস্থানের ব্যবস্থা করা , খাদ্যের সংস্থান করা , পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাবিধান করা , স্নেহ - মায়া - মমতা - ভালোবাসা - ইত্যাদি মানবিক গুণগুলির বিকাশ , পারিবারিক ঐক্য বজায় রাখা - ইত্যাদি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

অপরিহার্য নয় - এমন কার্যাবলি :- 

১. ধর্মীয় বিশ্বাস ও রীতিনীতির ধারক ও বাহক :- প্রতিটি পরিবার তার সদস্যদের মধ্যে ধর্মবিশ্বাস ও ধর্মীয় রীতিনীতির বিকাশ ঘটায়। পরিবারের মধ্যে অনুষ্ঠিত নানাবিধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগদানের মাধ্যমে পরিবার তার সদস্যদের মধ্যে ধর্মভাব জাগিয়ে তোলে। পরিবার থেকেই প্রতিটি শিশু ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান , পাপ - পুণ্যের জ্ঞান , বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের জ্ঞান , দেব - দেবী সম্পর্কে বিশ্বাস - ইত্যাদি লাভ করে। 

২. সদস্যদের শিক্ষার ব্যবস্থা :- প্রতিটি শিশুর প্রথম বিদ্যালয় হল তার পরিবার এবং তার প্রথম শিক্ষক হলেন তার মা। পরিপারে জন্মানো প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যবস্থা করে পরিবার। একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রারম্ভিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা , পরবর্তীকালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার সঙ্গে শিশুর পরিচয় ঘটিয়ে দেওয়া পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এছাড়াও পরিবারের সদস্যদের জন্য বৃত্তমূলক ধারণা ও পথনির্দেশ প্রদান করে পরিবার। 

৩. মানসিক ও জৈবিক আকাঙ্খার পরিতৃপ্তিসাধন :- পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাহিদা থাকে ; যেমন - সেবা লাভ করা , খাদ্য প্রাপ্তি করা , যৌনতা চরিতার্থ করা - ইত্যাদি। পরিবার তার সকল সদস্যদের জন্য বিভিন্ন প্রকার মানসিক ও জৈবিক চাহিদার পরিতৃপ্তি সাধন করে। মানসিক ও জৈবিক চাহিদাগুলি পূরণের মাধ্যমে ব্যক্তির পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে। 

৪. সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও সঞ্চালন :- পরিবারের মধ্যে জাতি ও সমাজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ঘটে এবং তা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চালিত হয়। একটি প্রজন্ম তার পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে সংস্কৃতির ধারণা লাভ করে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চালিত করে। এইভাবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষিত ও সঞ্চালিত হয়। 

৫. সম্পত্তি সংক্রান্ত ভূমিকা :- পরিবার তার অধীনস্থ সম্পত্তির সংরক্ষণ করে এবং তার বিকাশের প্রয়াস করতে থাকে। এছাড়া , পরিবার তার সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসাবে তার উত্তরাধিকারীদের নির্বাচিত করে। এক প্রজন্ম থেকে অপর এক প্রজন্মে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষমতা হস্তান্তরিত হতে থাকে। এইভাবে সমাজে পরিবারের মাধ্যমেই ব্যক্তিগত সম্পত্তির সুশৃঙ্খল বিন্যাস ঘটে। 

৬. সামাজিক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ভূমিকা : - পরিবারের কার্যাবলী সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও পরিব্যাপ্ত। সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি , আদর্শ - ইত্যাদি চর্চার মাধ্যমে পরিবার ব্যক্তিস্বার্থকে সমষ্টিস্বার্থে রূপান্তরিত করে। পরিবার তার সদস্যদের সমাজ ও প্রতিষ্ঠান বিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। পরিবার তার সদস্যদেরকে সমাজের কাম্য রীতিনীতি মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করে। এইভাবে পরিবার সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

পরিশেষে বলা যায় , বর্তমানে পরিবারের পরিবারের কার্যাবলিগুলির গঠনমূলক পরিবর্তন এসেছে। পরিবারের বিভিন্ন কাজগুলি বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক সংস্থার অধীনস্থ হয়েছে। পারিবারিক সমষ্টিগত স্বার্থের উর্দ্ধে ব্যক্তিস্বাতন্ত্রবাদ ক্রমশঃ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। কিন্তু তবুও বলা যায় , সমাজে পরিবারের বিকল্প অন্য কোনো কিছু হতে পারেনা। কেননা শিশুর জন্ম , প্রতিপালন - ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলি পরিবার ছাড়া অন্য কোনো সামাজিক সংগঠনের পক্ষে সম্ভব নয়।   

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো                                 
 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

পরিবারের সংজ্ঞা দাও। পরিবারের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

পরিবারের সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 

Definition and features of family . ( In Bengali ) . 




পরিবারের সংজ্ঞা :- 


সমাজে অবস্থিত বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক গোষ্ঠী হল পরিবার। পরিবার হল প্রাথমিক গোষ্ঠী এবং সমাজ গঠনের মূল একক। সমাজ বিবর্তনের প্রতিটি স্তরে পরিবারের অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। ব্যক্তির জন্ম , বেড়ে ওঠা , ব্যক্তিত্ব গঠন ও সামাজিকীকরণ - ইত্যাদি সবকিছুরই বিকাশ ঘটে পরিবারের মধ্যে। অর্থাৎ , সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে পরিবার হল একটি অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান। 

পরিবারের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে জিসবার্ট বলেছেন - পরিবার হল এমন একটি জৈব সামাজিক একক যেখানে তার সদস্যরা একত্রে বসবাস করে এবং স্বামী - স্ত্রী -র জৈবিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রিত হয় এবং নির্দিষ্ট রূপ লাভ করে। 

অগবার্ন ও নিমকফ বলেছেন - পরিবার হল মোটামুটিভাবে স্থায়ী এবং স্বামী - স্ত্রী - র জৈবিক ও সামাজিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি প্রাথমিক গোষ্ঠী। 

কিংসলে ডেভিস বলেছেন - পরিবার হল পরস্পরের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক ও বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি নির্দিষ্ট ও ক্ষুদ্র গোষ্ঠী। 
 
লক ও বার্জেস বলেছেন - পরিবার হল রক্তের সম্পর্ক , বৈবাহিক সম্পর্ক বা দত্তক সূত্রে আবদ্ধ একটি সুসংবদ্ধ প্রাথমিক গোষ্ঠী। 

এলিয়ট ও মেরিল বলেছেন - পরিবার হল স্বামী - স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গঠিত একটি জৈব সামাজিক একক। 

সুতরাং পরিবার হল একত্রে বসবাসকারী একটি ক্ষুদ্র সামাজিক গোষ্ঠী যা বিবাহসূত্রে , রক্তের সম্পর্ক ও জন্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে এবং এই গোষ্ঠীর মধ্যেই ব্যক্তি তার অধিকাংশ জৈবিক চাহিদা পূরণ করে এবং পরিবার ব্যক্তির সামাজিকীকরণের একটি অন্যতম মাধ্যম। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

পরিবারের বৈশিষ্ট :- 


১. বিশ্বজনীন অস্তিত্ব :- সমাজ বিবর্তনের প্রতিটি স্তরে পরিবার ব্যবস্থার অস্তিত্ব পরিলক্ষিত হয়। সমাজ বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ব্যবস্থাতেও বিভিন্ন পরিবর্তন এসেছে ; কিন্তু পরিবারের অস্তিত্ব সদা বর্তমান। সর্বকালে , বিশ্বের প্রতিটি সামাজিক ব্যবস্থায় পরিবারবিহীন সমাজের অস্তিত্বের কথা কল্পনা করা যায় না। সুতরাং পরিবার হল একটি বিশ্বজনীন সংস্থা। 

২. ধারাবাহিকতা :- সমাজতত্ববিদেরা মনে করেন - সমাজ সৃষ্টির শুরু থেকেই পরিবার ব্যবস্থার অস্তিত্ব ছিল। সমাজ পরিবর্তনশীল এবং সমাজের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি স্তরে পরিবার ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। তাই সমাজের ধারাবাহিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারেরও ধারাবাহিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পরিবার অবিরাম গতিতে পরিবর্তিত হয়ে তার ধারাবাহিক চরিত্র বজায় রেখেছে। 

৩. ক্ষুদ্রাকৃতি :- ক্ষুদ্র ও সীমিত আকার হল পরিবারের অপর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট। পরিবার শুধুমাত্র তার সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। রক্তের সম্পর্ক , বৈবাহিক সম্পর্ক বা জন্মসূত্রে সদস্যরা নির্ধারিত হয়ে থাকে। এছাড়াও দত্তক সদস্যরাও পরিবারের সদস্যরূপে বিবেচিত হয়। শুধুমাত্র নিজ সদস্যদেরকে নিয়ে গড়ে ওঠার কারণে পরিবারের আকার ক্ষুদ্র ও সীমাবদ্ধ।  

৪. সম্পর্কের গভীরতা ও আবেগপূর্ণ ভিত্তি :- পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের নিবিড়তা পরিবারের অপর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট। পরিবারের মধ্যে প্রতিটি সদস্য একে অপরের নিবিড় সম্পর্কের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। স্নেহ ,ভালোবাসা , দায়িত্ব ,কর্তব্য - ইত্যাদি প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে অপরিহার্যরূপে যুক্ত থাকে। 

৫. স্বার্থহীন গোষ্ঠী :- পরিবার হল একটি স্বার্থবিহীন গোষ্ঠী। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সাধারণত স্বার্থের সম্পর্ক থাকে না। সকলে নিজ স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে পরিবারের স্বার্থের কথা চিন্তা করেন। যেমন মা - বাবা সম্পূর্ণরূপে স্বার্থহীন হয়ে সন্তানদের লালন - পালন করেন। একজন ব্যক্তি জন্ম থেকে মৃত্যু পরিবারের মধ্যেই তার জীবন অতিবাহিত করে। সদস্যদের স্বার্থত্যাগ , স্নেহ , ভালোবাসা ও দায়িত্ব - কর্তব্যের মধ্যে দিয়ে একটি পরিবার গঠিত হয়। 

৬. প্রাথমিক ও কেন্দ্রীয় গোষ্ঠী :- সমাজ গঠনের মূল একক হল পরিবার। বিভিন্ন পরিবারের সমন্বয়েই একটি সমাজ গঠিত হয়। তাই পরিবারকে প্রাথমিক গোষ্ঠী বলা হয়। এছাড়া পরিবার হল সকল সামাজিক সংগঠনের একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি সমাজে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার ক্ষেত্রে পরিবার কেন্দ্রিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ :- পরিবারকে সমাজের ক্ষুদ্র সংস্করণ বলা যেতে পারে। পরিবারের মধ্যেই প্রতিটি শিশু সামাজিকীকরণের প্রথম জ্ঞান পায়। পরিবার থেকে প্রাপ্ত আচার - আচরণ , রীতি- নীতি , সামাজিক প্রথার শিক্ষা গ্রহণ করে শিশু বৃহত্তর সমাজে তা প্রয়োগ করতে পারে এবং সামাজিকরণে অংশগ্রহণ করে। সামাজিক সকল শিক্ষা শিশু তার পরিবারের মধ্যেই লাভ করে। 

৮. সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য :- প্রতিটি পরিবারের প্রতিটি সদস্যদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে। পরিবারের সদস্যগণ তাদের সেই দায়িত্ব - কর্তব্য যথাযথভাবে পালন না করলে তা পরিবারের স্বার্থ বিঘ্নিত করে। তাই পারিবারিক শৃঙ্খলা ও পরিবারের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে স্ত্রী - পুরুষ , শিশু - বয়স্ক - সকলেই নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে থাকেন। 

৯. সদস্যপদ :- পরিবারের সদস্যদের সদস্যপদ ঐচ্ছিক ও অনৈচ্ছিক উভয় প্রকার হয়ে থাকে। যেমন - পরিবারের মধ্যে শিশুর জন্ম হলে তার সদস্যপদ অনৈচ্ছিক ; কেননা পরিবারের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তার ইচ্ছার কোনো ভূমিকা নেই। আবার বিবাহের ক্ষেত্রে সদস্যপদ ঐচ্ছিক। কেননা পাত্র - পাত্রী কোনো পরিবারের বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ইচ্ছার স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন। 

১০. পরিবারের কার্যাবলী :- পরিবারের বিভিন্ন সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কার্যাবলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিটি পরিবার সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠন , সামাজিকীকরণ , সামাজিক মিথস্ক্রিয়ায় অংশগ্রহণ , অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা , সামাজিক অনুশাসন সৃষ্টি - ইত্যাদি পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী।    

পরিশেষে বলা যায় , পরিবারের গঠন , কার্যাবলী ও বৈশিষ্ট দেশ ও কাল ভেদে ভিন্ন ভিন্ন এবং তা পরবর্তনশীল। তবে সকল সমাজে , সকল সময়ে পরিবারের মৌলিক বৈশিষ্টের কোনো পরিবর্তন হয়না। পরিবারের মধ্যেই সামাজিক সম্পর্কগুলি বৈধতা লাভ করে ও নির্দিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠে।      

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
            

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

Gour Banga University Sociology 2nd Semester Suggestion for Pass - Course. 

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব 2nd Semester Suggestion .




Syllabus :- 

1. Family .
2. Marriage.
3. Kinship and Unilineal Descent.
4. Social Stratification.
5. Social Change and Social Progress.

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

Gour Banga University Sociology 2nd Semester Suggestion .


১. পরিবারের সংজ্ঞা দাও। পরিবারের বৈশিষ্টগুলি লেখ। 

২. পরিবার ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণগুলি লেখ। 

৩. পরিবারের বিভিন্ন কার্যাবলী আলোচনা কর। 

৪.. বিবাহের সংজ্ঞা দাও। বিবাহের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

৫. বিভিন্নপ্রকার বিবাহ সম্পর্কে আলোচনা কর। অথবা , বিবাহের প্রকারভেদ আলোচনা কর। 

৬. একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবাহকে ব্যাখ্যা কর। 

৭. বিবাহ ও পরিবার ব্যবস্থার পরিবর্তনের সাম্প্রতিক প্রবণতা সম্পর্কে আলোচনা কর। 

৮. আত্মীয়তা বা জ্ঞাতিত্ব কাকে বলে ? আত্মীয়তার সম্পর্কের গুরুত্ব আলোচনা কর। 

৯. বিভিন্ন ধরণের আত্মীয়তার সম্পর্ক সম্পর্কে উদাহরণসহ আলোচনা কর। অথবা , আত্মীয়তার বিভিন্ন ধরণগুলি আলোচনা কর। অথবা , আত্মীয়তার প্রকারভেদ আলোচনা কর। 

১০. আত্মীয়তার আচরণবিধিগুলি আলোচনা কর। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১১. গোত্র কাকে বলে ? বিভিন্ন ধরণের গোত্র সম্পর্কে আলোচনা কর। অথবা গোত্রের প্রকারভেদ আলোচনা কর। 

১২. সামাজিক স্তরবিন্যাসের সংজ্ঞা দাও। সামাজিক স্তরবিন্যাসের বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

১৩. সামাজিক স্তরবিন্যাসের বিভিন্ন ধরণগুলি আলোচনা কর। 

১৪. জাতির সংজ্ঞা দাও। জাতি ব্যবস্থার বিভিন্ন বৈশিষ্টগুলি আলোচনা কর। 

১৫. জাতি ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণগুলি আলোচনা কর। 

১৬. জাতি ও শ্রেণির মধ্যে পার্থক্যগুলি আলোচনা কর। 

১৭. লিঙ্গ বৈষম্য বলতে কী বোঝ ? লিঙ্গ বৈষম্যের কারণগুলি আলোচনা কর। 

১৮. লিঙ্গ বৈষম্যের বিভিন্ন ধরণগুলি আলোচনা কর। অথবা , লিঙ্গ বৈষম্যের প্রকারভেদ আলোচনা কর। 
১৯. সামাজিক স্তরবিন্যাসের একটি প্রকারভেদ হিসাবে লিঙ্গ বৈষম্যকে আলোচনা কর। 

২০. সামাজিক সচলতা কাকে বলে ? সামাজিক সচলতার বিভিন্ন ধরণ / প্রকারভেদ - সম্পর্কে আলোচনা কর। 

২১. সামাজিক পরিবর্তন কাকে বলে ? সামাজিক পরিবর্তনের বিভিন্ন উপাদানগুলি আলোচনা কর। 
অথবা , সামাজিক পরিবর্তনের কারণগুলি আলোচনা কর।    

Gour Banga University Sociology 2nd Semester Suggestion for Pass - Course. 

গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব 2nd Semester Suggestion .


এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

ভারতে নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তনের কারণগুলি আলোচনা কর। 

ভারতে নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তন - বিষয়টি আলোচনা কর। 

স্বাধীনতার পরবর্তীকালে নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তনের বিষয়টি আলোচনা কর। 




নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তন :- 


ভারতে আধুনিক যুগের সূত্রপাত হওয়ার পর থেকে বিশেষ করে স্বাধীনতালাভের পর নারীদের মর্যাদাগত অবস্থানের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। সমাজ , রাজনীতি , কর্মক্ষেত্র , অর্থনৈতিক অধিকার , সম্পত্তির উত্তরাধিকার - ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই নারীদের সমানাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তনের সঙ্গে জড়িত উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হল - 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১. বিভিন্ন আইন :- 
ভারতের বিভিন্ন সাংবিধানিক আইন নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তনের বিষয়টিকে ত্বরান্বিত করে। এই সকল আইনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি আইন হল - Hindu Marriage Act 1955 , Hindu Succession Act 1956 , Special Marriage Act 1954 , Dowry Prohibition Act 1961 , Equal Remuneration Act 1976  । এইসকল আইনগুলি ভারতে প্রচলিত নারী অধিকারহীনতাকে অস্বীকার করে সর্বক্ষেত্রে নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে। 

২. সাংবিধানিক ব্যবস্থা :- 
ভারতীয় সংবিধানে কিছু বিশেষ মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। এই সকল অধিকার প্রদানের সময় নারী - পুরুষের মধ্যে ভেদ করা হয়নি। এইসকল অধিকারগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৪ - ১৮ নং ধারায় সাম্যের অধিকার , ১৯ -২২ নং ধারায় স্বাধীনতার অধিকার , ২৩ - ২৪ নং ধারায় শোষণের বিরুদ্ধে অধিকার , ২৫ - ২৮ নং ধারায় ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার , ৩২ ও ২২৬ নং ধারায় সাংবিধানিক প্রতিবিধানের অধিকার - ইত্যাদি। এই সকল অধিকারগুলি নারীদের পুরুষের সঙ্গে সামাজিক অধিকারের দিক দিয়ে এক আসনে প্রতিষ্ঠা করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৩. শিক্ষার প্রসার :- 
স্বাধীনতা প্রাপ্তির পূর্বে হাজার হাজার বছর ধরে ভারতে নারীশিক্ষা ছিল অবহেলিত। কিন্তু স্বাধীনতালাভের পর ভারতে নারীশিক্ষার প্রসারের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিপূর্বে বিদ্যাসাগর , রামমোহন প্রমুখের প্রচেষ্টায় নারীশিক্ষার বিস্তারের সূচনা হয়। স্বাধীনতা লাভের পর ভারতে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বিভিন্ন কমিশন ও কিমিটি গঠন করা হলে , প্রতিটি কমিটি ও কমিশন নারীশিক্ষার বিস্তারের প্রতি জোর সওয়াল করে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা কমিশন , মুদালিয়ার কমিশন , কোঠারি কমিশন , জাতীয় শিক্ষানীতি - সবগুলিতেই নারীশিক্ষা বিস্তারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এরপর সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার , জাতীয় সাক্ষরতা মিশন ও সর্বশিক্ষা অভিযানের মাধ্যমে বালকদের সাথে সাথে বালিকাদের শিক্ষার বিষয়টিকেও সুনিশ্চিত করা হয়। 

৪. অর্থনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত ব্যবস্থা :- 
বিভিন্ন সাংবিধানিক ব্যবস্থা ও শিক্ষার বিস্তারের মধ্যে দিয়ে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করা হয়। এরপর নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যবস্থা গৃহীত হয়। এরমধ্যে দুটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রকল্প হল - স্বর্ণজয়ন্তী গ্রাম স্বরোজগার যোজনা - যার মাধ্যমে প্রায় ১৮ লক্ষ মহিলাকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হয়েছে ও ICDS প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২০ লক্ষ মহিলাকে স্বরোজগারি করে তোলা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার আইন , ফ্যাক্টরি আইন , সমান পারিশ্রমিকের আইন - ইত্যাদি আইনগুলি অর্থনৈতিক নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। 

৫. নারী কল্যানমুলক কর্মসূচি :- 
ভারতের বিভিন্ন পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলি নারী কল্যানমুলক কর্মসূচির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ষষ্ঠ , সপ্তম ও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় নারীদের সামাজিক কল্যাণের জন্য প্রচুর কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। নারীদের শিক্ষার বিস্তার , সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা , পারিবারিক দৈহিক ও মানসিক অত্যাচার বন্ধ করা , পুনর্বাসন কেন্দ্র গঠন , বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র গঠন , শর্ট স্টে হোম - ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা নারীদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে। 

৬. নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন :- 
ভারতীয় সংবিধানের ৭৩ তম সংশোধনীতে যে পঞ্চায়েত আইন গৃহীত হয় তাতে পঞ্চায়েতের প্রতিটি স্তরেই নারীদের জন্য এক - তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত করা হয়। এছাড়াও পৌরসভা গুলিতেও নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ করা হয়। নারীদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি নারীদের সামাজিক , অর্থনৈতিক - ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রেই অধিকার প্রতিষ্ঠা ও মর্যাদার বিবর্তনের বিষয়টিকে সুনিশ্চিত করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. নারীদের স্বাস্থ্য উন্নয়নমূলক কর্মসূচি :- 
পরিবার কল্যাণ কর্মসূচি , সার্বিক সাক্ষরতা ও রোগ প্রতিষেধক কর্মসূচি - এছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ক্ষেত্রে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে নারীদের স্বাস্থ্য বিষয়ে তত্ত্বাবধানের জন্য বহুসংখ্যক কর্মী নিয়োগ করা হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেওয়া , রোগ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান , বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে সচেতনতামূলক প্রচার , গর্ভকালীন ও মাতৃত্বকালীন অবস্থায় মা ও শিশুর বিশেষ যত্ন , টীকা ও প্রতিষেধক সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি - ইত্যাদি কর্মসূচির উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। 

৮. কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহন বৃদ্ধি :- 
আধুনিক ভারতে সরকারি ও বেসরকারি উভয়প্রকার কর্মক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। সরকারি আমলাতান্ত্রিক উচ্চপদগুলিতে নারীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করছে। শিক্ষা , বাণিজ্য সর্বক্ষেত্রেই নারীদের অংশগ্রহন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতের সাংবিধানিক ব্যবস্থা , শিক্ষার বিস্তার - ইত্যাদির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে নারীদের স্বাধীনতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণের ফলে সামগ্রিকভাবে সামাজিক ক্ষেত্রে নারীদের ইতিবাচক মর্যাদাগত বিবর্তন ঘটেছে।  

পরিশেষে বলা যায় , নারীদের মর্যাদাগত বিবর্তনের বিষয়টি সর্বদা প্রবহমান। রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক , সামাজিক - সর্বক্ষেত্রেই পুরুষের সাথে নারীদের সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া আজও চলমান।   

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো  
      
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

'' শুধু কবিতার জন্য '' - কবিতাটির নামকরণের স্বার্থকতা আলোচনা কর। 

'' শুধু কবিতার জন্য '' - কবিতার নামকরণ কতটা যুক্তিযুক্ত ও প্রাসঙ্গিক - তা আলোচনা কর। 




'' শুধু কবিতার জন্য '' কবিতার নামকরণের তাৎপর্য :-    


'' শুধু কবিতার জন্য '' কবিতাটি কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতা প্রেমের এক কালজয়ী সৃষ্টি। কবিতাটিতে কবি কবিতার প্রতি একজন কবির যে মানসিক প্রেষণা সৃষ্টি হয় - সে সম্পর্কে তিনি আলোচনা করেছেন। একজন কবি তাঁর কবিতার মধ্যে দিয়ে অমর হয়ে থাকেন সাধারণ মানুষের কাছে।  কিন্তু , ভারতীয় প্রেক্ষাপটে , বিশেষ করে বাংলায় সাহিত্যিক ও কবিরা তাদের সাহিত্য সৃষ্টি দ্বারা যে আর্থিক উপার্জন করেন তা অত্যন্ত সামান্য এবং উল্লেখযোগ্য নয়। তাহলে প্রশ্ন হল , এই আর্থিক ক্লেশযুক্ত জীবনে কবিরা তাঁদের প্রেষণা লাভ করেন কোথা থেকে ? ঠিক এই প্রশ্নের উত্তর দিতেই যেন কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় '' শুধু কবিতার জন্য '' কবিতাটি রচনা করেছেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

কবিতার একেবারে শুরুতেই কবি বলেছেন - ''শুধু কবিতার জন্য এই জন্ম,'' । এই উক্তির মধ্যে দিয়েই কবিতার মূল বিষয়বস্তু মানসপটে উদ্ভাসিত হয়। কবিতার প্রতি একজন কবির নিরলস শ্রম , প্রগাঢ় আন্তরিক শ্রদ্ধা মিশে থাকলেই একজন কবি বলতে পারেন যে শুধু কবিতার জন্যই তাঁর জন্ম। কবিতার প্রতি এই আন্তরিকতা বিশেষ কোনো স্বার্থে নয় , কিছু পাওয়ার আশায় নয় , শুধুমাত্র কবিতাকে ভালোবেসে কবি এ জীবন অতিবাহিত করতে চান। 

শুধু কবিতার জন্যই যেন কবির প্রতিটি জন্ম , শুধু কবিতার জন্যই যেন কবি অন্য কোনো এক জগৎ থেকে এই ভুবনে এসেছেন। প্রকৃতির সমস্ত বৈচিত্র , সমস্ত রূপ - রস - মাধুর্য , সমস্ত সৌন্দর্য - যেন শুধুমাত্র কবিতার জন্যই একজন কবির কাছে জীবন্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্রকৃতির এই রঙিন বৈচিত্রময় সৌন্দর্যের বর্ণনা একমাত্র কবিতার মাধ্যমেই বাঙময় করে তোলা সম্ভব। শুধুমাত্র কবিতার জন্যই যেন প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য। 

নারীর প্রতিটি রূপ এবং তার বৈচিত্র যেন কবিতার মধ্যেই বৈচিত্রময় হয়ে ওঠে। একজন কবি হৃদয়ে একজন নারীর প্রতি  গভীর ভাবাবেগ তার কবিতার মাধ্যমেই প্রকাশিত হয়। তাই কবি বলেছেন - '' শুধু কবিতার জন্য তুমি নারী,'' । নারীর নারীসত্তা যেন কবিতার মাধ্যমেই পূর্ণতা প্রাপ্ত হয়। ঠিক যেমন করে একজন প্রেমিক প্রেমিকার মুখশ্রী অবলোকন করার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকেন - কবির সাথে কবিতার সম্পর্ক যেন সেই নারীকে একঝলক দেখতে পাওয়ার বাঁধভাঙা উচ্ছাস।    

সমাজ জীবনের বিভিন্ন ওঠানামা , ঘাতপ্রতিঘাত , যুদ্ধ - রক্তপাত - সমস্ত কিছুর মধ্যে কবি যেন কবিতার অস্তিত্বের সন্ধান পেয়েছেন। কবি বলেছেন - ''  কবিতার জন্য এতো রক্তপাত, '' । বর্ণময় ও বৈচিত্রময় সমাজের ছন্দ ও কবিতার মধ্যে যেন সম্পর্কের সূত্র আবিষ্কার করেছেন কবি। সমাজ বয়ে চলেছে তার অনবরত বিবর্তনের ধারায়। অবিরাম চলতে থাকা এই সমাজের বিবর্তনের ধারা লক্ষ্য করে কবি উপলব্ধি করেছেন - '' শুধু কবিতার জন্য কিছু খেলা,'' । কবির মতে , সব কিছুই যেন চলছে কবিতার নিয়মে ; সবকিছুই যেন কিছু খেলা - শুধুই কবিতার জন্য। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

কবিতার প্রতি কবির মমত্ব এতটাই যে , শুধুমাত্র একটি জন্মের সংক্ষিপ্ত পরিসরে তিনি যেন তাঁর কবিতা প্রেমের সম্পূর্ণ উপভোগ করতে পারেন না। তাই তিনি বলেছেন - '' শুধু কবিতার জন্য, আরো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে লোভ হয় ''। কবি যেন অনন্তকাল বেঁচে থেকে কবিতা প্রেমে নিজেকে নিমজ্জিত রাখতে চান। 

পরিশেষে বলা যায় , নামকরণ প্রতিটি সাহিত্য সৃষ্টির একটি তাৎপর্যপূর্ণ অংশ। নামকরণের মধ্যে দিয়েই প্রতিটি সাহিত্যকীর্তির অন্তর্নিহিত মূলভাবনা ও মূল্যবোধ প্রকাশিত হয়। '' শুধু কবিতার জন্য '' কবিতার নামকরণে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় গভীরভাবে তার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। সুতরাং , কবিতাটির নামকরণ তাৎপর্যপূর্ণ ও কবিতার বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো        
     
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

' বঙ্গভাষা ' কবিতায় বাংলা ভাষার প্রতি কবি মধুসূদন দত্তের যে ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে তার পরিচয় দাও। 




বঙ্গভাষা কবিতায় বাংলা ভাষার প্রতি মাইকেল মধুসূদন দত্তর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ :- 

 
প্রেক্ষাপট :- 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে একজন যুগান্তকারী কবি। তাঁর মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যে পাশ্চাত্য আধুনিকতা প্রবেশ করে। পাশ্চাত্যের বহু সাহিত্য রীতির প্রবেশ ঘটে তাঁর মাধ্যমেই। 

মধুসূদন দত্তের জীবন বৈচিত্রময়। পাশ্চাত্য সাহিত্য , দর্শন - ইত্যাদির প্রতি প্রভাবিত হয়ে তিনি ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় প্রয়াস করেছিলেন। ইংরেজি ভাষাই হল সাহিত্যের ভাব প্রকাশের উপযুক্ত ভাষা -  এমনটা তার ধারণা হয়েছিল। ইংরেজি সাহিত্যে তাঁর রচিত একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল -  '' The Visions of the Past . '' 

কিন্তু এরপর কবি মধুসূদন অনুধাবন করেন প্রতিটি সাহিত্যিক , কবি নিজের ভাষাতে সাহিত্যকে যেভাবে সমৃদ্ধ করতে পারেন , যেভাবে নিজের বক্তব্যকে সৃজনশীলভাবে তুলে ধরতে পারেন - অপর কোনো  ভাষাতে সেটা সম্ভব নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

' বঙ্গভাষা ' কবিতায় বাংলা ভাষার প্রতি কবির ভালোবাসা :- 


বঙ্গভাষা কবিতাটি হল বাংলা ভাষার প্রথম সনেট। ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি প্রীতির মোহভঙ্গ হওয়ার পর কবি অনুধাবন করেন মাতৃভাষাতেই রয়েছে রত্নের খনি। বাংলা ভাষাকে তিনি রতনের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন - 
'' হে বঙ্গ ভান্ডারে তব বিবিধ রতন। ''

একটি খনি থেকে যেরকম মূল্যবান ও বিচিত্র রত্নরাজি লাভ করা যায় - কবির মতে , বাংলা ভাষা ও সাহিত্য তেমনি অজস্র ঐশ্বর্যশালী রত্ন। 

কবিতার এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে কবির অনুশোচনা। এই অনুশোচনার কারণ হল তিনি বাংলা ভাষা তুলনায় ইউরোপীয় ভাষাকে সাহিত্য সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম বলে মনে করেছিলেন এবং ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে বহু চর্চা করার পর তিনি অনুশোচনার অগ্নিতে অগ্নিদগ্ধ হন। কবিতায় তিনি বলেছেন -
''  কাটাইনু বহু দিন সুখ পরিহরি !
অনিদ্রায় , অনাহারে , সঁপি কায় , মনঃ , 
মজিনু বিফল তপে অবরেণ্য বরি ;-
কেলিনু শৈবালে , ভুলি কমল-কানন ! '' 

বঙ্গভাষা কবিতার মাধ্যমে বাংলা ভাষার প্রতি কবির নিজের উপলব্ধিকে কবি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ' হে বঙ্গ '  বলতে তিনি বাংলা ভাষাকেই বুঝিয়েছেন এবং বাংলা ভাষাকেই সম্বোধন করেছেন। 

কবিতার প্রতিটি চরণে মাতৃভাষার প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ফুটে উঠেছে। কবি বিদেশি ভাষাকে ' পরধন ' বলে সম্বোধন করেছেন এবং সেই ধন লাভ করাকে তিনি ভিক্ষাবৃত্তির সাথে তুলনা করেছেন। তাঁর ভাষায় - 
'' পর - ধন - লোভে মত্ত করিনু ভ্রমণ 
পরদেশে , ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।  '' 

মাতৃভাষায় কবিতা রচনার দৈবী প্রেরণাকে কবি মাতৃভাষার অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে কল্পনা করেছেন। তাঁর ভাষায় - 
'' স্বপ্নে তব কুললক্ষ্মী কয়ে দিলা পরে ,- 
ওরে বাছা , মাতৃকোষে রতনের রাজি , ''

সেই দৈববাণী অনুধাবন করে কবি উপলব্ধি করেন বাংলা ভাষাতেই রয়েছে শ্রেষ্ঠ সাহিত্য রচনার সকল উপাদান। রত্ন সদৃশ বাংলা ভাষার সাহায্যে সহজেই একজন কবি বা সাহিত্যিক তাঁর উপস্থাপনার সকল মাধুর্যের বর্ণনা করতে পারেন। মাতৃভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষাতেই কবি মনকে সাহিত্যের কলমে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব নয়। কবি নিজের উপলব্ধিকে দৈববাণীর রূপকে প্রকাশ করেছেন। এই উপলব্ধিতে কবি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি বাংলা ভাষাতেই পেয়েছেন প্রকৃত সুখ ; বাংলা ভাষার মধ্যেই  লুকিয়ে আছে প্রকৃত উপলব্ধি। কবির ভাষায় - 
'' পালিলাম আজ্ঞা সুখে ; পাইলাম কালে 
মাতৃ-ভাষা- রূপ খনি , পূর্ণ মণিজালে। ''

পরিশেষে বলা যায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত বঙ্গভাষা কবিতার মধ্যে দিয়ে বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর আকুল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা ফুটিয়ে তুলেছেন। বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব উপলব্ধি করে তিনি যেন ঘরে ফিরে এসেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Newer Posts
Older Posts

Followers

Pages

  • Home
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • CONTACT ME
  • About Me

Contact Form

Name

Email *

Message *

About me

Hallow viewers , myself Nandan Dutta [Subhankar Dutta], reside at Maheshpur,Malda.
I made this website for the students of B.A. courses under Gour Banga University. Here you can get suggestions of different subjects like HISTORY , SOCIOLOGY , POLITICAL SCIENCE & EDUCATION.
In future I will add MCQ sections of those subjects.


Categories

  • 1ST SEMESTER SUGGESTION (1)
  • 2 ND YEAR SUGGESTION (1)
  • 2ND SEMESTER (1)
  • 3RD SEMESTER (8)
  • BENGALI NOTES (21)
  • CU suggestion. (1)
  • EDUCATION NOTES (141)
  • ENGLISH COMPULSORY (16)
  • GBU Suggestion. (7)
  • HISTORY EUROPE & WORLD (46)
  • HISTORY NOTES (68)
  • POL SC NOTES (69)
  • SOCIOLOGY NOTES (72)
  • WBCS 2020 (1)

recent posts

Blog Archive

  • November 2025 (1)
  • August 2025 (4)
  • May 2025 (3)
  • April 2025 (20)
  • March 2025 (12)
  • February 2025 (8)
  • November 2024 (5)
  • October 2024 (2)
  • September 2024 (2)
  • June 2024 (2)
  • March 2024 (6)
  • February 2024 (4)
  • October 2023 (5)
  • May 2023 (5)
  • April 2023 (1)
  • December 2022 (1)
  • November 2022 (13)
  • September 2022 (2)
  • August 2022 (7)
  • July 2022 (29)
  • June 2022 (10)
  • May 2022 (25)
  • April 2022 (24)
  • March 2022 (16)
  • February 2022 (19)
  • January 2022 (21)
  • December 2021 (46)
  • November 2021 (5)
  • October 2021 (6)
  • September 2021 (5)
  • August 2021 (41)
  • July 2021 (43)
  • June 2021 (31)
  • May 2021 (7)
  • April 2021 (1)
  • July 2020 (1)
  • June 2020 (3)
  • April 2020 (1)
  • November 2019 (1)
  • July 2019 (1)
  • June 2019 (1)
  • May 2019 (1)
  • April 2019 (2)
  • January 2019 (1)

Pages

  • Home
  • 2nd SEM ভাষাতত্ত্ব :
  • বাংলা উপভাষা
  • দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব
  • ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলি আলোচনা করো।
  • হর্ষবর্ধনের কৃতিত্ব আলোচনা করো। তাকে কি উত্তর পথনাথ বলা যায় ?
  • ভারতীয় সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
  • উদারনীতিবাদ : সংক্ষিপ্ত ধারণা :-
  • চোল শাসনব্যবস্থা :-
  • গুপ্তযুগ সুবর্ণযুগ সম্পর্কিত আলোচনা।
  • ৬. উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলাভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট আল...
  • 1. Marxism
  • আধুনিক বাংলা ভাষা ও তার বৈশিষ্ট।
  • Discuss the career and achievements of Samudragupta .
  • ভাষাতত্ত্ব

Created with by ThemeXpose | Distributed by Blogger Templates