Pages

Powered by Blogger.
1ST SEMESTER SUGGESTION 2 ND YEAR SUGGESTION 2ND SEMESTER 3RD SEMESTER BENGALI NOTES CU suggestion. EDUCATION NOTES ENGLISH COMPULSORY GBU Suggestion. HISTORY EUROPE & WORLD HISTORY NOTES POL SC NOTES SOCIOLOGY NOTES WBCS 2020

NANDAN DUTTA

A new approach for exam notes .

মুক্ত শিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি আলোচনা কর। 




মুক্ত শিক্ষার সুবিধা :- 


১.মানব সম্পদ উন্নয়ন :- 
যেসকল শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়না তারা ,মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। এইভাবে তাদের মধ্যে উৎপাদনশীলতা তৈরী হয় ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ঘটে।  

২. শিক্ষায় সমসুযোগ সৃষ্টি :- 
অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ছুট শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়না ; বা , বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাও উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনা। কিন্তু মুক্ত শিক্ষায় এই সকল শ্রেণীর মানুষেরা শিক্ষার সুযোগ পায় এবং শিক্ষায় সমসুযোগের সৃষ্টি হয়।  

৩. আংশিক সময়য়ের শিক্ষা :- 
মুক্ত শিক্ষা হল আংশিক সময়ের শিক্ষা। শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত সময়ে পঠন - পাঠন করতে পারে , শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকাও ন্যূনতম। ফলে শিক্ষার্থী তার অন্যান্য কাজ  বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।   

৪. আর্থিক ব্যয় কম :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ , শিক্ষকের পারিশ্রমিক , পাঠ্যপুস্তক - ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিপুল খরচ হয়না। মুক্ত শিক্ষার খরচ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় স্বল্প। 

৫. বৃত্তিশিক্ষার সুবিধা :- 
বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য মুক্ত শিক্ষা বিশেষভাবে কার্যকরী। শিক্ষার্থী নিজ পছন্দের বৃত্তি অনুসারে যেকোনো বৃত্তিমূলক পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৬. শিক্ষার্থীর আত্মনির্ভর মানসিকতা তৈরী :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। পাঠক্রম নির্বাচন , পঠন - পাঠন , মূল্যায়ন - ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা ভোগ করে। তাই মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষার্থী আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগলাভ করে। 

৭. নমনীয় ভর্তি প্রক্রিয়া :- 
মুক্ত শিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা যে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয় - মুক্ত শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। 

৮. প্রযুক্তির ব্যবহার :- 
আধুনিক সময়কালে মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বহুল প্রচলন ঘটেছে। ফলে সব ধরণের শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সম্প্রচার , দূরদর্শন , ইন্টারনেট - ইত্যাদি মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। 

৯. শিক্ষার্থীর বয়সগত বাধানিষেধ নেই :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত মুক্ত শিক্ষা ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধানিষেধ নেই। শিক্ষার্থী যেকোনো বয়সে যে পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে অবশ্যই ন্যূনতম বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। 

১০. শিক্ষার্থীর সংখ্যাগত বাধানিষেধ নেই :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত থাকে। কিন্তু মুক্ত শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। যেকোনো সংখ্যক শিক্ষার্থীরা মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। 

১১. বৈচিত্রময় পাঠক্রম :- 
মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত নির্দিষ্ট পাঠক্রম থাকে। তবে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার পাঠক্রমের সঙ্গে মুক্ত শিক্ষার পাঠক্রমের কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মুক্ত শিক্ষার পাঠক্রম অনেক বেশি বৈচিত্রময় এবং শিক্ষার্থী নিজ চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো ধরণের পাঠক্রম নির্বাচন করতে পারে। 

১২. নমনীয় মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া :- 
মুক্ত শিক্ষায় মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। শিক্ষার্থী নিজ সুবিধামত একটি পাঠক্রমের বিভিন্ন অংশের মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করতে পারে। 


মুক্ত শিক্ষার অসুবিধা :- 


১. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির অনুপস্থিতি :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনোরূপ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়না। ফলে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিগুলির মাধ্যমে শিশুর যে বিভিন্ন ধরণের বিকাশ ঘটে ; মুক্ত শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। 

২. নির্দেশনা :-
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক ন্যূনতম নির্দেশনা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদেরকে এই নির্দেশনা অনুসারে নিজেকেই পঠন পাঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থী শিক্ষকের সান্নিধ্যলাভ থেকে বঞ্চিত হয়।   

৩. ফিডব্যাকের অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা যেহেতু নিজেই পঠন - পাঠন করে - সেহেতু মুক্ত শিক্ষায় সকল প্রকার ফিডব্যাক অনুপস্থিত। 

৪. মিথস্ক্রিয়ার অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া ঘটে - তা মুক্ত শিক্ষায় সম্ভব নয়। মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই জ্ঞানার্জন করে। 

৫. শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা কম :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত পাঠক্রমের শেষে শংসাপত্র প্রদান করা হয় এবং এর মান কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় কম নয়। কিন্তু , বিভিন্ন বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুক্ত শিক্ষার শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা কম। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৬. সমাজে গ্রহণযোগ্যতা কম :- 
রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে সরকারি কাজকর্মের জন্য বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কাজকর্মের জন্য মুক্ত শিক্ষার শংসাপত্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সমতুল্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে ও মানুষ ব্যক্তিগতভাবে মুক্ত শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় নিম্নমানের বলে মনে করেন। 

৭. শিক্ষকের ভূমিকা ন্যূনতম :- 
মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ন্যূনতম। মুক্ত শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করেন না। মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষকের কাজ হল পাঠক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত স্টাডি মেটেরিয়াল বা মডিউল প্রস্তুত করা। ফলে মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষক তাঁর জ্ঞান ও নির্দেশনা দ্বারা শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করতে পারেন না।  

৮. প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয় :- 
মুক্ত শিক্ষার গঠন ও পরিকাঠামো কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষাকে কেন্দ্র করেই রচিত হয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মুক্ত শিক্ষায় কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। 

৯. পরিকাঠামোগত সমস্যা :- 
মুক্ত শিক্ষার নিজস্ব কোনো বিদ্যালয় ভবন থাকেনা। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হয়। ফলে উভয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ঘটলে মুক্ত শিক্ষার পরিচালনায় সমস্যা দেখা যায়। 

১০. ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় স্টাডি মেটেরিয়ালের সাহায্যে শিক্ষার্থীকে নিজেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। ব্যবহারিক শিক্ষার বিষয়গুলি প্রতিঠানিক তত্ত্বাবধান ছাড়াই পরিচালিত হয়। ফলে ব্যবহারিক শিক্ষার বিষয়গুলি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের যথাযথ ধারণা জন্মায় না। 

১১. গণমাধ্যমের কুফল :- 
মুক্ত শিক্ষায় অনেকসময় শিক্ষার্থীদেরকে গণমাধ্যমের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলি সঠিক তথ্য পরিবেশন করেনা। ফলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সঞ্চালন ভুল পথে পরিচালিত হয়। 

১২. নিয়ন্ত্রণের সমস্যা :- 
মুক্ত শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজকর্ম , পাঠক্রম নির্মাণ , মূল্যায়ণ - ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

মুক্ত শিক্ষা কাকে বলে ? মুক্ত শিক্ষার বৈশিষ্টগুলি লেখ। 

মুক্ত শিক্ষার সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট। 




মুক্ত শিক্ষার ধারণা / সংজ্ঞা :- 


মুক্ত শিক্ষা হল প্রথা বহিৰ্ভূত শিক্ষার একটি রূপ। মুক্ত শিক্ষা হল এমন এক ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে , নিজেদের পছন্দমত সময়ে , নিজেদের চাহিদা ও সামর্থ্যের উপর ভিত্তি করে - শিক্ষা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। মুক্ত শিক্ষা ব্যাপকভাবে সকলের কাছে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে। 
মুক্ত শিক্ষা যেহেতু প্রথা বহিৰ্ভূত শিক্ষার একটি রূপ - তাই এটি নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নয় আবার অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণহীন নয়। 

মুক্ত শিক্ষার বৈশিষ্ট :- 


১. শিক্ষকের ভূমিকা :- 
মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ন্যূনতম। মুক্ত শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করেন না। মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষকের কাজ হল পাঠক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত স্টাডি মেটেরিয়াল বা মডিউল প্রস্তুত করা। 

২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান :- 
মুক্ত শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শ্রেণীকক্ষ থাকেনা। সাধারণতঃ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিকেই সাময়িকভাবে মুক্ত শিক্ষায় ব্যবহার করা হয়। 

৩. পাঠক্রম :- 
মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত নির্দিষ্ট পাঠক্রম থাকে। তবে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার পাঠক্রমের সঙ্গে মুক্ত শিক্ষার পাঠক্রমের কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। মুক্ত শিক্ষার পাঠক্রম অনেক বেশি বৈচিত্রময় এবং শিক্ষার্থী নিজ চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো ধরণের পাঠক্রম নির্বাচন করতে পারে। 

৪. মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া :- 
মুক্ত শিক্ষায় মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। শিক্ষার্থী নিজ সুবিধামত একটি পাঠক্রমের বিভিন্ন অংশের মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করতে পারে। 

৫. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির অনুপস্থিতি :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনোরূপ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়না। ফলে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিগুলির মাধ্যমে শিশুর যে বিভিন্ন ধরণের বিকাশ ঘটে ; মুক্ত শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো 

৬. নির্দেশনা :-
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক ন্যূনতম নির্দেশনা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদেরকে এই নির্দেশনা অনুসারে নিজেকেই পঠন পাঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হয়। 

৭. ফিডব্যাকের অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা যেহেতু নিজেই পঠন - পাঠন করে - সেহেতু মুক্ত শিক্ষায় সকল প্রকার ফিডব্যাক অনুপস্থিত। 

৮. মিথস্ক্রিয়ার অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া ঘটে - তা মুক্ত শিক্ষায় সম্ভব নয়। মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই জ্ঞানার্জন করে। 

৯. শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত পাঠক্রমের শেষে শংসাপত্র প্রদান করা হয় এবং এর মান কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় কম নয়। যেকোনো সরকারি চাকরি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্ত শিক্ষার শংসাপত্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মতই গ্রহণযোগ্য। 

১০. সমাজে গ্রহণযোগ্যতা :- 
রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে সরকারি কাজকর্মের জন্য বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কাজকর্মের জন্য মুক্ত শিক্ষার শংসাপত্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সমতুল্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে ও মানুষ ব্যক্তিগতভাবে মুক্ত শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় নিম্নমানের বলে মনে করেন। 

১১. প্রযুক্তির ব্যবহার :- 
আধুনিক সময়কালে মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বহুল প্রচলন ঘটেছে। ফলে সব ধরণের শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সম্প্রচার , দূরদর্শন , ইন্টারনেট - ইত্যাদি মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। 

১২. শিক্ষার্থীর বয়স :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত মুক্ত শিক্ষা ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধানিষেধ নেই। শিক্ষার্থী যেকোনো বয়সে যে পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে অবশ্যই ন্যূনতম বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো 

১৩. শিক্ষার্থীর সংখ্যা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত থাকে। কিন্তু মুক্ত শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। যেকোনো সংখ্যক শিক্ষার্থীরা মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। 

১৪. রাষ্ট্রের ভূমিকা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত বেশিরভাগ মুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হয়। মুক্ত শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ , স্টাডি মেটেরিয়াল নির্মাণ , মূল্যায়ন , শিক্ষার পাঠক্রম - ইত্যাদি সবকিছুই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীনে পরিচালিত হয়। অবশ্য মুক্ত শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগও সমানভাবে প্রচলিত আছে। 

১৫. আর্থিক বিষয় :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ , শিক্ষকের পারিশ্রমিক , পাঠ্যপুস্তক - ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিপুল খরচ হয়না। মুক্ত শিক্ষার খরচ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় স্বল্প। 

১৬. বৃত্তিমূলক শিক্ষা :- 
বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য মুক্ত শিক্ষা বিশেষভাবে কার্যকরী। শিক্ষার্থী নিজ পছন্দের বৃত্তি অনুসারে যেকোনো বৃত্তিমূলক পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। 

১৭. শিক্ষার্থী কেন্দ্রিকতা :- 
মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। পাঠক্রম নির্বাচন , পঠন - পাঠন , মূল্যায়ন - ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা ভোগ করে। তাই মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষার্থী আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগলাভ করে। 

১৮. নমনীয় ভর্তি প্রক্রিয়া :- 
মুক্ত শিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা যে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয় - মুক্ত শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। 

১৯. আংশিক সময়য়ের শিক্ষা :- 
মুক্ত শিক্ষা হল আংশিক সময়ের শিক্ষা। শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত সময়ে পঠন - পাঠন করতে পারে , শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকাও ন্যূনতম। ফলে শিক্ষার্থী তার অন্যান্য কাজ  বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।            

২০. শিক্ষায় সমসুযোগ সৃষ্টি :- 
অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ছুট শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়না ; বা , বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাও উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনা। কিন্তু মুক্ত শিক্ষায় এই সকল শ্রেণীর মানুষেরা শিক্ষার সুযোগ পায় এবং শিক্ষায় সমসুযোগের সৃষ্টি হয়।  

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

দূরশিক্ষার সুবিধা ও অসুবিধাগুলি আলোচনা কর। 




দূরশিক্ষার সুবিধা :- 


১.মানব সম্পদ উন্নয়ন :- 
যেসকল শিক্ষার্থীর পক্ষে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হয়না তারা দূর শিক্ষায় অংশগ্রহণ করে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। এইভাবে তাদের মধ্যে উৎপাদনশীলতা তৈরী হয় ও মানবসম্পদ উন্নয়ন ঘটে।  

২. শিক্ষায় সমসুযোগ সৃষ্টি :- 
অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ছুট শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়না ; বা , বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাও উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনা। কিন্তু দূর শিক্ষায় এই সকল শ্রেণীর মানুষেরা শিক্ষার সুযোগ পায় এবং শিক্ষায় সমসুযোগের সৃষ্টি হয়।  

৩. আংশিক সময়য়ের শিক্ষা :- 
দূর শিক্ষা হল আংশিক সময়ের শিক্ষা। শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত সময়ে পঠন - পাঠন করতে পারে , শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকারও কোনো প্রশ্ন নেই। ফলে শিক্ষার্থী তার অন্যান্য কাজ  বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।   

৪. আর্থিক ব্যয় কম :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ , শিক্ষকের পারিশ্রমিক , পাঠ্যপুস্তক - ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিপুল খরচ হয়না। দূর শিক্ষার খরচ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় স্বল্প। 

৫. বৃত্তিশিক্ষার সুবিধা :- 
বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য দূর শিক্ষা বিশেষভাবে কার্যকরী। শিক্ষার্থী নিজ পছন্দের বৃত্তি অনুসারে যেকোনো বৃত্তিমূলক পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। 

৬. শিক্ষার্থীর আত্মনির্ভর মানসিকতা তৈরী :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। পাঠক্রম নির্বাচন , পঠন - পাঠন , মূল্যায়ন - ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা ভোগ করে। তাই দূর শিক্ষায় শিক্ষার্থী আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগলাভ করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. নমনীয় ভর্তি প্রক্রিয়া :- 
দূর শিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা যে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয় - দূর শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। 

৮. প্রযুক্তির ব্যবহার :- 
আধুনিক সময়কালে দূর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বহুল প্রচলন ঘটেছে। ফলে সব ধরণের শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সম্প্রচার , দূরদর্শন , ইন্টারনেট - ইত্যাদি দূর শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। 

৯. শিক্ষার্থীর বয়সগত বাধানিষেধ নেই :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত দূর শিক্ষা ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধানিষেধ নেই। শিক্ষার্থী যেকোনো বয়সে যে পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে অবশ্যই ন্যূনতম বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। 

১০. শিক্ষার্থীর সংখ্যাগত বাধানিষেধ নেই :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত থাকে। কিন্তু দূর শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। যেকোনো সংখ্যক শিক্ষার্থীরা দূর শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। 

১১. বৈচিত্রময় পাঠক্রম :- 
দূর শিক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত নির্দিষ্ট পাঠক্রম থাকে। তবে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার পাঠক্রমের সঙ্গে দূরশিক্ষার পাঠক্রমের কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। দূর শিক্ষার পাঠক্রম অনেক বেশি বৈচিত্রময় এবং শিক্ষার্থী নিজ চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো ধরণের পাঠক্রম নির্বাচন করতে পারে। 

১২. নমনীয় মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া :- 
দূর শিক্ষায় মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। শিক্ষার্থী নিজ সুবিধামত একটি পাঠক্রমের বিভিন্ন অংশের মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করতে পারে। 


দূরশিক্ষার অসুবিধা :- 


১. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির অনুপস্থিতি :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনোরূপ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়না। ফলে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিগুলির মাধ্যমে শিশুর যে বিভিন্ন ধরণের বিকাশ ঘটে ; দূর শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। 

২. নির্দেশনা :-
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক ন্যূনতম নির্দেশনা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদেরকে এই নির্দেশনা অনুসারে নিজেকেই পঠন পাঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থী শিক্ষকের সান্নিধ্যলাভ থেকে বঞ্চিত হয়।   

৩. ফিডব্যাকের অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত দূর শিক্ষায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা যেহেতু নিজেই পঠন - পাঠন করে - সেহেতু দূর শিক্ষায় সকল প্রকার ফিডব্যাক অনুপস্থিত। 

৪. মিথস্ক্রিয়ার অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া ঘটে - তা দূর শিক্ষায় সম্ভব নয়। দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই জ্ঞানার্জন করে। 

৫. শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা কম :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত পাঠক্রমের শেষে শংসাপত্র প্রদান করা হয় এবং এর মান কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় কম নয়। কিন্তু বিভিন্ন বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে মুক্ত শিক্ষার শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা কম।  

৬. সমাজে গ্রহণযোগ্যতা কম :- 
রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে সরকারি কাজকর্মের জন্য বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কাজকর্মের জন্য দূর শিক্ষার শংসাপত্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সমতুল্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে ও মানুষ ব্যক্তিগতভাবে দূর শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় নিম্নমানের বলে মনে করেন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৭. শিক্ষকের ভূমিকা ন্যূনতম :- 
দূর শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ন্যূনতম। দূর শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করেন না। দূর শিক্ষায় শিক্ষকের কাজ হল পাঠক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত স্টাডি মেটেরিয়াল বা মডিউল প্রস্তুত করা। ফলে দূর শিক্ষা ব্যবস্থার শিক্ষক তাঁর জ্ঞান ও নির্দেশনা দ্বারা শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করতে পারেন না।  

৮. প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয় :- 
দূর শিক্ষার গঠন ও পরিকাঠামো কেবলমাত্র উচ্চশিক্ষাকে কেন্দ্র করেই রচিত হয়েছে। ফলে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য দূর শিক্ষায় কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। 

৯. পরিকাঠামোগত সমস্যা :- 
দূর শিক্ষার নিজস্ব কোনো বিদ্যালয় ভবন থাকেনা। অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষা প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হয়। ফলে উভয়ের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ঘটলে দূর শিক্ষার পরিচালনায় সমস্যা দেখা যায়। 

১০. ব্যবহারিক শিক্ষার অভাব :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় স্টাডি মেটেরিয়ালের সাহায্যে শিক্ষার্থীকে নিজেকেই শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়। ব্যবহারিক শিক্ষার বিষয়গুলি প্রতিঠানিক তত্ত্বাবধান ছাড়াই পরিচালিত হয়। ফলে ব্যবহারিক শিক্ষার বিষয়গুলি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের যথাযথ ধারণা জন্মায় না। 

১১. গণমাধ্যমের কুফল :- 
দূরশিক্ষায় অনেকসময় শিক্ষার্থীদেরকে গণমাধ্যমের সাহায্য গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলি সঠিক তথ্য পরিবেশন করেনা। ফলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সঞ্চালন ভুল পথে পরিচালিত হয়। 

১২. নিয়ন্ত্রণের সমস্যা :- 
দূরশিক্ষা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজকর্ম , পাঠক্রম নির্মাণ , মূল্যায়ণ - ইত্যাদি ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

দূর শিক্ষা কাকে বলে ? দূর শিক্ষার বৈশিষ্টগুলি লেখ। 




দূর শিক্ষার সংজ্ঞা / ধারণা :- 


দূর শিক্ষা হল প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার একটি রূপ। দূর শিক্ষাকে মূলতঃ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বিকল্প হিসাবে পরিচালিত করা হয়। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার কঠোরতা , শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান নির্ভরতা , মূল্যায়ন কেন্দ্রিকতা - ইত্যাদির বাইরে তুলনামূলক স্বাধীন পরিবেশে শিক্ষার্থী নিজ চাহিদা , সামর্থ্য , সময় অনুসারে শিক্ষার্থী যে ধরণের শিক্ষা গ্রহণ করে - তাকেই বলে দূর শিক্ষা। 
দূর শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত নয় আবার অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণবিহীন নয়। দূর শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল সকল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য তাদের সুবিধামত সময় , চাহিদা - ইত্যাদি অনুসারের উচ্চ শিক্ষার প্রসার ঘটানো। 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার '' Quantity , quality and relevance '' - এর সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে তুলনামূলক সমস্যামুক্ত একটি বিকল্প শিক্ষা ব্যবস্থা হল দূর শিক্ষা। 

দূর শিক্ষার বৈশিষ্ট :- 


১. শিক্ষকের ভূমিকা :- 
দূর শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা ন্যূনতম। দূর শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত শিক্ষক শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করেন না। দূর শিক্ষায় শিক্ষকের কাজ হল পাঠক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত স্টাডি মেটেরিয়াল বা মডিউল প্রস্তুত করা। 

২. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান :- 
দূর শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা শ্রেণীকক্ষ থাকেনা। সাধারণতঃ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিকেই সাময়িকভাবে দূর শিক্ষায় ব্যবহার করা হয়। 

৩. পাঠক্রম :- 
দূর শিক্ষার ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত নির্দিষ্ট পাঠক্রম থাকে। তবে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার পাঠক্রমের সঙ্গে দূরশিক্ষার পাঠক্রমের কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। দূর শিক্ষার পাঠক্রম অনেক বেশি বৈচিত্রময় এবং শিক্ষার্থী নিজ চাহিদা অনুযায়ী যেকোনো ধরণের পাঠক্রম নির্বাচন করতে পারে। 

৪. মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া :- 
দূর শিক্ষায় মূল্যায়ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। শিক্ষার্থী নিজ সুবিধামত একটি পাঠক্রমের বিভিন্ন অংশের মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করতে পারে। 

৫. সহপাঠক্রমিক কার্যাবলির অনুপস্থিতি :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনোরূপ সহপাঠক্রমিক কার্যাবলীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়না। ফলে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিগুলির মাধ্যমে শিশুর যে বিভিন্ন ধরণের বিকাশ ঘটে ; দূর শিক্ষায় তা সম্ভব নয়। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৬. নির্দেশনা :-
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক ন্যূনতম নির্দেশনা প্রদান করেন। শিক্ষার্থীদেরকে এই নির্দেশনা অনুসারে নিজেকেই পঠন পাঠন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে হয়। 

৭. ফিডব্যাকের অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত দূর শিক্ষায় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকেন। শিক্ষার্থীরা যেহেতু নিজেই পঠন - পাঠন করে - সেহেতু দূর শিক্ষায় সকল প্রকার ফিডব্যাক অনুপস্থিত। 

৮. মিথস্ক্রিয়ার অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে যে মিথস্ক্রিয়া ঘটে - তা দূর শিক্ষায় সম্ভব নয়। দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সাহায্য ছাড়াই জ্ঞানার্জন করে। 

৯. শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত পাঠক্রমের শেষে শংসাপত্র প্রদান করা হয় এবং এর মান কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় কম নয়। যেকোনো সরকারি চাকরি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে দূর শিক্ষার শংসাপত্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মতই গ্রহণযোগ্য। 

১০. সমাজে গ্রহণযোগ্যতা :- 
রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে সরকারি কাজকর্মের জন্য বা প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কাজকর্মের জন্য দূর শিক্ষার শংসাপত্র নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সমতুল্য হিসাবে গ্রহণযোগ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে ও মানুষ ব্যক্তিগতভাবে দূর শিক্ষাকে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় নিম্নমানের বলে মনে করেন। 

১১. প্রযুক্তির ব্যবহার :- 
আধুনিক সময়কালে দূর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির বহুল প্রচলন ঘটেছে। ফলে সব ধরণের শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের সম্প্রচার , দূরদর্শন , ইন্টারনেট - ইত্যাদি দূর শিক্ষার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হয়েছে। 

১২. শিক্ষার্থীর বয়স :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত দূর শিক্ষা ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাধানিষেধ নেই। শিক্ষার্থী যেকোনো বয়সে যে পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। তবে অবশ্যই ন্যূনতম বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১৩. শিক্ষার্থীর সংখ্যা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত থাকে। কিন্তু দূর শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। যেকোনো সংখ্যক শিক্ষার্থীরা দূর শিক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে। 

১৪. রাষ্ট্রের ভূমিকা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত বেশিরভাগ দূর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হয়। দূর শিক্ষার লক্ষ্য নির্ধারণ , স্টাডি মেটেরিয়াল নির্মাণ , মূল্যায়ন , শিক্ষার পাঠক্রম - ইত্যাদি সবকিছুই রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীনে পরিচালিত হয়। অবশ্য দূর শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগও সমানভাবে প্রচলিত আছে। 

১৫. আর্থিক বিষয় :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ , শিক্ষকের পারিশ্রমিক , পাঠ্যপুস্তক - ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিপুল খরচ হয়না। দূর শিক্ষার খরচ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় স্বল্প। 

১৬. বৃত্তিমূলক শিক্ষা :- 
বিভিন্ন বৃত্তিমূলক শিক্ষার জন্য দূর শিক্ষা বিশেষভাবে কার্যকরী। শিক্ষার্থী নিজ পছন্দের বৃত্তি অনুসারে যেকোনো বৃত্তিমূলক পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে। 

১৭. শিক্ষার্থী কেন্দ্রিকতা :- 
দূর শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। পাঠক্রম নির্বাচন , পঠন - পাঠন , মূল্যায়ন - ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা ভোগ করে। তাই দূর শিক্ষায় শিক্ষার্থী আত্মনির্ভর হওয়ার সুযোগলাভ করে। 

১৮. নমনীয় ভর্তি প্রক্রিয়া :- 
দূর শিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় অনেক বেশি নমনীয়। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাক্ষেত্রে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা যে কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয় - দূর শিক্ষায় সে সমস্যা নেই। 

১৯. আংশিক সময়য়ের শিক্ষা :- 
দূর শিক্ষা হল আংশিক সময়ের শিক্ষা। শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত সময়ে পঠন - পাঠন করতে পারে , শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থাকারও কোনো প্রশ্ন নেই। ফলে শিক্ষার্থী তার অন্যান্য কাজ  বজায় রেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।            

২০. শিক্ষায় সমসুযোগ সৃষ্টি :- 
অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যালয়ছুট শিক্ষার্থীরা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়না ; বা , বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষেরাও উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনা। কিন্তু দূর শিক্ষায় এই সকল শ্রেণীর মানুষেরা শিক্ষার সুযোগ পায় এবং শিক্ষায় সমসুযোগের সৃষ্টি হয়।  

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো      
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার সীমাবদ্ধতা। 

নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার ত্রুটি। 

নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার অসুবিধা।  




নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার সীমাবদ্ধতা :- 


আধুনিক সময়ে সারা বিশ্ব জুড়ে নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার উপযোগিতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। শিশুর সার্বিক বিকাশের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা শিশুকে সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানগুলির সঙ্গে পরিচয় ঘটায় , সু - অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে , সামাজিকীকরণে ও অভিযোজনে সহায়তা করে। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা সমালোচনার উর্দ্ধে নয়। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতাগুলি আলোচনা করা হল। 

১. শিক্ষক নির্ভরশীলতা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে শিক্ষকের উপর নির্ভরশীল। শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষাস্তরে পাঠ্য বিষয়গুলি শিক্ষার্থীর সামনে উপস্থাপন করেন। এক্ষেত্রে শিক্ষকের নির্দেশিত পথে শিক্ষার্থীকে চলতে হয়। জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সেরূপ স্বাধীনতা থাকেনা। 

২. আরোপিত পাঠক্রম :-
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় পাঠক্রম সম্পূর্ণরূপে আরোপিত। এখানে শিক্ষার্থীর ইচ্ছা - অনিচ্ছার কোনো স্থান নেই। শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত পাঠক্রম নির্বাচন করতে পারে ঠিকই ; কিন্তু তা কেবলমাত্র উচ্চ - শিক্ষার স্তরে। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় পূর্বনির্দিষ্ট পাঠক্রমে অংশগ্রহণ করতে শিক্ষার্থীরা বাধ্য থাকে। 

৩. বিদ্যালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ। বৃহত্তর সমাজ ও আন্তর্জাতিক জীবনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে কেবলমাত্র পাঠক্রম ও পাঠ্য পুস্তকের মাধ্যমে। এই ধরণের ব্যবস্থা শিক্ষার্থীর স্বাধীনভাবে জ্ঞানার্জনের পথে বাধা সৃষ্টি করে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৪. পরীক্ষাকেন্দ্রিক :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও মান যাঁচাই হয় কেবলমাত্র পরীক্ষার মাধ্যমে। শিক্ষার্থীর মধ্যে যে বহুবিধ প্রতিভা লুকিয়ে থাকে তার যথাযথ মূল্যায়ন পরীক্ষার মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল না করতে পারলে তাকে আদর্শ শিক্ষার্থী হিসাবে গণ্য করা হয়না। 

৫. আর্থিক বিষয় :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা পরিচালনায় অর্থনৈতিক দিকটি একটি অন্যতম সমস্যা। বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও পরিচালনা , পরিকাঠামো উন্নয়ন , যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ ও পারিশ্রমিক প্রদান , মূল্যায়ন ও শিক্ষা নির্দেশনা পরিচালনা - ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ প্রয়োজন হয়। 

৬. বৃত্তি শিক্ষার অভাব :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশ। শিক্ষার্থীর বৃত্তিমূলক বিকাশ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার একটি অন্যতম লক্ষ্য হলেও - যে পরিমান বৃত্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয় তা বৃত্তি জগতে সাফল্যলাভের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। 

৭. বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বিরুদ্ধে একটি অন্যতম প্রধান অভিযোগ হল যে , নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বাস্তব জীবনের সঙ্গে সঙ্গতিবিহীন। শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যে ধরণের শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মক্ষেত্রে ও উৎপাদনশীলতার ক্ষেত্রে তা শিক্ষার্থীর সহায়ক হয়ে উঠতে পারেনা। 

৮. বৈচিত্রবিহীন :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় সহপাঠক্রমের ব্যবস্থা থাকলেও কর্যক্ষেত্রে পাঠক্রমকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ফলে শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে সহপাঠক্রমের সেরূপ ভূমিকা থাকেনা। অন্যদিকে গতানুগতিক ও বৈচিত্রহীন পাঠক্রম শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের প্রতি নিরুৎসাহিত করে তোলে। 

৯. শিক্ষার্থীর মেধাগত সমস্যা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় একটি শ্রেণীকক্ষে বিভিন্ন মেধার বহু শিক্ষার্থী থাকে। ফলে পাঠ্য বিষয় , শিক্ষণ নির্দেশনা - ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রে সকল শিক্ষার্থী একই সঙ্গে একাত্ম হতে পারেনা। কেউ এগিয়ে যায় , আবার কেউবা পিছিয়ে থাকে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১০. পরীক্ষণ পদ্ধতি মনোবিজ্ঞানসম্মত নয় :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বহুক্ষেত্রেই পরীক্ষা পদ্ধতি মনোবিজ্ঞানসম্মত হয়না। পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত জ্ঞানকে যাঁচাই করা। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার পরীক্ষা পদ্ধতি আজ তথ্য উপস্থাপনের একটি প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। 

১১. সামঞ্জস্যের সমস্যা :- 
শিক্ষার্থী শুধুমাত্র পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলিকে পাঠ্য পুস্তকের মাধ্যমে আয়ত্ত্ব করতে পারে। কিন্তু সেই বিষয়ে সাম্প্রতিক চিন্তাভাবনা , গবেষণা , বিষয়ের সাম্প্রতিক গতি - প্রকৃতি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারেনা। 

১২. কৃত্রিম পরিবেশ :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা পরিচালিত হয় কৃত্রিম পরিবেশে। এখানে শিক্ষর্থীকে কৃত্রিমভাবে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হয় এবং পঠন পাঠনে অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে বহু শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রক্রিয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেনা এবং ধীরে ধীরে তারা শিক্ষার ব্যাপারে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে। 

১৩. সংকীর্ণতা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা প্রকৃতিগতভাবে সংকীর্ণ। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যে শুধুমাত্র শিক্ষক ও পাঠক্রমের উপর নির্ভর করে জ্ঞানার্জন করে। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় অভিজ্ঞতা , জ্ঞানের বাস্তবিক প্রয়োগ ইত্যাদির পরিবর্তে পুঁথিগত বিদ্যাকে অত্যধিক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। 

১৪. কঠোরতা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার প্রতিটি উপাদান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। শৃঙ্খলাভঙ্গের কোনো অবকাশ এখানে নেই। বিদ্যালয়ে উপস্থিতি , মূল্যায়ন , পঠন পাঠনে অংশগ্রহণ - ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই কঠোরতা লক্ষ্য করা যায়। ফলে অনেক সময় এই যান্ত্রিক কঠোর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা হাঁফিয়ে পড়ে। 

১৫. পরিবহণের সমস্যা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র অর্থাৎ বিদ্যালয়গুলি যদি শিক্ষার্থীর বাসস্থান থেকে বহুদূরে থাকে তাহলে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমস্যায় পড়তে হয়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা আরো বহুগুন বেড়ে যায়। 

পরিশেষে বলা যায় , নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার বহুবিধ সমস্যা থাকলেও এর বিকল্প কোনো ব্যবস্থার উদ্ভাবন করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। কাজেই উপরোক্ত সমস্যাগুলির প্রতি কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা অনেকটাই ত্রুটিমুক্ত হয়ে উঠতে পারে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

প্রথাগত শিক্ষা ও প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার পার্থক্য। 

নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা ও প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার পার্থক্য। 




প্রথাগত শিক্ষা বা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা ও প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার পার্থক্য :- 


১. নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত। পাঠক্রম , পঠন - পাঠন , মূল্যায়ন - ইত্যাদি সবক্ষেত্রেই কঠোর নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হলেও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় পাঠক্রম নির্বাচন , পঠন - পাঠনে অংশগ্রহণ , মূল্যায়ন - ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থী যথেষ্ট স্বাধীনতা লাভ করে। 

২. শিক্ষকের ভূমিকা ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষা বহুলাংশেই যোগ্য শিক্ষক দ্বারা পরিচালিত হয়। শ্রেণীকক্ষে পঠন - পাঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী সম্পূর্ণরূপে শিক্ষকের উপর নির্ভরশীল থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষক পাঠক্রম ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা নগন্য। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিজেকেই শিখতে হয়। 

৩. পাঠক্রমের ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষায় পাঠক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সেরূপ স্বাধীনতা থাকেনা। শিক্ষার্থীকে পূর্বপরিকল্পিত পাঠক্রম যান্ত্রিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় পাঠক্রম নির্বাচনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী যথেষ্ট স্বাধীনতা ভোগ করে। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় বৈচিত্রময় বিভিন্ন পাঠক্রমের মধ্যে থেকে শিক্ষার্থী নিজের পছন্দমত পাঠক্রম নির্বাচন করতে পারে। 

৪. মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষায় মূল্যায়ন শৃঙ্খলাবদ্ধ ও কঠোরভাবে পরিচালিত হয়। পূর্বনির্ধারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে বাধ্য থাকে। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় শিক্ষার্থী নিজের সুবিধামত পাঠক্রমকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৫. বয়সসীমা ক্ষেত্রে পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষার বয়সসীমা পূর্ব হতে নির্দিষ্ট থাকে। একটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য নির্দিষ্ট বয়সের প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় বয়সসীমার ক্ষেত্রে কোনো বাধানিষেধ থাকেনা। শিক্ষার্থী যেকোনো বয়সে শিক্ষা প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে। 

৬. প্রতিষ্ঠানগত পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিদ্যালয় ভবন থাকে। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার জন্য স্বতন্ত্র কোনো বিদ্যালয় ভবন থাকেনা ; সাধারণতঃ প্রথাগত শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতেই প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা পরিচালিত হয়। 

৭. আর্থিক বিষয়ের পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। শিক্ষক , বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন , পাঠ্যপুস্তক - ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রথাগত শিক্ষায় যথেষ্ট অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল। এক্ষেত্রে আংশিক সময়ের শিক্ষক দিয়েই শিক্ষা প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় , বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য কোনো অর্থ ব্যয় হয় না। ফলে প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় খরচ যথেষ্টই কম। 

৮. ছাত্রসংখ্যার পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষায় ছাত্রসংখ্যা সীমিত। প্রতিটি প্রথাগত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় যেকোনো সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারে। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৯. গঠনগত পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে সংগঠিত। এক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাস্তর পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা প্রথাগত শিক্ষার মত ততটা সংগঠিত নয় এবং এক্ষেত্রে শিক্ষাস্তরগুলির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক থাকেনা বললেই চলে। 

১০. শিক্ষণ পদ্ধতিতে পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষণ পরিচালিত হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ভিত্তিতে। শিক্ষার্থী সরাসরি শিক্ষকের নিকট বিষয়বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পেতে পারেন। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রত্যক্ষ সম্পর্ক সম্ভব নয়। 

১১. সংস্থাগত পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষার প্রধান সংস্থা হল বিদ্যালয়। অন্যদিকে প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার দুটি সংস্থা হল - দূরশিক্ষা ও মুক্তশিক্ষা। 

১২. উদ্দেশ্যগত পার্থক্য :- 
প্রথাগত শিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশ। এই উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে প্রথাগত শিক্ষা পরিচালিত হয়। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল বিদ্যালয়ছুট শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ প্রধান , উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি - ইত্যাদি। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা কাকে বলে ? প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার বৈশিষ্টগুলি লেখ। 




প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা :-

বিংশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার ধারণাটি গড়ে উঠেছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নিয়ন্ত্রিত বা প্রথাগত শিক্ষার সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটিয়ে সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাকে উন্মুক্ত করে তোলা। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রিত ও কঠোরভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ নয় আবার অনিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণমুক্ত নয়। শিক্ষার চারটি প্রধান উপাদান - শিক্ষার্থী , শিক্ষক , পাঠক্রম ও বিদ্যালয় - সবগুলিই প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার অংশ কিন্তু নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সঙ্গে তার কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। 

প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার বৈশিষ্ট :- 


১. নমনীয়তা :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার সকল উপাদান যথা - পাঠক্রম , পঠন - পাঠন , মূল্যায়ন ও পরীক্ষা , শ্রেণীকক্ষে উপস্থিতি - ইত্যাদি সবকিছুই প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় বর্তমান থাকলেও নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার তুলনায় তা অনেকাংশে নমনীয়। যে সকল শিক্ষর্থী নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার কঠোরতার সঙ্গে স্বচ্ছন্দবোধ করতে পারেনা , তারা প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় উপকৃত হতে পারে। 

২. নির্দিষ্ট সময়সীমা না থাকা :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা থাকেনা। এখানে শিক্ষার্থী নিজের সুবিধামত যেকোনো সময়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া ও পঠন - পাঠনে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। 

৩. নির্দিষ্ট বয়সসীমা না থাকা :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় পঠন - পাঠনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা থাকেনা। শিক্ষার্থীরা যেকোনো বয়সে পঠন পাঠনে অংশগ্রহণ করতে পারে। ফলে  যেসকল শিক্ষার্থী কোনো কারণে নির্দিষ্ট বয়সে নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেনি তাদের জন্য প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা বিশেষভাবে কার্যকর।    

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

৪. জীবনব্যাপী শিক্ষা :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা সারা জীবনের যেকোনো সময় গ্রহণ করা যেতে পারে ; তাই প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা হল জীবনব্যাপী শিক্ষা। শিক্ষার্থী এখানে জীবনের যেকোনো বয়সে নিজের প্রয়োজনমত শিক্ষালাভ করতে পারে। 

৫. শিক্ষকের ভূমিকা :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মত নয়। শিক্ষক এক্ষেত্রে শ্রেণীকক্ষে উপস্থিত থেকে শিক্ষা সঞ্চালন করেন না। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় শিক্ষক নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ''স্টাডি মেটেরিয়াল '' ও বিভিন্ন মডিউল প্রস্তুত করেন। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই সেইসকল ''স্টাডি মেটেরিয়াল '' ও বিভিন্ন মডিউল থেকে শিক্ষালাভ করতে পারে। 

৬. নির্দিষ্ট পাঠক্রম :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মতই নির্দিষ্ট পাঠক্রম থাকে। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার মতই এইসকল পাঠক্রম তৈরী হয়  শিক্ষার্থীর বিভিন্ন চাহিদা ও বিকাশের কথা মাথায় রেখে। 

৭. বিভিন্ন রূপ :- 
প্রথা বহিৰ্ভূত শিক্ষার দুটি প্রধান রূপ হল - দূর শিক্ষা ও মুক্ত শিক্ষা। দূর শিক্ষায় শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন স্টাডি মেটেরিয়াল সংগ্রহ করে পড়াশোনা করে। অন্যদিকে মুক্ত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে সপ্তাহে একদিন বা দুইদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয় এবং এক্ষেত্রেও স্টাডি মেটেরিয়ালের মাধ্যমেই পঠন - পাঠন পরিচালিত হয়। 

৮. স্বয়ম শিখন :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় শিক্ষার্থীকে স্বয়ম শিখনের নীতি গ্রহণ করতে হয়। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় পঠন - পাঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের সাহায্য পাওয়া যায়না ; শিক্ষার্থীকে নিজেকেই শিখতে হয়।

৯. আর্থিক বিষয় :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার সঙ্গে আর্থিক বিষয়টি জড়িত আছে। তবে , প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার খরচ যথেষ্ট কম। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় নিজস্ব বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করতে হয়না , প্রচুর পরিমানে পাঠ্যপুস্তকের প্রয়োজন হয়না , শিক্ষকদের বিপুল পরিমান বেতনের সমস্যা নেই ও অন্যান্য বিভিন্ন ক্ষেত্রেও খরচ যথেষ্ট কম। 

১০. পাঠ্যপুস্তক :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তে স্টাডি মেটেরিয়াল ও মডিউল নির্মাণ করা হয়। এগুলি যোগ্য শিক্ষকদের দ্বারা নির্মিত হয়। ফলে প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার স্টাডি মেটেরিয়াল ও মডিউল গুলির গুণগত মান সম্পর্কে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকেনা। 

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো

১১. বৈচিত্রময় পাঠক্রম :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় বৈচিত্রময় পাঠক্রমের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এখানে শিক্ষার্থী বহুবিধ ও বহুমুখী পাঠক্রমের মধ্যে থেকে নিজের প্রয়োজন ও চাহিদামত পাঠক্রম বেছে নিতে পারে। 

১২. প্রযুক্তির ব্যবহার :- 
বর্তমানে প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যাপক প্রচলন শুরু হয়েছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে শিক্ষার্থীর নিকট পাঠ্য বিষয় সহজ ও প্রাঞ্জল হয়ে উঠেছে। 

১৩. শিক্ষার সুযোগ :- 
নিয়ন্ত্রিত শিক্ষায় আসন সংখ্যা থাকে সীমিত। ফলে উচ্চশিক্ষায় বহু শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায়না। কিন্তু প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় এই সমস্যাটি নেই। দূরশিক্ষা ও মুক্তশিক্ষায় যেকোনো সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে। 

১৪. সকলের জন্য শিক্ষা :- 
এককথায় প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষা সকলের জন্য। প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় যেকোনো বয়সের , যেকোনো মেধার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারে। বয়স , দূরত্ব , আর্থিক অবস্থা , পেশাগত দিক - ইত্যাদি কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। 

১৫. মানব সম্পদ উন্নয়ন :- 
প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষায় মানব সম্পদের উন্নতি ঘটে। নিয়ন্ত্রিত শিক্ষার নিয়মের বেড়াজালে যেসকল শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় , তারা সহজেই প্রথাবহিৰ্ভূত শিক্ষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে মানব সম্পদের উন্নতি ঘটায় এবং তাদের মধ্যে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।           

এই ওয়েবসাইটের সমস্ত প্রশ্নোত্তরের তালিকা / সূচীপত্রের জন্য এখানে CLICK করো  
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Newer Posts
Older Posts

Followers

Pages

  • Home
  • Privacy Policy
  • Disclaimer
  • CONTACT ME
  • About Me

Contact Form

Name

Email *

Message *

About me

Hallow viewers , myself Nandan Dutta [Subhankar Dutta], reside at Maheshpur,Malda.
I made this website for the students of B.A. courses under Gour Banga University. Here you can get suggestions of different subjects like HISTORY , SOCIOLOGY , POLITICAL SCIENCE & EDUCATION.
In future I will add MCQ sections of those subjects.


Categories

  • 1ST SEMESTER SUGGESTION (1)
  • 2 ND YEAR SUGGESTION (1)
  • 2ND SEMESTER (1)
  • 3RD SEMESTER (8)
  • BENGALI NOTES (21)
  • CU suggestion. (1)
  • EDUCATION NOTES (142)
  • ENGLISH COMPULSORY (16)
  • GBU Suggestion. (7)
  • HISTORY EUROPE & WORLD (46)
  • HISTORY NOTES (68)
  • POL SC NOTES (69)
  • SOCIOLOGY NOTES (72)
  • WBCS 2020 (1)

recent posts

Blog Archive

  • August 2026 (1)
  • November 2025 (1)
  • August 2025 (4)
  • May 2025 (3)
  • April 2025 (20)
  • March 2025 (12)
  • February 2025 (8)
  • November 2024 (5)
  • October 2024 (2)
  • September 2024 (2)
  • June 2024 (2)
  • March 2024 (6)
  • February 2024 (4)
  • October 2023 (5)
  • May 2023 (5)
  • April 2023 (1)
  • December 2022 (1)
  • November 2022 (13)
  • September 2022 (2)
  • August 2022 (7)
  • July 2022 (29)
  • June 2022 (10)
  • May 2022 (25)
  • April 2022 (24)
  • March 2022 (16)
  • February 2022 (19)
  • January 2022 (21)
  • December 2021 (46)
  • November 2021 (5)
  • October 2021 (6)
  • September 2021 (5)
  • August 2021 (41)
  • July 2021 (43)
  • June 2021 (31)
  • May 2021 (7)
  • April 2021 (1)
  • July 2020 (1)
  • June 2020 (3)
  • April 2020 (1)
  • November 2019 (1)
  • July 2019 (1)
  • June 2019 (1)
  • May 2019 (1)
  • April 2019 (2)
  • January 2019 (1)

Pages

  • Home
  • 2nd SEM ভাষাতত্ত্ব :
  • বাংলা উপভাষা
  • দ্বিতীয় পুলকেশীর কৃতিত্ব
  • ভারতীয় সংবিধানে বর্ণিত সাম্যের অধিকারগুলি আলোচনা করো।
  • হর্ষবর্ধনের কৃতিত্ব আলোচনা করো। তাকে কি উত্তর পথনাথ বলা যায় ?
  • ভারতীয় সংবিধানের প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্য :-
  • উদারনীতিবাদ : সংক্ষিপ্ত ধারণা :-
  • চোল শাসনব্যবস্থা :-
  • গুপ্তযুগ সুবর্ণযুগ সম্পর্কিত আলোচনা।
  • ৬. উদাহরণসহ মধ্যযুগের বাংলাভাষার কয়েকটি বৈশিষ্ট আল...
  • 1. Marxism
  • আধুনিক বাংলা ভাষা ও তার বৈশিষ্ট।
  • Discuss the career and achievements of Samudragupta .
  • ভাষাতত্ত্ব

Created with by ThemeXpose | Distributed by Blogger Templates